


দশটা বাজতে দশে গাড়ির চাকা গড়াল; সকালের অরণ্যের আলোছায়ার জাফরি কাটা পিচের রাস্তা ধরে বাঁকের পর বাঁক ঘুরে দশটা দশে নিস্তব্ধ পবিত্রতা মাখা গিরিগঙ্গা মন্দিরের পাশে এসে থামল গাড়ি। এমন শান্ত নির্জনতার মাঝে ফার বনে ঘেরা কালো পাথরের ছোট্ট মন্দিরটা বুড়োর মতো হাফ নাস্তিককেও আস্তিক করে তুলল। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী পাণ্ডবেরা প্রতিষ্ঠা করেন এই মন্দির। ওঁদের জন্য মা গঙ্গা এই গিরিতে আবির্ভূতা হন, তাই গিরিগঙ্গা। বুড়িকে রোদ্দুর পোয়াতে বসিয়ে বুড়ো চলল মন্দির দর্শনে। জুতো খুলে ঠান্ডা পাথরের স্ল্যাবে পা রেখে বুড়ো মা গিরিগঙ্গা আর রামসীতা মন্দির দেখে নিল। রামসীতা মন্দিরের দ্বাররক্ষক হনুমানও পুজো পান ভক্তদের।
ভক্তরা যা-ই বলুন, ইতিহাস বলছে এই হিমাচলী শৈলীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ত্রয়োদশ শতাব্দীতে। বুড়ো মুগ্ধ মন্দিরের গঠনশৈলীতে। সেই মুগ্ধতা নিয়েই বুড়ো বুড়িকে নিয়ে সাড়ে দশটায় চড়ে বসল গাড়িতে; গাড়ি গড়াল নারকাণ্ডার পথে। গিরিগঙ্গা রয়ে গেলেন ওঁর মন্দিরে আর বুড়োবুড়ির অন্তরে। খড়াপত্থর হয়ে ছুটল গাড়ি। পটশলকে ফট করে যখন পেরিয়ে গেল এগারোটা বাজতে তখনও চার চারটে মিনিট বাকি। এভাবেই সল্যানা, নিহারী, গুম্মা, ছৈলা পেরিয়ে পৌনে বারোটায় বুড়োবুড়ির প্রাণ এমন চা চা বলে চ্যাঁচাতে লাগল যে, না থেমে থাকা গেল না। ঠিক দুপ্পুরবেলার দশ মিনিট পর বাঁয়ে মোচড় মেরে পাঁচ কিলোমিটার দশ মিনিটে পার করে এসে গেল ঠিওগ। জব্বর ভীড়। সেই ভীড় ঠেলে জনোগ ঘাটীতে সারি সারি ফুলঝাড়ু দেখে নিয়ে বুড়োবুড়ি সাড়ে বারোটায় ডোগরা মোড়; তারপর সন্ধু, লাফু ঘাটী লাফ দিয়ে পেরিয়ে আসার পর পথে ধহেন ঘাটী, মতীয়ানা, রছান, শিলারু, মোহনীর পর চড়াই চড়ে দেড়টায় বুড়োবুড়ি পৌঁছে গেল নারকাণ্ডার হোটেল হাটু-র আঙিনায়।
ঘরে ঢুকে দু’জনে মহাখুশ — তিন বছর আগে এই ঘরেই বাস করে গিয়েছে। চমৎকার ঘরের লনমুখী কাচের দেওয়াল দিয়ে চা খাওয়ার সুখ এখনও ওদের বুকে বাসা বেঁধে আছে। দিন আর রাত গতবারের মতোই কাটল আনন্দে।
সোনালী সকালে দশটায় হোটেল ছেড়ে চড়াই পথে আধঘন্টায় বুড়োবুড়ি এসে পড়ল হাটু পাহাড়চূড়ার হাটেশ্বরীর মন্দিরে। অপরূপ প্রকৃতির বুকে এই অনন্যসুন্দর মন্দির মন কেড়ে নিতে সময় নিল না।
এবার ‘ডেস্টিনেশন কালকা’ — ঠিক দুপ্পুরবেলা ঠিওগ, বারোটা বাইশে ফাগু, তিন মিনিট পর কুফরি, বেলা একটার এক মিনিট পরেই শিমলা পড়ে রইল পিছনে। শোনা, সোলন, বারোগ, ধারা পেরিয়ে ধরমপুরে পৌঁছে বুড়োবুড়ি দুপুরবেলার পেটপুজো সারল মাত্তর দশ মিনিটে।
