• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৩ | জুলাই ২০২৬ | কবিতা
    Share
  • তিনটি কবিতা: ঘড়িঘর; পরিখা; শিলালিপি : অজন্তা রায় আচার্য

    ঘড়িঘর

    শহরের মাঝখানে সেই বিশাল ক্লক-টাওয়ার এখন শ্যাওলার দখলে। কাঁটা দুটো স্থির হয়ে আছে ঠিক সেই মুহূর্তটায়, যখন প্রথম সাইরেন বেজেছিল। দোদুল্যমান পেন্ডুলামের নিচে এখন উইপোকার ঢিবি। সময় এখানে নদীর মতো বয় না, বরং একটা বদ্ধ ডোবার মতো আটকে আছে। কোনো এক কারিগর এই ঘড়ি বানিয়েছিলেন সম্রাটকে অমরত্ব দিতে; আজ সম্রাট নেই, কারিগর নেই, শুধু সময়ের কঙ্কালটা ঝুলে আছে শূন্যে।

    পরিখা

    কাদা আর নোনা জলে ভিজে আছে তামাটে রঙের মাটির বুক। বুটের নিচে মচমচ করে উঠছে মানুষের হাড় না কি শুকনো ডালপালা—তা বোঝার উপায় নেই। এক পাশে একটা ভাঙা গ্রামোফোন অর্ধেক ডুবে আছে; তার রেকর্ড থেকে এখন আর সুর বেরোয় না, শুধু সূচের ঘর্ষণে একটা কর্কশ যান্ত্রিক গোঙানি শোনা যায়। আকাশটা এখানে সবসময় ধূসর, যেন কোনো শিল্পী ভুল করে অনেকগুলো নীল রঙের ওপর ছাই ঢেলে দিয়েছেন।

    শিলালিপি

    পাহাড়ের খাঁজে খোদাই করা রাজকীয় ঘোষণাগুলো এখন ঝাপসা। বৃষ্টির জল আর রোদে ধুয়ে গেছে বীরত্বের কাহিনী। যেখানে লেখা ছিল জয়ের ইতিহাস, সেখানে এখন বুনো লতাগুল্মের আড়াল। শিলালিপির পায়ের কাছে একটা মরা হরিণের খুলি পড়ে আছে। ক্ষমতার অহংকার কীভাবে প্রকৃতির কাছে নতিস্বীকার করে, এই দৃশ্যটি তারই এক নিঃশব্দ সাক্ষী। অক্ষরগুলো এখন কেবল গর্ত, যেখানে রাতের বেলায় অন্ধ পতঙ্গরা আশ্রয় খোঁজে।



    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments