• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৩ | জুলাই ২০২৬ | ছোটদের পরবাস | গল্প
    Share
  • পিকলুর অশান্তি : ইন্দ্রাণী গোস্বামী

    পিকলুর মেজাজটা একদম ভালো নেই। যদিও এতটুকু ছেলের মেজাজকে কেউ বড় একটা পাত্তা দেয় না, তাবলে মেজাজ কি আর থাকবে না? না সেটা খারাপ হতে পারবে না? মোদ্দা কথা পিকলু ভারী অশান্তিতে আছে। আর অশান্তির কারণ একটা নয় – তিনটে।

    প্রথম কারণ তার ঠাম্মা। ঠাম্মা পিকলুকে অসম্ভব ভালোবাসে, দরকার পড়লে বোধহয় প্রাণটাও দিয়ে দিতে পারে, কিন্তু পুটুসকে সহ্য করতে পারে না। পুটুস একটা ছোট্ট ফুটফুটে কুকুরছানা – পিকলুর প্রাণ। সত্যি বলতে কি পিকলু ঠাম্মাকে যতটা ভালোবাসে পুটুসকে ঠিক ততটাই ভালোবাসে।

    তার দ্বিতীয় অশান্তি অবশ্যই তার পড়াশোনায় অমনোযোগ। সে অবশ্যি নিজেকে মোটেই অমনোযোগী ভাবে না। সে দিব্যি টকাটক ক্লাস থেকে ক্লাসে উঠে যায়, পড়াও পারে ক্লাসে। হোমওয়ার্ক করতেও তেমন একটা ভোলে না, ওই মাঝেমধ্যে এক-আধ দিন যা একটু ভুল হয়ে যায়। সে নিয়ম করে স্কুলেও যায় নাহলে মা তার পিঠটা ফাটিয়ে দিতেও পারে, কিন্তু স্কুল থেকে ফিরেই সে পুটুসকে নিয়ে মেতে ওঠে। মায়ের ধারণা পুটুসের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ তার পড়াশোনার ক্ষতি করছে। শুনতে শুনতে মনে হয় যেন পুটুস না থাকলে সে বছরে দু’বার করে ক্লাসে উঠতো! বাড়িতে লোক এলেই মা এইসব বলতে থাকে। এটা কি একটা মানুষের অশান্তির কারণ নয়?

    আসলে খুব ছোটবেলা থেকেই পিকলুর একটা কুকুরছানা পেতে ইচ্ছে করত। টিনটিনের কি সুন্দর কুট্টুস আছে, বাচ্চু-বিচ্ছুর পঞ্চু আছে, কিন্তু তার নেই। সেও তো ওদের মতোই হতে চায়। সেটাই তার মনের গোপন ইচ্ছে। কিন্তু তার কুকুরছানা পাবার ইচ্ছের উপর মা বরাবর ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিত, “ঠাম্মা কুকুরকে ভয় পায় পিকলু, কুকুর থাকলে ঠাম্মার অসুবিধা হবে। শুধু নিজের শখের কথা ভাবলে হবে? তোমাকে ঠাম্মি এত ভালোবাসে আর তুমি ওনার অসুবিধেটা বুঝবে না?”

    সুতরাং কুকুরছানা তার কাছে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তার গতবছরের জন্মদিনে ছোটকা একটা কুকুর নিয়ে হাজির। ছোটকা বর্ধমানে কলেজে পড়ায়। সেখানেই থাকে আর শনিবার বাড়ি আসে। সেদিন বাড়ি ঢুকল কোলে একটা পুঁটুলি নিয়ে। “এই নে তোর কুট্টুস।” পিকলু ভালো করে তাকিয়ে দেখল ছোটকার হাতে বাদামী-সাদা মেশানো তুলোর বলটার আবার চকচকে কালো দুটো চোখও রয়েছে। পিকলু নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না, মনে হচ্ছিল সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে। লাফিয়ে ছানাটাকে কোলে নিয়ে বলে উঠেছিল, “ওর নাম কুট্টুস না ছোটকা, ও পিকলুর কুকুর তাই পুটুস।” আর সেই থেকেই পিকলু আর পুটুস অবিচ্ছেদ্য, শুধু স্কুলের সময়টুকুই যা আলাদা থাকে।

    পিকলুর তিন নম্বর অশান্তি এই একদম এখনকার ঘটনা। ঠাম্মার অপছন্দ, মায়ের অভিযোগ এসব সে সামলে সুমলে চলছিল, আর ভিতরে ভিতরে পুটুসকে তার যোগ্য সহকারী হবার ট্রেনিং দিচ্ছিল। গোল বাধল সাত-আট দিন আগে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই শুনল ঠাম্মার গুরুদেব আসবেন তাদের বাড়িতে। গুরুদেব হৃষিকেশে আশ্রমে থাকেন, দু-তিনবছর অন্তর কলকাতায় আসেন। ঠাম্মার কাতর অনুরোধে তিনি এবার তাদের বাড়িতে এসে কয়েকটা দিন থাকবেন। তিনি সাধনভজন নিয়ে থাকেন তাই সেই কয়েকটা দিন যেন পিকলু বাড়িতে হৈ-চৈ না করে, পুটুসকে নিয়ে মাতামাতি না করে, পুটুসকে যেন সামলে রাখে – শুনতে শুনতে পিকলুর মনে হোল ঠাম্মার গুরুদেব না, তাদের হেডস্যার প্রতাপাদিত্য রানা আসবেন। তিনি বেজায় রাশভারী মানুষ, স্কুলসুদ্ধু ছেলে তাঁকে ভয় পায়।

    যাইহোক দিন কাটতে লাগল, আর মা আর ঠাম্মার শাসনের ফলে পিকলুর প্রাণ ওষ্ঠাগত। ক’টা দিন গুরুদেবের মতো মহান মানুষের সেবা করতে পারবেন ভেবে ঠাম্মার মুখখানা সবসময় জ্বলজ্বল করছে। উৎসাহে ঠাম্মা যেন টগবগ করে ফুটছেন। পিকলু যথাসাধ্য মানিয়ে গুছিয়ে চলছে কিন্তু তার একদম ভালো লাগছে না। পুটুসের অনাদরে তার কষ্ট হয়। পুটুস ঠাম্মিকে ভালোইবাসে, ঠাম্মি বোঝে না। নাহলে ঠাম্মির পেছন পেছন ঠাকুরঘরের বাইরে পর্যন্ত যায় কিন্তু কক্ষনো ভেতরে ঢোকে না, জানে ঠাম্মি রাগ করবে। তবু ঠাম্মি পুটুসকে কোলে নেয় না।

    অবশেষে সেইদিন এল। গুরুদেব এলেন। মহাসমারোহে তাঁকে বরণ করার জন্য বাড়িশুদ্ধু সবাই – এমনকি ছোটকাও উপস্থিত। কিন্তু গুরুদেব গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই পুটুস কোথা থেকে এসে বিকট ঘেউ-ঘেউ করতে করতে গুরুদেবের দিকে তেড়ে গেল। সবাই অপ্রস্তুত। পিকলু চট করে ওকে কোলে নিয়ে এক্কেবারে চিলেকোঠার ঘরে আটকে দিয়ে এল। তাও সে বকুনি খেল। মা ছোটকাকেও ছাড়ল না যেহেতু পুটুসকে ছোটকাই এনেছে। গুরুদেবের মুখ গম্ভীর আর ঠাম্মার মুখ চুন। বাড়ির বাকিরাও খুব অস্বস্তিতে রয়েছে। কিন্তু পিকলু পূটুসের খুব একটা দোষ দেখতে পেল না। সেই তো ওকে শিখিয়েছে অচেনা লোক দেখলে চেঁচাতে। তার ওপর গুরুদেবের মাথার জটা, হাতের লাঠি – কাঁচাপাকা লম্বা দাড়ি দেখে ওর হয়ত অবাক লেগেছে। ও তো আর আগে কোনদিন এরকম সাজপোষাক দেখেনি। আজ স্কুলে না গেলে মা-বাবা কিছু বলতেন না কিন্তু বাড়ির অবস্থা দেখে স্কুলেই চলে গেল পিকলু।

    ***

    স্কুলব্যাগটা টেবিলে ছুঁড়ে ফেলেই পিকলু চিলেকোঠায়। আরে দরজা তো খোলা! কুট্টুস কোথায়? দু’একবার ডেকেও পুটুসের কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। মা খুব গম্ভীরভাবে জানালেন পুটুসকে চণ্ডীকাকুর কাছে রেখে আসা হয়েছে। পুটুস সারাদুপুর এমন চীৎকার করেছে গুরুদেবের ধ্যানের ব্যাঘাত হয়েছে। এরকম হলে তিনি এখানে থাকতে পারবেন না, তাঁকে আশ্রমে চলে যেতে হবে। সুতরাং, পিকলু যেন এটা নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি না করে। বাড়াবাড়ি আর কি করবে? সে শুধু বিকেলের জলখাবারটা খেল না। তার একই সঙ্গে খুব রাগ আর কষ্ট হচ্ছে। সে চুপচাপ মাঠে গেল। খেলতে তার ইচ্ছে করছে না কিন্তু বাড়িতে একদম ভালো লাগছে না।

    রবিবার। ভোর পাঁচটা বাজে। অন্য রবিবার পিকলু বেশ দেরি করে ওঠে, আর তার দেরি হলেই পুটুস তার খাটে উঠে তার নাক মুখ চেটে দিয়ে ঘুমের বারোটা বাজায়। আজ তাকে বিরক্ত করবার কেউ নেই, অথচ তার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। তার কেমন কান্না পেয়ে গেল। সেই একমাস বয়েস থেকে পুটুস তাকে ছাড়া থাকেনি। অপরিচিত জায়গায় পুটুস ঠিক আছে তো? সে কাউকে সাহস করে জিজ্ঞাসা করতেও পারছে না। যদি মা-বাবা রাগ করে? একবুক মনখারাপ নিয়ে ভাবতে ভাবতে তার মনে হল সে তো চণ্ডীকাকুর বাড়ি গিয়ে একবার ওকে দেখে আসতে পারে। চণ্ডীকাকুর বাড়ি তো বাসে মাত্র চারটে স্টপেজ। বাস, অটো দু’টোতেই যাওয়া যায়। সে ক্লাস সেভেনে পড়ে, এটুকু পারবে না? তাহলে আর টিনটিনের মতো হবে কি করে?

    বাসস্ট্যান্ডে এসে নির্দিষ্ট বাসে উঠে পড়তে কোন অসুবিধা হল না। এত সকাল আর রবিবার বলে বসার জায়গাও পেয়ে গেল। মাত্র চারটে স্টপেজ, মিনিট কুড়ির মধ্যেই সে চণ্ডীকাকুর বাড়িতে। কলিং বেল বাজাতেই কাকিমা দরজা খুললেন। এত সকালে পুটুসকে দেখে অবাক হবার কথা কিন্তু কাকিমা প্রথমেই বলে উঠলেন, “তুই এসে গেছিস? পুটুসকে পাওয়া যাচ্ছে না রে। ভোরবেলা থেকেই দেখতে পাচ্ছি না। মাম্পিই ওর দেখাশোনা করছিল… ।” বাকি কথা ওর কানে আর ঢুকছিল না। পুটুস নেই মানে? ও ঠিক বুঝতে পারছিল না।

    তাদের গলার আওয়াজে কাকু আর মাম্পিদিও এসে পড়ল। মাম্পিদি বলতে লাগল, “রাতে আমার ঘরের সামনেই শুয়েছিল, সকালে মায়ের ডাকাডাকিতে উঠে দেখছি ও নেই। বাপি আর আমি আশেপাশে সব খুঁজে দেখলাম, কোথাও পেলাম না।” পুটুসের জন্য মনখারাপটা কাল থেকে চেপে রেখেছিল। পিকলু এবার কেঁদে ফেলল। পুটুস তার মানে হারিয়ে গেছে, ও যে এখানকার কিছুই চেনে না।

    এরমধ্যে বাবা আর ছোটকা পৌঁছে গেছে। ওরা জেনেই এসেছে যে পুটুসকে পাওয়া যাচ্ছে না কিন্তু ওদের বেশি চিন্তা ছিল পিকলুকে নিয়ে। পিকলু ছটফটে, দুষ্টু – তবে বাড়িতে না বলে কখনও কোথাও যায় না। চণ্ডীকাকু আর কাকিমা খুব অস্বস্তি বোধ করছেন – মাত্র তিন-চারদিন পুটুসের দায়িত্ব নিয়েও ওকে আগলে রাখতে পারেননি। পিকলুর অবস্থা দেখে সবারই খুব খারাপ লাগছে। ছেলেটা কাল থেকে ভালো করে খায়নি, গুম হয়ে বসে আছে – এটা কি বাড়ির লোকেদের ভালো লাগে? হাজার হোক বাড়িতে একটাই তো বাচ্চা।

    পরের দিনও যখন পূটুসের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না বাড়ির পরিবেশ বেশ থমথমে হয়ে উঠল। ঠাম্মার একটু অপরাধবোধ হচ্ছে। গুরুদেবকে নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না, যদিও পিকলুর মা তাঁর আদরযত্নের কোন ত্রুটি রাখছেন না। অনেক চেষ্টা করেও যখন পুটুসকে পাওয়া গেল না তখন সবাই মিলে ঠিক করা হোল পিকলুর জন্য আবার একটা কুকুরছানা আনা হবে। পিকলু খুব গম্ভীরভাবে বলল, “আমার দরকার নেই, যদি পুটুসকে এনে দিতে পার তো দিও – অন্য কুকুর আমার চাই না।” বড়রা এমন আজব কথা বলে যে পিকলুর হাসি পায়। পিকলু হারিয়ে গেলে কি ওরা অন্য ছেলে কিনে আনত? আশ্চর্য!

    ***

    মনোরমা বেশ মুষড়ে পড়েছেন। তার মনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে গুরুদেব চলে যেতে তিনি স্বস্তিবোধ করলেন। আসলে এরকম যে হতে পারে তিনি ভাবতেই পারেননি। ছোটবেলায় তাঁকে একবার কুকুরে কামড়েছিল। সে কি অবস্থা! নাভির চারপাশে চোদ্দটা ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছিল। সেই থেকে তিনি কুকুর অপছন্দ করেন। আর তাঁর কপালগুণে তাঁর প্রাণের ধুকপুকি পিকলুসোনা একটা কুকুরছানাই পুষে বসল। তারপর পাশাপাশি থাকতে থাকতে যা হয়। ওইটুকু প্রাণী তো – মায়া পড়েই গেছিল। কোলে নিয়ে কখনও আদর করেননি তবে এতটা ভালোবাসতেন তাও আগে বোঝেননি। সারাদিন যখন পায়ে পায়ে ঘুরত তখন ভাবতেন ‘এই এক আপদ জুটেছে কপালে’। আজ কিন্তু খুব খালি খালি লাগছে। তিনি যখন পূজো করতেন ও ঠাকুরঘরের দরজায় বসে থাকত। একটা বাতাসা প্রসাদের থেকে না দেওয়া পর্যন্ত মনোরমার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়ত। তাঁর সবথেকে খারাপ লাগছে পিকলুকে দেখে, এই ক’দিনে নাতিটা একদম পাল্টে গেছে। চুপচাপ খায়, স্কুল যায়, বই নিয়ে বসে আর ছাদে গিয়ে বসে থাকে। লাফালাফি করে না, খেলতে যায় না, এটা খাব না – ওটা খাব এসব বায়নাও বন্ধ। সবথেকে যেটা তাঁর গায়ে লাগছে যে সে একবারের জন্যও ঠাম্মার কাছে আসে না।

    ***

    বিকেলের আলো মরে যাবার আগে মনোরমা সদরে এসে দাঁড়ালেন। রান্নার মেয়ে শিখা ছাড়া বাড়িতে আজ কেউ নেই। পিকলুর বাবার অফিসে ফ্যামিলি পিকনিক, ওরা সবাই সেখানে গেছে। এতক্ষণে এসে যাবার কথা তাই তিনি বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন। হঠাৎই একটা ভুকভুক শব্দ মনোরমার কানে এল। এ আওয়াজ তো তাঁর চেনা। তিনি তাড়াতাড়ি নীচের দিকে তাকালেন। ওমা এতো পুটুস! আনন্দে মনোরমা ভুলে গেলেন তাঁর নীচু হওয়া বারণ, তিনি পুটুসকে কোলে তুলে কলকল করতে থাকেন। “কোথায় ছিলি তুই? তোর জন্য আমার পিকলুসোনা কত কষ্ট পাচ্ছে। এঃ গায়ে কত জলকাদা, এত নোংরা মাখলি কী করে?”

    মনোরমার গলায় আদর পেয়ে পুটুস কোলের ভেতরেই লাফঝাঁপ দিতে লাগল। মনোরমা বলেই চললেন, “অত ছটফট করলে কি আমি সামলাতে পারি? ও শিখা আয় একবার, কে এসেছে দ্যাখ।” তাঁর গলার আওয়াজে শিখা ততক্ষণে তাঁর কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপর চলল দুজনে মিলে ধুইয়ে মুছিয়ে পুটুসকে ভদ্রস্থ করার পালা।

    পিকলুরা গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই উত্তেজিত শিখা দৌড়ে এল। “এসো এসো পিকলুদাদা, কে এসেছে দেখবে চলো।”

    “কে এসেছে শিখা?” শিখার উত্তেজনা দেখে মা একটু অবাক হয়েই জানতে চাইলেন।

    “চলো না নিজের চোখেই দেখবে।”

    সারাদিন ধকলের পরে বাবা, মা, পিকলু সবাই ভীষণ ক্লান্ত। তাও পিকলু শিখার পিছন পিছন গেল। কে এমন এসেছে যে শিখাপিসি রান্নাঘর ছেড়ে দৌড়ে এল? তার কৌতূহল হচ্ছে। বসার ঘরে ঢুকেই তার চোখ এক্কেবারে ছানাবড়া। পুটুস! পুটুস ফিরে এসেছে! তাও আবার ঠাম্মার কোলে! এটা কি স্বপ্ন দেখছে সে?

    পিকলুর পিছনে পিছনে বাবা-মাও উপস্থিত। তাঁরাও তাজ্জব। শিখা গলগল করে বলেই চলেছে, “বড়মার কাণ্ড যদি তোমার দেখতে! পুটুসের গলার আওয়াজ ঠিক বুঝতে পেরেছে। আর নিজেই কোলে নিয়ে আমাকে ডেকেছে। আর পুটুসটা তো নোংরায় একদম মাখামাখি হয়ে ছিল। কে জানে নর্দমা-টর্দমায় পড়ে গেছিল কিনা। এই ভর সন্ধেবেলায় জেঠিমা নিজেই ওকে ধোওয়া-মোছা করেছে, বিস্কুট খাইয়েছে তারপর কোলে নিয়ে বসে ওর সাথে কথা বলে চলেছে। আমি তো হেসেই বাঁচিনে, পুটুস কি কথা বোঝে?”

    পিকলু ঠাম্মার দিকে অপলকে চেয়ে আছে। চোখাচোখি হতেই ঠাম্মা লাজুক হাসল, কৈফিয়তের সুরে বলল, “না রে, ও আসলে আমার কোলে না উঠে ছাড়ল না। তুই তো ছিলিস না তাই…”

    পুটুস ততক্ষণে পিকলুর কোলে উঠে ওর গাল-নাক-মুখ সব ভিজিয়ে দিচ্ছে। অনেকদিন পর পুটুসকে আদর করতে করতে পিকলু বুঝতে পারল ঠাম্মিও আসলে পুটুসকে ভালোই বাসে। সেও অনেকদিন ঠাম্মার সাথে ভালো করে কথা বলেনি, সে ঠাম্মার পাশে বসে ঠাম্মাকে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে রইল। পুটুস অবশ্য গুটিশুটি মেরে দু-জনের মধ্যে জায়গা করে নিতে ভুলল না।



    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments