




সকাল ৬টার সুপারস্টারের ঝকমকে রূপও বুড়োবুড়ির বুকে ততটা খুশির তুফান তুলল না; আজ মারিয়াকে বিদায় জানানোর পালা। আজ বুড়োবুড়ি যাবে পেশকের গুমবাদাঁড়ায়। সে-ও নিশ্চয়ই খুব সুন্দর, কিন্তু এই আপন করা আতিথেয়তা কি সেখানে মিলবে?
রোদ মেখে ব্রেকফাস্ট খাওয়ার আনন্দেও একটুখানি মন খারাপের ছায়া। কিন্তু সব ভালোই একসময় শেষ হয়। ১০টার সময় এলো সেই সময়। খাদা পরিয়ে বিদায় জানাল দু দিনের আত্মীয়রা। মারিয়া পর্ব শেষ হলো। দশ মিনিটে রিশপ প্রবেশ, আরও আড়াই মিনিটে রিশপ ত্যাগ। পাক খেতে খেতে পথ চলেছে নেমে। যতক্ষণ পারল সুপারস্টার সঙ্গ দিয়ে গেল। শান্ত গ্রামের থেকে কোলাহলে আর ট্র্যাফিক জ্যামে ভরা কালিম্পং অবধি। পথের দ্রুত অবনমনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সুপারস্টারের পক্ষেও সম্ভব হলো না।

ভোর, মানে প্রায় সকালে ৬টায় বুড়োর ঘুম লেপ ছেড়ে পালাল; তাই বুড়োকেও গরম বিছানা ছাড়তে হলো। ঘুম সরে বসতেই বুড়োর মন জুড়ে বসল সুপারস্টার। সামনের দেয়ালের পর্দা সরাতেই আকাশ জুড়ে সুপারস্টার হাতছানি দিয়ে ডাক দিল — আমিও উঠে পড়েছি, এবার আলো দিয়ে মুখ ধোব। সেই ডাক শুনে বুড়ো মুখ না ধুয়েই দরজা খুলে বাইরে। কিন্তু ও ভাবতেই পারেনি বাইরে ওকে জড়িয়ে ধরবে বলে অপেক্ষা করছে ৩ ডিগ্রির ঠান্ডা। বাপস্ বলে ভিতরে ঢুকে গরম জ্যাকেটখানা চাপিয়ে জাম্বুবান সেজে মোবাইল বাগিয়ে আবার বাইরে। সামনের আকাশের দেয়ালে সুপারস্টার থেকে ডানদিকে দূরে সুন্দর সিনিওল চু-র ছবি টাঙানো। সুয্যিঠাকুর খুব যত্নে ওদের সাদা রঙের ওপর সোনালী রং বোলাতে লাগলেন। রংটা পুরোপুরি লালচে সোনালী হতেই ৩ ডিগ্রি নিজেকে ৫ ডিগ্রিতে পালটে নিল। বুড়ো ঘরে ঢুকে পর্দা সরিয়ে বুড়িকে ডেকে তুলে ইলেকট্রিক কেটলে চায়ের জল বসিয়ে দিল। চায়ে চুমুক দিতে দিতে সুপারস্টারের সুপার শো দেখা — আহাহা।
