• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৪ | অক্টোবর ২০২৬ | সম্পাদকীয়
    Share  
  • সম্পাদকীয় : পরবাস

    প্রথমে সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু নিজের কানেই এটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে। দু’বছর আগে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য এই সময়, যা পুজোর উৎসবে আনন্দময় থাকার কথা, পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। এবারে এক নিদারুণ বিপর্যয়ের ফলে পুজোর ঠাকুর দেখতে গিয়ে ১৯ জন পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন। এ ছাড়াও ব্যক্তিস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, শিক্ষার সুব্যবস্থা দৃঢ় করার দাবিতে আমেরিকা, ভারত, ইয়োরোপ, সব দেশই এক অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে।

    কেতকী কুশারী ডাইসনের সঙ্গে প্রথম কবে, কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল এখন মনে নেই, তবে তাঁর পরবাসে ২০০১ থেকে শুরু করে ২০১৮ অবধি তাঁর লেখা বেরিয়েছে। আমার ধারণা, রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব বসু, ও অনুবাদ বিভাগে তাঁর লেখার প্রকাশ হয়তো আরও অনেক লেখককে পরবাস-এ লেখা প্রকাশ করতে উৎসাহ দিয়েছিল। মনে রাখতে হবে, সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত লেখকেরা আন্তর্জালে লেখা প্রকাশ করতে খুব আগ্রহী ছিলেন না। কেতকীদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাঁর চোখের অবস্থা ভালো ছিল না। এক সময়ে ওনার দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার কারণে ইমেলে ফন্টের সাইজ বড়ো থেকে ক্রমশ আরও বড়ো হতে শুরু করল; একেবারে শেষের দিকে যোগাযোগ হত ওনার স্বামী রবার্টের মাধ্যমে। সে যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসে, আমিও বেশি খোঁজ করতে দ্বিধা বোধ করতাম, অবস্থা আশাব্যঞ্জক না থাকার সম্ভাবনাই বেশি মনে করে। ওনার শেষ বড়ো লেখা, A Scrapbook of Memories and Reflections আমাদের তাগিদেই উনি লিখেছিলেন। সেটি এবারে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। খুব দুঃখের কথা যে উনি সেটা দেখে যেতে পারলেন না। নন্দিনী গুপ্ত তাঁর বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদের প্রসঙ্গে কেতকীদির সঙ্গে তাঁর আলাপের বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।

    সুনন্দন চক্রবর্তীর মৃত্যু কিন্তু ছিল একেবারে আকস্মিক। সহজে লেখানো যেত না তাঁকে দিয়ে, তাই খুব খুশি হয়েছিলাম যখন উনি ধারাবাহিকভাবে আমাদের যাদবপুর আর যাদবপুরের আমরা লিখতে শুরু করেছিলেন। আগের সংখ্যাতেই তার ৩য় কিস্তি প্রকাশিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত অন্যায়ভাবে একেবারে বিনা নোটিশে উনিও চলে গেলেন। বছর দুয়েক আগে কলকাতায় কিছুক্ষণের জন্য এঁর বর্ণময় ব্যক্তিত্বের আভাস পেয়েছিলাম। অনেক ভালোভাবে তাঁর পরিচয় মিলবে এই সংখ্যায় শ্রীকুমার চট্টোপাধায়ের লেখাতে।

    এই দু'জনের বই, পরবাস-এ প্রকাশিত লেখা, ও তাঁদের উপরে কিছু লেখা পরবাস-এ সহজেই পাওয়া যাবে।

    আরেক জনের কথা আমি বলতে চাই—ন্যান্সি স্টুয়ার্ট। তাঁকে অবশ্য পরবাসের পাঠকেরা চিনবেন না। তিনি পরবাস থেকে বই কিনতেন, নিজের জন্য, এবং অন্যদের দেওয়ার জন্য আরো বেশি, বিশেষ করে বাংলাদেশের দুঃস্থ কিশোর/কিশোরীদের জন্য। বাংলা শিখছিলেন। নানারকম ভাবে লোকেদের সাহায্য করাই যেন তাঁর নেশা ছিল। মাঝে পরবাস বুকস্টোরের ব্যবহারের জন্য অ্যাড্রেস লেবেলের সাপ্লাই তিনি না চাইতেই দিয়ে গেছেন বহুদিন ধরে! এখনো আমার বুকশেলফে দেখতে পাচ্ছি ওনার দেওয়া ডিরোজিও রচনা সমগ্র; কলকাতার তিনশো বছরে প্রকাশিত বই (সুকান্ত চৌধুরীর সম্পাদনায়); এরকম আরও কত কি। সম্প্রতি শুনলাম তিনিও আর নেই।

    এঁদের সকলের জন্যই আমাদের শ্রদ্ধা রইল।

    লেখক, পাঠক, ও অন্যভাবে যাঁরা পরবাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তাঁদের আরও একবার আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।

  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  •   (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments