• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৪ | অক্টোবর ২০২৬ | ছোটদের পরবাস | গল্প
    Share  
  • মন পবনের নাও : পূর্বিতা পুরকায়স্থ

    রিক্সায় ড্রাইভারের আসনে বসলেই মন্টুর রিক্সাটাকে একটা নৌকোর মত মনে হয়। যেন বাতাসিয়া নদীতে সেই নৌকো ভেসে ভেসে চলে। মন্টুর বাবাও তাই বলত। বলত, ‘আমার রিক্সা হচ্ছে আমার নৌকো আর আমি তার মাঝি। এ আমার মন পবনের নাও।’ মন্টু বাবার কথাগুলো হাঁ করে শুনত। কিছু বুঝতে পারত না। বাবা চলে যাবার পর বাবার কথার অর্থ মন-প্রাণ দিয়ে অনুভব করছে।

    মন্টু হঠাৎ করে একদিন যখন ওর বাবাকে চোখের সামনে উধাও হয়ে যেতে দেখল, সেদিনই এক হ্যাঁচকায় বড় হয়ে গেল। বাবাকে দাহ করে ফেরার সময় ওদের উঠোনে বাবার রিক্সাটাকে নির্জন উঠোনে একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ও নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। বুকফাটা চিৎকারে ভেঙে পড়ে। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হসপিটাল, মৃত্যু, দাহ-- সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছিল যে ও কিছু ভাবার সময় পায়নি। এবার সব পেরিয়ে এসে নিজের মুখোমুখি হয়েছে। ওর মনে দৃশ্যের পর দৃশ্য এসে ভিড় করছে। এই তো আজ দুপুরেই বাবা ছিল। রিক্সা নিয়ে বাড়ি ফিরল। স্নান করে খেয়েদেয়ে শুলো। হঠাৎ করে নেই হয়ে গেল।

    সেদিন মন্টু স্কুল থেকে ফিরে খেতে বসেছে। হঠাৎ বাবার বুকে ব্যথা শুরু হোল। ব্যথা বাড়তে বাড়তে হাতে ছড়িয়ে গেল। মন্টু খাওয়া থেকে উঠে এক দৌড়ে পাশের ঘরের কাকুকে গিয়ে নিয়ে এল। ওর বাবাকে বস্তির সবাই ভালবাসত বলে মুখে মুখে খবরটা ছড়িয়ে পড়ল। অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল। অবস্থা দেখে সবাই মিলে ঠিক করল হসপিটালে দিতে হবে। কিন্তু হসপিটালে পৌঁছনোর আগেই বাবা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল। বুঝি অদৃশ্য কোন নৌকো অপেক্ষা করছিল বাবাকে সমুদ্রে নিয়ে যাবে বলে। তাই বাবা কাউকে কিছু বলার সময় পেল না। মন্টুর খুব অভিমান হয়েছিল সেদিন বাবার উপর। বুড়ি মা, স্ত্রী, ও বাচ্চা ছেলেকে ফেলে এভাবে কেউ চলে যায়? একা দাঁড়িয়ে থাকা শূন্য রিক্সাটাকে দেখে মন্টুর মনে হয়েছিল রিক্সাটাও নিশ্চয়ই তাই ভাবছে। বলা নেই কওয়া নেই এভাবে কেউ যায়? একই ব্যথায় একই সময়ে দুজনে কষ্ট পাচ্ছে বলে রিক্সাটাকে সবচেয়ে আপন বলে মনে হয়েছিল মন্টুর। মনে হয়েছিল ওরা দুজনেই একসাথে ওদের জীবনের দাঁড় টানার লোকটাকে হারিয়ে দিশাহীন।

    পনেরো বছরের মন্টু রিক্সা চালিয়ে উপার্জন করবে এটা ওর মা ও ঠাকুমা কেউ মেনে নিতে পারেননি কিন্তু মন্টু ছিল অবিচল। ওর মা বলেছিল, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠিকে ঝি-এর কাজ করে সংসার চালাব। মন্টু আগের মত পড়াশোনা করবে।’ ঠাকুমা তাতে সায় দিলেন। কিন্তু মন্টু বেঁকে দাঁড়াল। ও বলল, ‘বাবা তোমাকে কখনো এই কাজ করতে দেয়নি। তাই তুমি এখনো করবে না। আমি রিক্সা চালাব।’

    মন্টুর এখন রিক্সাটাকে ভাইয়ের মত মনে হয়। একে ছুঁলে ও যেন ওর বাবাকে ছুঁতে পারে। ও মাঝে মাঝেই পরিষ্কার দেখতে পায় বাবা ড্রাইভারের সিটে বসে হাসিহাসি মুখে আপন মনে গাইছে, ‘মন পবনের নৌকা বটে বেয়ে দে শ্রী দুর্গা বলে। মন মহা মন্ত্র যন্ত্র যার সুবাতাসে বাদাম তুলে ...।’ বাবার ঐ গান শুনলে কেন জানি মন্টুর চোখে জল এসে যেত। ঠাকুমা আহা আহা বলে কাপড়ের খুঁট্ দিয়ে চোখের জল মুছত। মন্টুকে বলত, ‘জানিস দাদা, তোর ঠাকুরদা যদি অকালে চলে না যেতেন তোর বাপ গান গেয়ে টাকা রোজগার করতে পারত। এরকম গানের গলা ক’জনের হয়! সবই অদেষ্ট!’ এই বলে ঠাকুমা দীর্ঘশ্বাস ফেলত। বাবা এই শুনে হা-হা করে হেসে বলত, ‘সব মায়ের কাছেই ছেলে হেমন্ত মুখার্জি। আর এ রিক্সা নয় মা। এ আমার মন পবনের নাও। এখানে আমি মাঝি। মাঝি ঠিক করবে কাকে নাওতে তুলবে । কাকে তুলবে না। কোন দিকে যাবে কোন দিকে না। এই নাও আমি রোজ দুর্গা নামে ভাসাই।’ ঠাকুমা সেই শুনে আবার কপালে হাত ঠেকাতেন। মন্টুর মা বলত, ‘তবে মা মোটেও ভুল কথা বলেননি। তুমি সত্যিই ভাল গাও।’ মায়ের চোখে তখন নরম আলোর ছায়া। বাবা লজ্জা লজ্জা মুখে সামনে থেকে সরে যেত। মন্টু নীরব দর্শকের মত সবকিছু দেখত। সেই সময়গুলো ওর কী যে ভাল লাগত! যদিও এইসব বিশেষ মুহূর্ত ছাড়াও ওদের বাড়ি সবসময় শান্তি ও আনন্দে ছেয়ে থাকত। একটা জিনিস ও বরাবর লক্ষ্য করেছে, ওর বাবার টাকা কম থাকলেও বস্তির অন্যান্য বাড়ির মত ওদের বাড়িতে কখনো ঝগড়াঝাঁটি হতো না। ওর বাবা যেমন হাসিখুশি লোক ছিল তেমনি ছিল দিলদরিয়া। বুকের ছাতি ছিল যেমন চওড়া তেমনি ছিল দরাজ গলা আর তেমনি ছিল মন! মন্টুর মনে হয় ওর বাবার বুকের ছাতি যদি সিংহের ছাতি হয় তাহলে ওরটা নেহাতই ঘুঘুর। মন্টুর খুব হাসি পায় এই ভেবে যে কোন বাবার কোন ছেলে! তবে কী আর করা যাবে? কিন্তু রিক্সায় বসলে পুরো ব্যাপারটাই পাল্টে যায়। তখন ও একদম অন্য মানুষ। ওরও মনে হয় রিক্সাটা সত্যি ওর মন পবনের নাও।

    মন্টুর এখনো মনে হয় এসবই তো কালকের কথা, বাবা অনেক রাতে রিক্সা নিয়ে বাড়ি ফিরত। মা, ঠাকুমা আর ওকে বাবা ফেরার আগেই খেতে দিয়ে দিত। মন্টু খেতে চাইত না। কারণ খেয়ে নিলেই চোখ জুড়ে ঘুম চলে আসবে। বাবার সঙ্গে দেখা হবে না। কারণ পরদিন ও ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাবা রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে যাবে। দুপুরে একটু সময়ের জন্য দেখা হত। বাবা খেয়েদেয়ে বিশ্রাম করত আর ও খেলতে চলে যেত। তাই রাতে ও বাবা না ফেরা অব্দি জোর করে চোখ টেনে রাখত। ঘুমকে আটকে রাখার জন্য বারবার চোখে জল দিত। বাবা এসে ওকে দেখে রোজ একই কথা বলত, ‘কি রে বাবু এখনও ঘুমোসনি!’ বাবা হাতমুখ ধুয়ে খাওয়াদাওয়া করে এলে ওর শুরু হোত গল্প শোনা। একই গল্প ও যে কতবার শুনেছে। তবু ওর শোনার ইচ্ছে কিছু কমেনি। শুয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলত, ‘বাবা তুমি আর তোমার বন্ধু যেন কি করতে?’

    ‘অনেক কিছু করতাম। সেইসব গল্প তোকে অনেকবার বলেছি বাবু। এখন ঘুমো।’ মন্টুর পীড়াপীড়িতে বাবা ঘুম জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করত ‘কোনটা শুনবি?’ মন্টু অসংখ্যবার শোনা গল্পগুলোর কোন একটার কথা বলত। ওর বাবা গল্প বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ত। ওদিকে মন্টু ঘুমিয়ে পড়ত কখনো বাবার আগে বা কখনো পরে। বাবা চলে যাবার আগের রাতে মন্টু শুনতে চেয়েছিল ওর বাবার সেই বন্ধুর গল্প যে স্বপ্নে যা দেখতে পেত তাই হোত। বিশেষ কোন স্বপ্ন দেখলে সেই মাধবকাকা ভোরবেলা ছুটতে ছুটতে ওর বাবার কাছে এসে যেন প্রথম শ্বাসটা নিত। বাবাকে স্বপ্নের কথা না বলা অব্দি শান্তি নেই। বাবাও স্বপ্ন দেখত। বাবা দেখত মাঝির গান গেয়ে নৌকো বাওয়া। অদ্ভুতভাবেই দুজনের স্বপ্ন ফলে যেত। প্রথম প্রথম বাবা তা খেয়াল করেনি। একদিন বিকেলে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসে গান শুনে মনে হোল আরে কাল তো আমি স্বপ্নে এই গানটাকে এভাবেই গেয়ে যেতে দেখেছি। ‘ও মন মাঝিরে ভবনদী কেমনে হবি পার...।’ সেইদিন প্রথম ঘোর হোল। সেদিন থেকেই মন্টুর বাবা গানের স্বপ্ন দেখলেই নদীর পাড়ে ছুটে যেত এবং প্রতিবারই অবাক হত। মনে মনে ভাবত স্বপ্নের এভাবে ফলে যাওয়া কি সম্ভব? এর পেছনে কি কোন রহস্য আছে?

    মন্টুর বাবার বন্ধু মাধবকাকার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। কাকা স্বপ্নে বিপদকে আগাম দেখতে পেত। কাকা প্রথম প্রথম স্বপ্নের কথা বলতে ভয় পেত। দু’ একবার বলে পাত্তা পায়নি। উলটে লোকে বলেছে বড় এলেন জ্যোতিষী! তাই বাজে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙার পর কাকা মন্টুর বাবার কানে কানে স্বপ্নের পুরোটা বলে যেন স্বস্তি পেত। কিন্তু যেদিন মাঝগাঙ থেকে হরিজ্যেঠার মাছ ধরার নৌকো আর ফিরে এল না সেদিন গ্রামের লোকেরা একটু একটু করে মাধবকাকুর স্বপ্নের ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল।

    মন্টু একদিন ওর বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘ঠাকু্রদার নৌকো ডুবে যাবার আগে মাধব কাকা স্বপ্ন দেখেনি?’ বাবা বলে, ‘হ্যাঁ দেখেছিল; ও আমাকে বলেওছিল কিন্তু আমার বাবা বিশ্বাস করেনি। হেসে বলেছিল, মাধব একটা বাচ্চা ছেলে। ওর কথা ধরে বসে থাকলে হবে?’

    সেই দুর্ঘটনার পর মন্টুর বাবাদের জীবন অন্য খাতে বইতে শুরু করল। ঠাকুমা গ্রামে থাকার সাহস করতে পারলেন না। কারণ মন্টুর বাবা তখন এতটাই ছোট যে মাছ ধরতে তখনও শেখেনি। তাই জীবিকার জন্য ছেলেকে নিয়ে শহরে চলে এলেন। গ্রামের কিছু চেনা মানুষের পথ ধরে এই বস্তিতে উঠে এসেছিলেন। মন্টুর বাবা যে কিনা গ্রামের খোলা আকাশের নীচে মাঠে আলপথে নদীর জলে হেসে খেলে বড় হচ্ছিল, সে কিনা বন্দি হয়ে পড়ল বস্তির একটা ঘর ও বারান্দায়। তখন খেলা বলতে স্কুলে টিফিন টাইমে ও কখনো বা পিটির ক্লাসে। গ্রামে ফেলে আসা আকাশ, নদী, গাছপালা, পশুপাখি, মাধব ও বাবার জন্য সবসময় মন কেমন করত। মনে হত বস্তির এইটুকু ছোট্ট পরিসরে যেন শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ঠাকুমা বাড়িতে বাড়িতে কাজ ধরলেন। একটু বড় হয়ে মন্টুর বাবা রিক্সা চালাতে শুরু করলে ঠাকুমাকে আর কাজ করতে হয়নি।

    সেই শুরু মন্টুর বাবার জীবনের আরেক পর্বের। ওর মনে হোত রিক্সা চালানোতে পরিশ্রম প্রচুর হলেও এতে এক অন্য ধরনের আনন্দ আছে। বাতাস কেটে কেটে আপনমনে চলা যায়। খোলা আকাশের নীচে যেন বাতাসিয়া নদীতে চলে মন পবনের নাও। রিক্সায় উঠলেই মন্টুর বাবার মাথায় গান আসতে শুরু করে দিত যেমন নৌকোতে বসলে মাঝিদের হয়। ওর মনে হোত বস্তির থেকে বেরিয়ে রিক্সায় উঠলে ও একটা পাখির মত কিংবা মাছের মত চলে ফিরে বেড়ানো সুখী প্রাণী।

    মন্টু বস্তিতে শুনেছে ওর বাবা রিক্সা চালাতে চালাতে লোকের উপকার করে বেড়াত। দুঃস্থ অসুস্থ লোকদের বিনা ভাড়াতে হাসপাতালে পৌঁছে দিত। ওদের ঘরে কিন্তু সততই অভাব তবু লোকের উপকারে বাবা পিছপা হোত না। শুধু লোককে কেন, পশু-পাখিদের প্রতি ছিল অসীম মায়া। বলত, ‘বুঝলি খোকা ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ প্রাণের পাশে সবসময় দাঁড়াবি।’

    মন্টু একদিন ওর বাবার টাকার থলেতে একগোছা কালো লোম দেখতে পেয়ে এটার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওর বাবা বলে, ‘এটা কালুর।’ কালুর কথা বলতে গেলে বাবা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ত। কতবছর আগের কথা তবু কালুর কথা বাবা এমনভাবে বলত যেন গতকালকের কথা। বাবা বলত, ‘কালু শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। সোঁ সোঁ করে আওয়াজ হোত ওর বুকে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারিনি। ও আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে থাকত। আমি ঐ চাউনির উপযুক্ত সাড়া দিতে পারিনি। কারণ আমার কাছে টাকা ছিল না। ওর সেই দৃষ্টি আমি ভুলতে পারি না । যন্ত্র্ণা কমানোর জন্য একটু সাহায্য চেয়েছিল।’ মন্টু দেখত বাবার চোখ জলে ভিজে উঠেছে। গলা বুজে যাচ্ছে।

    মন্টু এখন বাবার সেই থলেটাই ব্যবহার করে। তাই বাবার মত ও যেন কালুকে সবসময় ছুঁয়ে থাকে।

    প্রতিদিনের মত মন্টু আজ ভোর ভোর রিক্সা নিয়ে বস্তি পেরিয়ে বড়রাস্তায় গিয়ে উঠতেই দেখতে পেল একজন অতি বয়স্ক লোক ফুটপাতে বসে ধুঁকছে। এমন কাশছে যে মনে হয় কাশতে কাশতে প্রাণটা এক্ষুনি বেরিয়ে যাবে। তাহলে কি লোকটা সারারাত এভাবেই পড়েছিল! মন্টুর মনটা ভিজে গেল। ও রিক্সা থামিয়ে নেমে এল। বৃদ্ধকে গিয়ে বলল, ‘আপনার কী হয়েছে? জল খাবেন?’

    বৃদ্ধ বললেন, ‘হ্যাঁ খাব।’

    মন্টু ধীরে ধীরে মুখে জল ঢেলে দিল।

    ‘এবার কী করবেন? এখানে বসে থাকবেন?’

    ‘কাল ভিক্ষে করতে করতে এখানে চলে এসেছিলাম। শরীরটা খারাপ লাগতে এই ফুটপাতে শুয়ে পড়েছিলাম। আমাকে আমার জায়গায় পৌঁছে দেবে বাবা?’

    ‘কোন দিকে?’

    ‘ঐ ষ্টেশনের দিকে।’ বৃদ্ধ আঙুল দিয়ে দিক দেখাল।

    মন্টু ধরে ধরে ওকে রিক্সায় নিয়ে বসালো। যেতে যেতে বৃদ্ধ বলল, ‘কিছুদিন আগে ঠিক এইজায়গা থেকে আরেকজন আমাকে রিক্সা করে আমার জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল। সে তোমার মত বাচ্চা ছেলে নয়। একজন বয়স্ক।’

    মন্টু বুঝতে পারল সেই লোকটা ওর বাবা ছাড়া আর কেউ নয়।



    অলংকরণ (Artwork) : কল্লোল রায়
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  •   (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments