• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৪ | অক্টোবর ২০২৬ | গল্প
    Share  
  • রূপবতীর ঝিনুকমালা : সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

    ১

    সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললাম—শয়তানটার বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। বস বলে কি মাথা কিনে নিয়েছে? এক ঘর জুনিয়র স্টাফের সামনে কী অপমানটাই না করল! গা চিড়বিড় করছিল। বসের ঘর থেকে বেরিয়ে একবার পিছন ফিরে তাকালাম। কেবিনের ভেজানো কাঠের দরজায় শুয়োরের বাচ্চাটার নাম জ্বলজ্বল করছে—হারিত রামতনু মিত্র, জেনেরাল ম্যানেজার, প্রোজেক্টস। আদ্যক্ষরগুলো পাশাপাশি বসালে—হারামি। অফিসে সবাই ওই নামেই ডাকে। নিজের নামের প্রতি সত্যিকারের সুবিচার করতে খুব কম লোককেই দেখেছি, হারিত মিত্র তাদের মধ্যে অন্যতম। রামতনু নিশ্চয়ই হারিতের পূজাপাদ্য পিতৃদেবের নাম। নাম আর পদবীর মাঝখানে জোর করে বাপের নাম গুঁজে দেওয়া এই অঞ্চলের রীতি। সম্ভবত যাতে চেষ্টা করেও কেউ বাপের নাম ভোলাতে না পারে। তবে বেশি দিন আর ওই কেবিনের দরজায় হারিত মিত্রর নাম শোভা পাবে না। রাগলে আমি চণ্ডাল, বাপ সমেত হারামির নাম আমি শিগগিরই নিজের হাতে মুছে দেব।

    মাথা ঠান্ডা করার জন্য ক্যানটিনে গিয়ে এক কাপ গরম কফি নিয়ে বসেছিলাম। লাঞ্চের থালি হাতে নিয়ে প্ল্যানিঙের মনোজ এসে বসল টেবিলে। ভেজ থালি। অফিসের ক্যানটিনে কালেভদ্রে আমিষ পদ রান্না হয়। মনোজ ধার্মিক টাইপের ছেলে, ক’দিন আগেই প্রয়াগে মহাকুম্ভে গিয়ে সঙ্গমের হাঁটুজলে ‘ডুবকি লাগিয়ে’ এসেছে। রোজ সন্ধেবেলা লোকাল শিবমন্দিরে গিয়ে চোখ বুজে হাতজোড় করে বসে থাকে। অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে পারবে বলে ফার্স্ট শিফটে অফিস আসে। সাড়ে এগারোটা বাজতে না বাজতেই তার খিদে পেয়ে যায়। এক গাল ভাত টক দই আর চউলি দিয়ে মেখে মুখে তুলে আমার দিকে তাকিয়ে হিন্দিতে বলল, “তোর হারামি বস তোর নামে রাও সাহেবের কাছে হেব্বি চুগলি করছিল। আমি রাও সাহেবের ঘরে একটা ডকুমেন্ট সই করাতে নিয়ে গিয়েছিলাম, আমার সামনেই…”

    রঘুনাথ রাও, ডাইরেক্টর প্রোজেক্টস, আমাদের বড়ো বস। মনোজ বাজে কথা বলার ছেলে নয়। প্রথম থেকেই হারামির আমাকে পছন্দ নয়। কানাঘুষোয় শুনেছিলাম এই অফিসে আমার জায়গায় নিজের ভাইপোকে ঢোকাতে চেয়েছিল। পারেনি। ইদানীং ‘হাত ধুয়ে’ আমার পিছনে লেগেছে। পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে… শালা, আমিও ছাড়ব না। এই পাপী পৃথিবীর খোয়া ওঠা রাস্তায় হয় আমি হাঁটব না-হলে হারামি! মুম্বাই শহরতলির দূষিত বাতাসে হয় আমি শ্বাস নেব না-হলে হারামি! আমার চোখে মুখে কি জিঘাংসা ফুটে উঠেছিল? মনোজ আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হল তোর? কী ভাবছিস?”

    আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম, “কিছু না।”

    যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার বাসায় ফিরে যাওয়া দরকার। হারামিকে খুন করার ব্যাপারে যখন মনস্থির করেই ফেলেছি তখন রূপুর দেওয়া ঝিনুকের মালাটা খুঁজে বার করা জরুরি। কলকাতা থেকে আসার সময় একটা খালি চকোলেটের কৌটোয় পুরে স্যুটকেসে ঢুকিয়েছিলাম, মনে আছে। ছোটকাকা জেনিভাতে একটা কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করতে গিয়েছিল। তখন আমি ইঞ্জিনিয়ারিঙে… থার্ড ইয়ার। সেখান থেকে আমার জন্য চকোলেটের কৌটোটা এনেছিল। ঢাকনা খুললে প্লাস্টিকের মোড়কে পায়রার ডিমের সাইজের খান কুড়ি হালকা বাদামি রঙের মিল্ক চকোলেট। মুখে দিলে মুহূর্তের মধ্যে গলে যায়, তখন বোঝা যায় ভিতরে একটা বাদাম আছে। রূপুই বেশির ভাগ চকোলেট খেয়েছিল। আমায় বলেছিল, ‘ছেলেরা আবার চকোলেট খায় নাকি?’ মুম্বাইতে নতুন বাসায় এসে আলমারির কোন তাকে কৌটোটা তুলে রেখেছি মনে নেই। বাসায় ফিরে খুঁজতে হবে।

    রূপু মানে রূপবতী মণ্ডল বছর দুয়েকের ছোট ছিল আমার থেকে। ঝিনুকের মালাটা রূপুর দেওয়া পার্টিং গিফট। কলেজ ছেড়ে চলে আসার দিন রূপু আমায় উপহার দিয়েছিল। অন্য সময় সাজগোজ করত না, সেদিন চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা রং লাগিয়ে আমার হোস্টেলের ঘরে এসেছিল। বলেছিল, “এই মালাটা মন্ত্রপূত, এটা ছুঁয়ে তুমি যা ইচ্ছে করবে, তাই হবে। কেউ আটকাতে পারবে না।”

    আমি ভেবেছিলাম রূপু মজা করছে। মালাটা তখনও গলা থেকে খোলেনি রূপু। খেলার ছলে ওর কোমর জড়িয়ে কাছে টেনে বুকের ওপর পড়ে থাকা ঝিনুকের মালায় ঠোঁট ছুঁইয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। রূপু আমার মুখে হাত চাপা দিয়েছিল, বলেছিল, “তড়বড় কোরো না। মাত্র তিনটে ইচ্ছাই পূর্ণ হবে। তার বেশি নয় কিন্তু।”

    রূপুর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেকেরই চক্ষুশূল ছিল। আমাদের যখন আলাপ হয় রূপু তখন ফার্স্ট ইয়ার, কলেজে সবে জয়েন করেছে। প্রথমবার দেখেই আমি রূপুর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। হোস্টেলে আমার রুমমেট শিবু বলেছিল, “কী যে দেখেছিস তুই ওর মধ্যে! চুলগুলো কাকের বাসা, সাত জন্মে আঁচড়ায় না। গাল ভর্তি ব্রণ। মেয়েদের একটু রং-ঢং না থাকলে মানায় নাকি?”

    “রূপবতী মণ্ডল নামের কোনও মেয়েকে চিনিস?” তন্ময়দাও জিজ্ঞেস করেছিল। স্টুডেন্টস ইউনিয়নের অফিসে বসে কথা হচ্ছিল। আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ, চিনি। কেন?”

    তন্ময়দা তখন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের জেনেরাল সেক্রেট্রারি, ইলেকশনে রেকর্ড ভোট পেয়ে জিতেছে, বলেছিল, “আমাদের কাছে খবর আছে মেয়েটা আসলে বিরোধী পার্টির চর।”

    আমি বেজার মুখ করে বলেছিলাম, “হতে পারে, আমায় বলছ কেন?”

    তন্ময়দা চোখ সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “গত কাল রাজীব তোকে দেখেছে, মেয়েটার হাত ধরে ভিক্টোরিয়ার বাগানে ঘুরছিলি। যা পেট পাতলা ছেলে তুই! আমি নিশ্চিত মেয়েটা তোকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাদের ভিতরের খবর জেনে ওদিকে চালান করে দেবে। নাহ, তোকে আর কোর গ্রুপে রাখা যাবে না দেখছি!”

    তন্ময়দার কথা শুনে শিবু হেসে বলেছিল, “তন্ময়দাটা যে কি ভুলভাল বকে! রূপু চর হবে কী করে? চরী বললেও না-হয় মানা যেত।”

    আমি বলেছিলাম, “চর না চরী সেই নিয়ে তোকে আর চচ্চড়ি পাকাতে হবে না। আমি বুঝে নেব।”

    রূপু শুনে খিলখিল করে হেসেছিল। বলেছিল, “তোমার তন্ময়দাকে বলে দিও, চর, চরী কিছুই নয়। আমি হলাম গিয়ে চেড়ী, রাক্ষসী, দাসীগর্ভে জন্ম, রাক্ষস-রাজ শঙ্খবাহনের সেজ মেয়ে।”

    এই তো সেদিন বললি তোর বাবার নাম বিধান মণ্ডল, ক্যানিঙের কাছে কোন একটা গ্রামে বাড়ি,” আমি প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। রূপু বলেছিল, “বিধান মণ্ডল আমার পালক পিতা। বঙ্গোপসাগরের নিচে রাক্ষসপুরী আছে। সেটাই আমার ওরিজিনাল বাড়ি।”

    আমি হেসে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তা রাক্ষসপুরী থেকে ক্যানিঙে এসে উঠলি কী করে? ভটভটি নৌকো চেপে?”

    রূপু ভয়ানক সিরিয়াস মুখ করে বলেছিল, “সে এক বিদিকিচ্ছিরি কাণ্ড! ছেলেবেলায় একদিন ইলিশ-মাসির সঙ্গে পাড়া বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। বলা-কওয়া নেই হঠাৎ একটা জোরালো স্রোত উঠল। আমরা টাল সামলাতে না পেরে মাতলা নদীতে এসে পড়লাম। সেখানে ইলিশ-মাসি বিধান মণ্ডলের জালে ধরা পড়ল। সঙ্গে আমি। ফুটফুটে মেয়ে, মানুষের বাচ্চার মতোই দেখতে, বিধান মণ্ডল আমায় ঘরে নিয়ে গেল। সেই থেকে…”

    আমি রূপুকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলাম, “তুই পারিস বটে। বানিয়ে বানিয়ে কথা বলার একটা সীমা আছে।”

    রূপু ঠোঁট বেঁকিয়ে বলেছিল, “আমি মোটেই বানিয়ে বানিয়ে কথা বলি না। বিশ্বাস না হয়, ঝিনুক ছুঁয়ে একটা উইশ করো। দেখো কী হয়।”

    সেদিন চলে যাওয়ার সময় রূপু গলা থেকে ঝিনুকের মালাটা খুলে আমার হাতে দিয়েছিল। কাজল লেপটানো কান্নাভেজা চোখে বলেছিল, “যত্ন করে রেখো। হারিয়ে ফেলো না যেন। আর মনে রেখো ঝিনুকের কাছে চাইবার জন্য আর একটা মাত্র ইচ্ছা পড়ে রইল। একটু ভেবেচিন্তে খরচ কোরো।”

    রূপুর সেদিনের চোখের জলের দায় আজও বয়ে বেড়াচ্ছি।

    ২

    সন্ধেবেলা অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরলাম। একটা অস্বস্তি সারাদিন জ্বালিয়ে খেয়েছে। বাসায় ফিরে ঝিনুকের মালাটা খুঁজে পাব তো? মনে হচ্ছিল মালাটা চট করে পেয়ে গেলে হারামিকে মারার ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। সম্ভবত নিজেকে হাত নোংরা করতে হবে না।

    রূপু বলেছিল, “আগে শান্ত মনে ভেবে নাও কী চাও। তারপর মালার যে কোনও একটা ঝিনুক ছুঁয়ে মনে মনে ইচ্ছাটা বলো। এমন ভাবে বলো যাতে তোমার ঠোঁট নড়বে অথচ কোনও শব্দ হবে না। দেখবে ইচ্ছাটা ঠিক ফলে যাবে। তবে হ্যাঁ, একবার ইচ্ছে করলে যতক্ষণ না কার্যসিদ্ধি হচ্ছে ততক্ষণ তুমি সেই ইচ্ছেটাকে আটকাতে পারবে না।”

    আমার তখনও সন্দেহ কাটেনি। বলেছিলাম, “কেন? আটকালে কী হবে?”

    রূপু বলেছিল, “তখন ইচ্ছেটা তোমার ওপরই বর্তাবে। ধরো তুমি ইচ্ছে করলে আমার ঠোঁটের ওপর একটা তিল-ফুল ফুটুক। সেটা ফোটার আগেই আবার ভাবলে—নাহ, রূপু যেমন আছে তেমনই সুন্দর, তিলের দরকার নেই, তখন তোমার ঠোঁটের ওপরই তিল ফুটবে।”

    আলমারি খুলতেই চকোলেটের বাক্সটা পেয়ে গেলাম। তার মধ্যে ঝিনুকের মালাটা যথাস্থানে। সাদা চোখে ঝিনুকগুলোকে দেখলে মনেই হয় না তাদের বুকের ভিতর কেউ জাদু লুকিয়ে রেখেছে। কোনওটা সাদা, কোনওটা হালকা হলুদ রঙের। খসখসে গা, সাধারণত যেমন হয়। রূপু সেদিন সালোয়ার কামিজ পরে এসেছিল। ওড়নাটা বুক থেকে নামিয়ে রেখেছিল। ওর বুকের ভাপে নেতিয়ে পড়ে থাকা একটা ঝিনুক ছুঁয়ে সেদিন ফিসফিস করে বলেছিলাম, “তোকে চাই রূপু, সারা জীবনের জন্য তোকে চাই।”

    ঝিনুকের মালাটার কাছে সেটাই ছিল আমার প্রথম চাওয়া। রূপু ভঙ্গুর হেসে বলেছিল, “এ আবার কেমন চাওয়া? এমন করছ যেন পাওনি আমায়?”

    আমি ওর চোখে চোখ রেখে বলেছিলাম, “বুঝিস না নাকি কী ভাবে চাই?”

    রূপু আমার দিকে দু’হাত বাড়িয়ে বলেছিল, “নাও না তবে, যেমন করে চাও…”

    সেই প্রথম আমরা দু’জনে দু’জনকে নিবিড় করে ভালবেসেছিলাম। হোস্টেলের বন্ধ দরজার আড়ালে। রূপু আমার উন্মুখ শরীর অসম্ভব ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিল। কেন জানি না, তার আগে পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল ভালবাসা জ্বরের মতো, ভালবাসলে উত্তাপে গা পুড়ে যায়, কান দিয়ে হলকা বেরোয়। সেদিন ভুল ভেঙে গিয়েছিল। জানতে পেরেছিলাম ভালবাসা ঠিক তার উলটো, অনেকটা জ্যোৎস্নার মতো। স্নিগ্ধ। কোমল। আরামপ্রদ।

    কিছুক্ষণ পরে শরীরে পোশাক চড়াতে চড়াতে রূপু বলেছিল, “চলো…”

    আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম, “কোথায়?”

    রূপু বলেছিল, “কোথায় আবার? তোমার বাড়ি। এই তো একটু আগে সারা জীবনের জন্য আমাকে চেয়ে নিলে।”

    আমি আঁতকে উঠে বলেছিলাম, “রূপু, তুই পাগল হলি নাকি? বাড়িতে কী বলব? কী পরিচয় দেব তোর?”

    রূপু অবুঝ গলায় বলেছিল, “সে আমি কী জানি? চাইবার আগে তোমার ভাবা উচিত ছিল।”

    আমি ওকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলাম, “শোন, আগে একটা চাকরি পাই, তারপর না-হয়…”

    রূপু ঘাড় গোঁজ করে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার কথার জবাব দেয়নি। কিন্তু হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল তার কথার অন্যথা হবে না। সে আমার সঙ্গে যাবেই। আমার রাগ হয়ে গিয়েছিল। রাগ যখন মাথায় ওঠে দিগ্বিদিক জ্ঞান হারাই। চিরকালই। আমি দাঁতে দাঁত ঘষে বলেছিলাম, “রূপু, তুই কি আমায় ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছিস?”

    রূপু ম্লান হেসে বলেছিল, “তোমার হাতে আরও দুটো ইচ্ছা তো আছেই…”

    রূপুর কথা শেষ হওয়ার আগেই ওর গলার ঝিনুকের মালায় আঙুল ছুঁইয়ে আমি চিৎকার করে বলেছিলাম, “চাই না তোকে, যা!”

    রূপুর চোখের জলে ওর গালের ব্রণকূপগুলো ভরে উঠেছিল। মুখের ত্বক অত্যধিক মসৃণ দেখাচ্ছিল। ঝেঁপে বৃষ্টি এলে যেমন মাটির থেকে দাগ মুছে যায়। ঝিনুকের মালাটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে রূপু চলে গিয়েছিল। আর কোনওদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। কিছুদিন ফোনে যোগাযোগ ছিল। এমন নয় আমি দেখা করার চেষ্টা করিনি। কিন্তু কোনও না কোনও কারণে দেখা করা হয়ে ওঠেনি। একাডেমিতে একটা নাটক দেখতে যাওয়ার কথা ছিল রূপুর সঙ্গে। টিকিট কাটা ছিল। আমার একটা ইন্টারভিউ পড়ে গেল সেদিন। সব মিটিয়ে গিয়ে উঠতে পারলাম না। একটা রবিবার ইকো পার্কে আসবে বলেও এল না রূপু। মাস তিনেক পরে আমি চাকরি নিয়ে দুর্গাপুর চলে গেলাম। বুঝতে পারছিলাম রূপুর দিক থেকে আগ্রহ ফুরিয়ে আসছে। কিছুদিন পরে আমিও হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। একবার কোলকাতা ফেরার সময় ব্ল্যাক ডায়ামণ্ডে মোবাইল ফোনটা চুরি হয়ে গেল। রূপুর নম্বরটাও। নতুন ফোনে নাম মিলিয়ে নম্বর তোলার সময় কিছুতেই রূপুর নম্বরটা মনে পড়ল না।

    অথচ রূপুর ওপর মায়াটান ফুরোল কই? এখনও রূপুর মুখটা মনে পড়লে বুকের মধ্যে টনটন করে। রূপুর কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে এই ঝিনুকের মালার আরও একটা ইচ্ছাপূরণের ক্ষমতা আছে। মালাটাকে হাতের তালুর মধ্যে চেপে ধরে আমি আমার তিন নম্বর এবং শেষ চাহিদা পেশ করলাম। হারামির গুপ্তহত্যা। একজন অভিজ্ঞ গুপ্তঘাতকের নিয়োগ। যে হারামিকে খতম করে ঘটনাস্থলে প্রমাণ ছেড়ে আসবে না। মোদ্দা কথা হল হারামির মৃত্যুর জন্য আমাকে যেন কেউ কোনওভাবেই সন্দেহ করতে না পারে।

    টুং করে একটা মেসেজ ঢুকল মোবাইলে। চমকে উঠে ভাবলাম সেই গুপ্তঘাতক নয়তো! বোধহয় যোগাযোগ করতে চাইছে। বিশদে জানতে চাইছে কাকে মারতে হবে। ছবি চাইছে। কিন্তু এর মধ্যেই! এই তো সবে নিঃশব্দে ইচ্ছাটা আওড়ালাম। মোবাইল তুলে দেখলাম হারামির পিএ-র মেসেজ। আগামী কাল সন্ধেবেলা একটা ককটেল পার্টির নেমন্তন্ন। অফিসের কাছেই একটা হোটেলের লনে আয়োজন। একটা প্রোজেক্টের কাজ সবে শেষ হয়েছে। তারই উল্লাস-উদযাপন। এই ধরণের পার্টি অফিসের নিত্যকার ঘটনা। আমার জন্য আলাদা করে পিরিত দেখানো নয়। টিম নেটওয়ার্কে ব্রডকাস্ট মেসেজ। প্রোজেক্ট টিমের মেম্বারদের সস্ত্রীক অথবা সসঙ্গী হাজিরা দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সেটারও একটা গূঢ় অভিসন্ধি আছে। ভরপুর মদ্যপান করে যদি কারও পদস্খলন হয় তার সঙ্গী বা সঙ্গিনী তাকে ঘাড়ে করে তুলে নিয়ে যেতে পারবে। তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অফিসকে নিতে হবে না।

    সন্ধে পেরিয়ে রাত নামল। কেউ যোগাযোগ করল না। বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিলাম। ঘুমোতে পারছিলাম না। যদি কেউ ফোন করে! ধরতে না পারি! রাত বাড়ছিল। হতাশাও। ঝিনুকের মালাটায় হয়তো আদৌ কোনও বিষ নেই। প্রথম দুটো ইচ্ছাপূরণ নেহাত কাকতালীয় ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়। রূপু আমায় স্রেফ বোকা বানিয়েছিল। আমিও যেমন! সমুদ্রের নিচে রাক্ষস-রাজের প্রাসাদ, রূপবতী রাজকন্যা, মন্ত্রপূত ঝিনুকমালা… সব বিশ্বাস করে বসেছিলাম। ভোররাতের দিকে চোখের পাতা লেগে এসেছিল। স্বপ্ন দেখলাম রূপু এসে দাঁড়িয়েছে শিয়রের কাছে, বলছে, “শেষ সুযোগটাও নষ্ট করলে!”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কীসের সুযোগ?”

    রূপু বলল, “কেন? আমাকে আবার কাছে পাওয়ার।”

    আমি বলতে গেলাম, “তুই নিজেই তো ছেড়ে চলে গিয়েছিলি,” কিন্তু আমার ঠোঁট নড়ল না। প্রাণপণে চেষ্টা করলাম কথা বলার। মুখ দিয়ে একটা শব্দও বেরোল না। গালের পেশী পাথরের চাতালের মতো নিথর নিস্পন্দ হয়ে পড়ে রইল। আমার কী পক্ষাঘাত হল? আতঙ্কে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলে দেখলাম জানলার বাইরে সাদা রোদ্দুর। বুঝতে পারিনি এত বেলা হয়ে গেছে। অফিস পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে। রূপু, তুই বড় বিরক্ত করিস। কী চাস বল তো? আমায় কি শান্তিতে বাঁচতেও দিবি না?

    ৩

    সন্ধ্যা ঘন হচ্ছে। হারামি পার্টিতে আসতে দেরি করছে। খবর পেয়েছিলাম বৌ নিয়ে আসবে। তার সাজুগুজু করতে সময় লাগছে বোধহয়। লনের একদিকে হোটেলের বাউন্ডারি ওয়াল, পাম গাছের সারি। অন্য তিন দিক নিচু ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা। ভিতরে মখমলের মতো ঘাসের ওপর আট-দশটা টেবিল পাতা। এক ধারে একটা টেবিলের ওপর বার সাজানো। সারিবদ্ধ রকমারি পানীয়র বোতল। দু’জন বার টেন্ডার গ্লাসে পছন্দ মতো পানীয় ঢেলে জল কিংবা সোডা মিশিয়ে লোকজনের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। পানীয়র স্বাদ লঘু করা আমার বিলকুল না-পসন্দ। পাত্রে তিন টুকরো বরফ নিয়ে একটা টেবিলে গিয়ে বসলাম। এমন জায়গায় বসলাম যেখান থেকে লনে ঢোকার গেটটা চোখে পড়ে।

    মাথাটা ভার হয়ে আছে। সকাল থেকেই। গত রাতে ভাল ঘুম হয়নি। অফিসে এসেই ক্যানটিনে ঢুঁ মেরেছিলাম। চোখ জ্বালা করছিল। কালো কফি নিয়ে বসেছিলাম। মনোজের আসার সময় হয়নি। টেবিলের উলটো দিকে একজন অচেনা লোক এসে বসল। মাঝারি হাইট, দাড়িগোঁফ কামানো, সাধারণ চেহারা। আগে কোনওদিন অফিসে দেখিনি। জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম নতুন জয়েন করেছে কি না। কোন ডিপার্টমেন্ট। লোকটা ঠান্ডা গলায় বলেছিল, “চিন্তা করবেন না। কাজ হয়ে যাবে।”

    চমকে উঠেছিলাম। তুতলিয়ে বলেছিলাম, “তা-তার মানে?”

    লোকটা অল্প হেসে বলেছিল, “মানে আপনার থেকে ভাল আর কে জানে?”

    আমার কৌতূহল হয়েছিল, জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আমার ঠিকানা পেলেন কোথা থেকে?”

    লোকটা সরাসরি উত্তর দেয়নি, নির্লিপ্ত মুখে বলেছিল, “আমি জাস্ট আপনাকে জানিয়ে গেলাম… কাজটা হয়ে যাবে। আজকেই।”

    আমি বোকার মতো লোকটার কথা প্রতিধ্বনি করেছিলাম, “আজকেই?”

    লোকটা বলেছিল, “আজ সন্ধেবেলা হোটেল ব্লু-স্টারে আপনাদের টিমের একটা পার্টি আছে না? সেখানেই যা হবার হবে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আপনার বস শ্রী হারিত মিত্র ওই পার্টি থেকে বাড়ি ফিরে যাবে না।”

    আমি বলেছিলাম, “দেখবেন, কেউ যেন টের না পায়…”

    লোকটা উঠে দাঁড়িয়েছিল। দেখেছিলাম ঝোলা শার্টের নিচে ওর কোমরের কাছটা অস্বাভাবিক রকম ফুলে আছে। আমার কাঁধে আশ্বাসের হাত রেখে বলেছিল, “ভাববেন না, আপনি আমি আর ম্যাডাম ছাড়া আর কেউ জানবে না।”

    আমি ভুরু তুলেছিলাম “ম্যাডাম? কোন ম্যাডাম?”

    লোকটা বলেছিল, “সেকি? ম্যাডামকে চেনেন না? ম্যাডামই তো ফোন করে...” আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল লোকটা। যেন ম্যাডামকে না চেনা সাংঘাতিক অপরাধ।

    “আচ্ছা, আমি এখন যাই। হোটেল ব্লু-স্টারে একটা রেকি করা দরকার। সন্ধেবেলা দেখা হবে,” কোন ম্যাডাম, কী তার পরিচয় খোলসা করে না জানিয়েই লোকটা বিদায় নিয়েছিল। এমনিতেই মাথা কাজ করছিল না। তার ওপর ঝিনুক আর ভাড়া করা খুনিটার মাঝখানে হঠাৎ একজন রহস্যময়ী ম্যাডাম কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল, ভেবে কূল-কিনারা করতে পারিনি। ‘ধ্যুত্তেরি' বলে অর্ধেক কফি ছেড়ে উঠে পড়েছিলাম।

    পার্টিতে ভিড় বাড়ছিল। লনের গেটের দিকে লক্ষ রাখছিলাম। এখনও হারামির দেখা নেই। সকালে ক্যানটিনে আলাপ হওয়া সম্ভাব্য হন্তারকটাকেও দেখতে পাচ্ছিলাম না। লোকটা ঢপ দিয়ে কেটে পড়ল না তো? হয়তো কোথাও কোনও গাছের গুঁড়ির আড়ালে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে বসে আছে। আমি মদের গ্লাসে ছোট ছোট চুমুক দিচ্ছিলাম। বেশি নেশা না হয়ে যায়! হারামি-হত্যার কোনও দৃশ্য মিস না হয়!

    বৌয়ের হাত জড়িয়ে হারামি পার্টিতে ঢুকল ন’টা নাগাদ। হারামির বৌকে দেখে বুকের মধ্যে ধাক্কা লাগল। হা ঈশ্বর! এই ছিল তোমার মনে! অন্য সবার সঙ্গে আমিও উঠে গেলাম স্বাগত জানাতে। বস বলে কথা, না গেলে প্রোটকলের মর্যাদা রক্ষিত হবে না। দূর থেকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম যদিও… হারামি আমাদের সঙ্গে বৌয়ের পরিচয় করিয়ে দিল, “মিট মাই ওয়াইফ। রূপবতী… রূপবতী মিত্র।”

    আমি কায়দা-মাফিক নড করলাম, “নাইস টু মিট ইউ ম্যা’ম।”

    এতক্ষণ পার্টি চলছিল ঢিমে তালে। হারামি আসার পর হুল্লোড় তুঙ্গে উঠল। ডি-জে চটুল নাচের বাজনা লাগাল। কাপলরা লনের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল। হাতে হাতে ঘুরতে লাগল পানপাত্র। হাসি, কথা আর হালকা সুরের তালে তালে পার্টি জমে উঠল। ঠিক তখনই সকালের লোকটাকে দেখতে পেলাম। চিতাবাঘের মতো গুঁড়ি মেরে হারামির দিকে এগোচ্ছে। দেখে মনে হল সুযোগ খুঁজছে। একটু নিরিবিলি পেলেই কাজ সেরে ফেলবে।

    দু’-পাত্তর চড়াতে না চড়াতেই হারামি নেশায় টলটল করে। লোকের কাঁধে ভর দিয়ে চলে। হারামিকে একলা পাওয়া সহজ নয়। দেখলাম রূপু একা লনের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। হারামি নিশ্চয়ই রূপুকে ছেড়ে অন্যের বৌয়ের সঙ্গে নাচতে গেছে। দুশ্চরিত্র নম্বর ওয়ান। আমি উঠলাম। রূপুর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। রূপু অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, “আর কী চাও? তোমায় দেওয়ার মতো আমার কাছে আর কিছু নেই।”

    আমি শুকনো হেসে বললাম, “কিছু নয়। আর কিছু নয়। শুধু জানতে কৌতূহল হচ্ছে নিজের বরকে খতম করার জন্য ভাড়াটে খুনিটাকে কি তুইই লাগিয়েছিস?”

    রূপু আমার দিকে ফিরে তাকাল, ক্ষীণ গলায় বলল, “উপায় কী বলো? তুমি যে তাই চাইলে?”

    আমি অবিশ্বাসের হাসি হেসে বললাম, “এখনও তোর বাজে কথা বলার অভ্যেস গেল না! মাজাকি পেয়েছিস! আমি ঝিনুকের মালায় হাত ছুঁইয়ে চাইলাম আর তুই তৎক্ষণাৎ জানতে পেরে গেলি?”

    রূপু বলল, “কী করে বোঝাই! আমি ওই ঝিনুকের মালাটা গলায় নিয়ে জন্মেছিলাম। তারপর যত বড় হয়েছি মালাটাও তত লম্বা হয়েছে। ওই মালাটা আমার সঙ্গে কমিউনিকেট করে। যোগাযোগ রাখে, নিয়মিত।”

    আমি বললাম, “আচ্ছা, আচ্ছা! তর্কের খাতিরে যদি তা মেনেও নিই, কিন্তু নিজের বরকে মারার জন্য… তুই কী রে? ভালবাসিস না বরকে?”

    “ভালবাসি গো, খুব ভালবাসি…” রূপু ফুঁপিয়ে উঠল, “কিন্তু তোমায় কথা দিয়েছিলাম যে…”

    আমি বললাম, “কাঁদিস না রূপু, সবাই দেখছে।”

    রূপু অসহিষ্ণু গলায় বলল, “দেখুক গে যাক। আমার কিছু যায় আসে না।”

    আমি ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললাম, “এক কাজ কর, তুই লোকটাকে ফোন করে বারণ করে দে, আমি না-হয় আমার ইচ্ছে ফিরিয়ে নিচ্ছি।”

    রূপু অস্ফুট স্বরে আর্তনাদ করে উঠল। আমার হাত চেপে ধরে বলল, “নাহ্‌… বলেছিলাম না, মাঝপথে ফিরিয়ে নিলে ইচ্ছেটা উলটে তোমার ওপর বর্তাবে।”

    আবার সেই এক কথা! আমার বিরক্ত লাগছিল। আমি জোর করে রূপুর হাত ছাড়িয়ে নিলাম, বললাম, “ধ্যুর, আই কেয়ার আ ড্যাম! যা হয় হোক, আমি পরোয়া করি না।”

    রূপু অনুনয় করে বলল, “প্লিজ, ওইভাবে বোলো না। তোমার কিছু হলে…”

    “ছাড় তো! আমার কিস্যু হবে না,” আমি বললাম। নিজের কানেই কথাগুলো খসখসে শোনাল। রূপুকে দাঁড় করিয়ে রেখে আমি নিজের টেবিলে ফিরে আসছিলাম। মাঝপথে একজন পথ আটকাল। সেই লোকটা। আমি বললাম, “এই তো আপনাকেই খুঁজছিলাম। একটু সাইডে আসুন, কথা আছে।”

    লনের এক দিকে আলো কম। লোকটাকে সেখানে টেনে নিয়ে গিয়ে বললাম, “আপনার ম্যাডামের সঙ্গে আমার কথা হয়ে গেছে। কাজটা আপনাকে আর করতে হবে না।”

    লোকটা আমার দিকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল, বলল, “ম্যাডাম বললেন এই কথা?”

    আমি বললাম, “আপনি কি জানেন যাকে আপনি কোতল করতে যাচ্ছিলেন তিনি ম্যাডামের স্বামী? ওকে মেরে ফেললে আপনার ম্যাডামের সংসারটা ভেসে যাবে। আপনি কি তাই চান?”

    লোকটা বলল, “আরে দাদা, সম্পর্ক-টম্পর্ক নিয়ে ভাবতে বসলে তো আমাদের বিজনেস ফেল হয়ে যাবে। আমরা ওসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। টাকা পাই মানুষ মারি। ব্যস!”

    আমি বললাম, “টাকা তো মনে হয় অলরেডি পেয়ে গেছেন। এখন মানুষ মারার ব্যাপারটা ভুলে যান।”

    লোকটা গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলল, “উঁহু, টাকা যখন নিয়েছি, কাউকে না কাউকে মারতেই হবে। প্রত্যেকটা বিজনেসেরই একটা এথিকস বলে ব্যাপার থাকে তো? নাকি?”

    আমি বললাম, “ম্যাডামকে টাকা ফেরত দিয়ে দিন, তাহলেই তো মিটে গেল ঝামেলা।”

    লোকটা বলল, “সেটাও হওয়ার যো নেই যে। একবার কোনও কাজের জন্য টাকা নিলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিষিদ্ধ। টার্মস এন্ড কন্ডিশনে পরিষ্কার লেখা আছে।”

    আমি বললাম, “তাহলে উপায়?”

    লোকটা যেন দুঃখ পেল। কোমরে গুঁজে রাখা একটা আগ্নেয়াস্ত্র বার করে আনল। দেখেই বুঝলাম পিস্তলটার মুখে সাইলেন্সর লাগানো। বিষণ্ণ মুখে বলল, “উপায় একটাই, রাম না-হলে শ্যাম, যদু না-হলে মধু, ওয়াই না-হলে এক্স, হাজব্যান্ড না হলে এক্স…”

    লোকটার অস্ত্র সমেত হাত রূপবতীর ঝিনুক-মালার তিন নম্বর ইচ্ছেটা পূর্ণ করতে উদ্যত হল। আমি চোখ বুজলাম।



    অলংকরণ (Artwork) : কল্লোল রায়
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  •   (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments