



ডাঃ সেনকে গৃহিণীর নানা ডাক্তারি রিপোর্ট দেখিয়ে, পরিবর্তিত প্রেসক্রিপশনের খুঁটিনাটি বুঝে নিয়ে রাত সাড়ে দশটায় হারলেম পয়েন্ট ক্লিনিক থেকে বেরোলাম। একে ডাঃ সেন আজ অনেক দেরি করে এসেছেন, তার ওপর আজ রোগীও ছিল গাদা। কারোর ওপরই রাগ করার নেই।
কিন্তু এত রাতে ফিরব কী করে? সরকারি–বেসরকারি প্রায় সব বাস এখন ঘুমোতে গেছে। অ্যাপ-ক্যাব বুক করার স্মার্ট ফোনটাও সঙ্গে নেই। থাকলেও লাভ হতো না, কারণ মানসিক ও বৌদ্ধিক আলস্যে এক বুড়ো ধাড়ি হয়েও অ্যাপ-ক্যাব বুক করার কায়দা আমার অনায়ত্ত। হাতে রইলো শুধু হলুদ ট্যাক্সি, যার চালকেরা এক-একজন রাতের কলকাতার মহারাজ। মিটারে চালানো তো সেই লকডাউনের সময় থেকেই অতীতের বস্তুতে পরিণত। এখন এক্সাইড মোড় থেকে আমার চেতলার বাড়ি দূরে থাক, সামান্য রাসবিহারী মোড় পৌঁছে দিতেই নিতান্ত দয়া করে রাজি হবে, তবে দুশো-আড়াইশোর কমে নয়।
এক্সাইড মোড়ে এসে রাস্তা পেরোতে যাচ্ছি, ছেলের ফোন এল —তোমায় কি ওলা-উবর কিছু বুক করে দেব? নাহলে বলো, আমি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।
অন্তত এক্সাইড মোড়টা পেরিয়ে মিনিট পাঁচেক দাঁড়াই, কিছু না পেলে তোকে জানাচ্ছি —এই বলে ফোনটা রেখে দিলাম।
মোড় পেরিয়ে স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই ভগবানের দেখা।
না, ইনি সেই সর্ব–আকাঙ্ক্ষিত ঈশ্বর নন। কারণ, এক তো তাঁকে দেখাই যায় না, উপরন্তু এই অধম তো সেই সর্ব-শক্তিমানের অস্তিত্বেই বিশ্বাসী নয়।
অবশ্য ভগবানের দেখা একেবারেই পাইনি, এমন নয়। আমার পুরোনো পাড়া গোপালনগরেই ছিল এক ভগবান শর্মা। ঢাকুরিয়া —বিবাদী বাগ রুটে মিনিবাস চালাতো। ঐ মিনিবাসে ওর সাথে একবারই দেখা হয়েছিল। বাস ষ্টার্ট দেবার আগে কন্ডাকটরকে ডেকে বলেছিল, এই দাদাকে চিনে রাখ, আমার পাড়ার লোক, নাম দেবুদা, আসলে দেওতা, বাসে উঠলে কখনো ভাড়া নিবি না।
বিবাদী বাগ থেকে রাসবিহারীর ভাড়া তখন ন’টাকা। ভাবলাম, ঠিকই আছে। আমার মতো দেবতার প্রণামী ঐ ন’টাকাই ঢের।
অবশ্য ভগবান বা ঐ কন্ডাক্টরকে ঐ মিনিবাসে আর দেখিনি। এখন তো ঐ রুটটাই উঠে গেছে। আর আমিও পুরোনো পাড়া ছেড়েছি প্রায় চল্লিশ বছর হলো।
তবে ভগবান আমায় একেবারে ছেড়ে যাননি। মাঝে-মধ্যেই বিভিন্ন সংকটমুহূর্তে তাঁর অপ্রত্যাশিত দিব্যদর্শন আমায় কৃতার্থ করে দেয়। আমার সেই এক ও একমাত্র ভগবানের নাম —১৭ নম্বর বাস। এটি আমার কাছে ভগবান, কারণ কলকাতার এই একটিমাত্র বাস আমার বাড়ির নিকটতম দূরত্ব দিয়ে যায়।
তো সেই সংকট-নিশীথে আমার ভগবানের দেখা পেলাম। কোনো ভক্তের ডাকে স্বয়ং ভগবানও এইভাবে এত দ্রুত সাড়া দেন না। কারণ চেতলা–হাওড়া–চেতলাগামী ১৭ নম্বর বাসের যাত্রাপথ রাসবিহারী-হাজরা-মোমিনপুর-খিদিরপুর হয়ে। এক্সাইড মোড়ে এই বাসের আসার কথাই নয়। তবে কোন ব্যতিক্রমী দিনে রুট পাল্টাতে বাধ্য হলে অথবা শেষ ট্রিপ তাড়াতাড়ি সারতে চাইলে কার্জন পার্ক থেকেই রুট পাল্টে পার্ক স্ট্রিট —এক্সাইড —রাসবিহারী হয়ে চেতলায় ফেরে। আমার কপালে সেদিন সেই বিরল সৌভাগ্য লেখা ছিল।
দিনের শেষ বাস। উপরন্তু পরিবর্তিত রুটে। ফলে যাত্রীও ছিল হাতে গোনা। অতগুলো ফাঁকা আসনের কোনটাতে বসবো, ভাবছি, এমন সময় এক তরুণী কণ্ঠের আহ্বান —কাকু, এদিকে আসুন।
কে ডাকলো? খোঁজার বিশেষ দরকার হলো না। বাসের ছ-সাতজন যাত্রীর মধ্যে নারী সেই একজনই। সামনের দরজা-লাগোয়া মহিলা-আসনে বসে হাতছানি দিয়ে ডাকলো, কাকু, এইদিকে।
কাকু ডাক কেন? মেয়েটা কি আমার চেনা? কিন্তু আমি তো স্মৃতি খুঁড়েও একে মন করতে পারছি না। অবশ্য আমার স্মৃতিশক্তি এখন অনেকটাই ধূমাবৃত। চেনা লোকজনের নামও অনেকসময় মনে পড়ে না।
‘কী হলো, কাকু, বসুন,’ —মেয়েটা হাত দিয়ে ওর পাশের আসনটা দেখালো।
‘কিন্তু এতো লেডিস সীট,’ মৃদু আপত্তি জানালাম।
‘বসুন তো, এত রাতে আর মেয়ে তেমন উঠবে না।’
‘কিন্তু জেনারেল সীটও তো অনেক ফাঁকা--’
‘না, এখানেই বসুন, দরকার আছে,’ —প্রায় হুকুমের সুরে বললো মেয়েটা। হুকুম, না কি আর্তি?
বসার পর মেয়েটাই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দিল, ‘দেখছেন তো, প্রায় ফাঁকা বাস। মেয়ে আমি একা। এই সময় কেউ কেউ কাছ ঘেঁষে বসার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে দুয়েকটা মাতাল-বদমাশও থাকে। আপনি পাশে বসলে সেই ভয়টা থাকবে না।’
‘কী করে জানলে যে আমিও কোন মাতাল-বদমাশ নই?’
‘আমি তো আপনাকে চিনি। আপনি ‘কুন্তলিকা’য় রাণা উকিলদের পাশের বাড়িতে থাকেন।’
এবার আমার চমকাবার পালা, ‘তুমি এটাও জানো!’
‘হ্যাঁ, একসময় মাঝেমধ্যেই যেতে হতো ঐ উকিলবাড়িতে। আমার বাড়ি মালতীবাগানে। ওখানে বাড়িওলা-ভাড়াটে আর সম্পত্তিভাগের মামলা লেগেই থাকে। হাতের কাছে উকিল বলতে রাণা উকিল আর ওর বাবা উকিল। এদিকে পাড়ার লোকেরা ইংরিজি, আইন-- কিছুই বোঝে না। তাই কারো কারো সাথে আমাকেও যেতে হতো। সেই সুবাদেই আপনাকে চেনা।’
মালতীবাগান আসলে একটি পাঁচমিশালি এলাকা, যেখানে কাজের মাসি এবং ছোটখাটো বাড়ি-গাড়ি-কারখানা মালিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
কথা হতে হতে বাসটা যদুবাবুর বাজার পৌঁছলো। ছেলেকে ফোন করে বললাম, চিন্তা করিস না। ভগবানের দেখা পেয়ে গেছি।
‘ভগবান!’
‘হ্যাঁ, সতেরো নম্বর। আর আধঘন্টায় পৌঁছে যাব।’
ফোনটা রাখতেই মেয়েটা বললো, ‘সময়টা একটু বাড়িয়ে নিলেই পারতেন।’
কারণ জিজ্ঞেস করার আগেই মেয়েটা বললো, ‘একটা রিকোয়েস্ট করব? আমাকে একটু বাড়ি অবধি পৌঁছে দেবেন?’
আমাদের ‘কুন্তলিকা’ আবাসন থেকে মালতী বাগান মেরেকেটে একশো মিটার। বাস টার্মিনাসের লাগোয়া। মেয়েটাকে বললাম, ‘আমার সাথে তো সদ্য আলাপ। বাড়ি অবধি যেতে বলছো কেন?’
‘আপনার কাছে সদ্য পরিচয়, কিন্তু আমি আপনাকে ভালোই চিনি। শুধু উকিলবাড়ির সূবাদে নয়। ডালহৌসি লাগোয়া একটা হোটেলের রিসেপশনে আমার দুটো-দশটা ডিউটি। সতেরো নম্বর বাসেই যাই। মাঝেমধ্যেই আপনাকে দেখি। জানলার ধারে বসে গোটা রাস্তাই কোন বই বা পত্রিকায় মুখ গুঁজে থাকেন।’
‘অ্যাতো লক্ষ করেছো! আমি তো কই তোমায় দেখেছি বলে মনে করতে পারি না।’
‘টিকিট কাটার সময় ছাড়া আর কোনো দিকে আপনি তাকান?’
‘কী করি, বলো। বাড়িতে প্রচুর না-পড়া বই। কিন্তু পড়ার সময় আর বার করতে পারি না। এদিকে সময় তো এগিয়ে আসছে।’
‘কীসের সময়?’
‘কীসের আবার? ওপারে যাবার। সত্তর পেরিয়ে আর ক’টা দিনই বা পড়ে থাকে, বলো।’
‘কাকু, বয়স একটা সংখ্যামাত্র। তাছাড়া আপনি এখনো যথেষ্ট চলাফেরার মধ্যে আছেন।’
‘ঠিক আছে। বাসটাও চেতলায় ঢুকে পড়েছে। এখন বলো, আমায় তোমার বাড়ি অবধি যেতে বলছো কেন।’
‘সত্যিটাই বলি। আপনার সাথে আলাপ করার ইচ্ছে থেকে। অনেকদিনের ইচ্ছে।’
‘কথাটা তিরিশ বছর আগে তোমার বয়সী কোন মেয়ের মুখে শুনলে খুশি হতাম।’
‘এখনো হবেন। চলুন, স্টপেজ এসে গেছে।’
নামলাম। মেয়েটা বললো, ‘আমাদের বাড়ি সামনেই। আপনার বেশি সময় লাগবে না।’
মালতীবাগানের মুখটা এত রাতেও সরগরম - সব বয়সের নারী-পুরুষের ভিড়ে। পুরুষেরা অনেকেই দ্রব্য-প্রভাবে মেজাজে মহাদেব। আর মহিলারা বিনা দ্রব্যেই নরমুণ্ডধারিণী এবং তাঁদের মুখের বাণী বিষয়ে বিশদে না বলাই ভালো। তার সাথে যুক্ত এদের অদম্য কৌতূহল। বিশেষত অপরিচিত বা স্বল্প-পরিচিত কেউ পাড়ার কারো সঙ্গে থাকলে।
মালতীবাগানে ঢুকতে ঢুকতে টের পেলাম উত্তেজিত, লোম-খাড়া বেড়ালের মতো গলিমুখে সমাগত সেই জনতার চোখগুলোও কৌতূহল ও উত্তেজনায় চকচক করছে।
গলির মুখ থেকে শ-দেড়েক পা হাঁটলেই মেয়েটার বাড়ি। দরজা খুলে তার মায়ের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। মেয়েটা বললো, ‘এই কাকু ‘কুন্তলিকা’য় থাকেন, রাণা উকিলদের পাশে। ফেরার সময় বাসে আলাপ হলো। এত রাত নাহলে ভেতরে যেতে বলতাম। কাকু খুব ভালো। আলাপ করলে তোমারও ভালো লাগবে।’
নমস্কার বিনিময়ের পর মহিলা বললেন, ‘একদিন আসবেন, দাদা। ওর বাবার সাথেও আলাপ হবে। অনেক গল্প করা যাবে।’
‘নিশ্চয়ই আসব। আপনাদের পাড়ার মুখে যে মারুতি সার্ভিস স্টেশন, ওখানে মাঝেমধ্যে গাড়ি নিয়ে আসতে হয়। ঐরকম কোন একদিন চলে আসব।’
হাসিমুখে বিদায় নিলেও পাড়া থেকে বেরোনোটা খুব সহজ হবে না, জানতাম। গলির মুখে একটা ছেলে বললো, ‘কাকু কি দীপাদের বাড়ি গেছলেন?’
এইরে, মেয়েটার নাম তো জিজ্ঞেস করা হয়নি। বললাম, ‘নামটা তো জানি না, ভাই।’
‘সেকি, বাড়ি পৌঁছে দিলেন আর নামটাই জানেন না!’
‘আধঘন্টা আগে বাসে আলাপ। নামটা আর জিজ্ঞেস করা হয়নি।’
‘জানেন, মেয়েটা একটা হোটেলে নাচে?’
‘না ভাই, জানি না। তবে ডালহৌসির কাছে একটা হোটেলের রিসেপশনে কাজ করে, বললো।’
‘তা-ই! তাহলে পাড়ার সবাই যে বলে ও হোটেলে নাচে।’--আরেকজন বললো।
‘তোমরা ওকে জিজ্ঞেস করলেই তো জানতে পারতে। তাছাড়া নাচাটা খারাপ হবে কেন? পাড়ার ফাংশনে বা পূজোর ভাসানে মেয়েরা নাচে না?’
‘এই, কী হয়েছে রে?’--বলতে বলতে সর্দার গোছের একজন এসে দাঁড়ালো। তারপর আমার দিকে তাকিয়েই ‘কাকু, আপনি!’ বলে একেবারে প্রণাম করে বসলো। সন্দেহ হলো, দ্রব্য প্রভাবে নয়তো।
তবে ভালো করে দেখে চিনলাম —সর্বাশিস, ডাকনাম সর্বা। আমাদের পাড়ায় ছোট থেকে যাতায়াত। এর-ওর রেশন বা কেরোসিন ধরে দিত। এখন চেতলা-বালিগঞ্জ রুটে অটো চালায়। ওর অটোতে উঠলে খুশি হয়। খাতির করে। সুখদুঃখের কথাও বলে।
‘তোদের পাড়ার দীপার সাথে বাসে আলাপ হলো। তা এখানে নেমে একটু বাড়ি অবধি পৌঁছে দিলাম।’
‘ওহো, মণিদীপা। পাড়ায় দীপা বলেই ডাকে। তা সেই নিয়ে কেউ কিছু বলেছে নাকি?’
‘কেউ কিচ্ছুটি বলেনি,’ এক প্রৌঢ়া এগিয়ে এলেন, ‘তবে, বাবা, এত রাতে একটা সোমত্ত মেয়েকে এগিয়ে দিতে এসে তুমিও কিন্তু ঠিক করোনি।’
‘কী যে বলো, মাসি,’ সর্বাশিস বললো, ‘এই কাকু খুব ভালো। তুমি কি চেনো কাকুকে?’
‘আমরা সবাই চিনি রে সর্বা,’ নতুন একটা ছেলে বললো, ‘বরং কাকুই আমাদের চেনে না। আসলে কাকু যখন হেঁটে যায় সামনের রাস্তা দিয়ে, তখন কোনো দিকে তাকায় না। তাকালেও আমাদের দেখে না।’
‘ঠিক আছে, আপনি যান, কাকু। একটু এগিয়ে দেব?’ —সর্বা বললো।
‘চল্, আমরাও যাই তাহলে। কাকুর সাথে একটু আলাপ করা যাবে।’ —দু-তিনটে ছেলে উঠে দাঁড়ালো।
‘কাকু -- উঃ! কাকু -- উঃ! একটু দাঁড়াও, প্লীজ।’ দীপার উৎকণ্ঠিত কণ্ঠ ভেসে এল।
দেখি, দীপা ওর মায়ের সাথে এদিকেই আসছে। প্রায় দৌড়ে।
সামনে এসে দীপা বললো, ‘মা বলছিল, তোর কাকুর সাথে আমার একটা ছবি তুলে দিবি? তাই তোমাকে আটকালাম।’
উপস্থিত জনতার উচ্চকিত গুঞ্জনের মধ্যে দীপার মা প্রায় আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন, ‘ছেলেগুলো আপনাকে উল্টোপাল্টা কিছু বলছিল নাকি?’
বুঝলাম ছবি তোলার ইচ্ছেটা একটা বাহানা। আসলে আমার জন্যে উদ্বেগ। পাছে আমার কোনরকম হেনস্থা হয়।
তবে আমায় আর কিছু বলতে হলো না। কারণ সেই প্রৌঢ়া।
‘ও দীপার মা। আমার বাবার সাথে তুমি একাই ছবি তুলবে? আমরা কি ফেলনা?’ —বলতে বলতে আমার সেই প্রৌঢ়া কন্যা আমার বাঁ-দিকে দাঁড়িয়ে তাঁর ডান হাতটি আমার ডান কাঁধে তুলে দিয়ে বললেন, ‘এই মেয়েরা, তোরাও আয়। দীপা, ভালো করে তুলবি। দেখাবি সকলকে।’
ছবি উঠতে লাগলো। এক, দুই, তিন …। আমি তো স্থাণুবৎ। কিছুই করার নেই। সেই মহাকবির স্মরণে মনে হলো —There occur situations in Earth and Heaven, Horatio, that you can neither predict not prevent.
ফোটো সেশন শেষে দীপা আমার হাত ধরে বললো, ‘চলো, কাকু, তোমায় গলির মুখে এগিয়ে দিই।’
কিছুটা এগিয়ে বললাম, ‘এবার যেতে পারব। আর এগোতে হবে না। বাড়ি যা।’
‘কাকু, আবার দেখা হবে তাহলে।’ দীপার চোখের কোণগুলো একটু চিকচিক করছে মনে হলো।
মনে মনে বললাম, ‘দেখা হবে, আবার যদি ভগবানের দেখা পাই।’
হয়তো কাকতালীয়ই। তবে তারপর দীপার সাথে আর আমার দেখা হয়নি।