• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | Rabindranath Tagore | প্রবন্ধ
    Share
  • শতবর্ষে ‘রক্তকরবী’: একুশ শতকের আলোকে : আবৃত্তি দাশগুপ্ত

    ‘রক্তকরবী’ নাটকটির বয়স এই বছর ঠিক একশ হল। ১৯২৬ সালে লেখা নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা আজ ২০২৬ সালে এতটুকুও বদলায়নি, বদলেছে কেবল তার সংরূপ। আজকের বিশ্বে রাজারা চোখের আড়ালে জটিল আবরণের নেপথ্যে বাস করে না কিংবা খোদাইকরের দলও ধরিত্রীর পেট চিরে সোনা তুলে আনে না। কিন্তু রাজা আজও দেবতার মত একাকী এবং রাজা আজও ভীত। আজও জন্ম নিচ্ছে নন্দিনীরা যারা পালে হাওয়া আনে, যারা শোষিতদের সাহস যোগায়। এই প্রবন্ধটি আজকের সমাজের আলোকেই লেখা। একুশ শতকের এই অস্থির সমাজে কিছুই যেন ঠিক করে চলছে না, যেমনটা আমরা দেখতে পাই যক্ষপুরীতেও। শিক্ষা, চাকরি, সরকারের তাঁবেদারি, এআই-এর সর্বগ্রাসী আগ্রাসন— প্রতিটি ক্ষেত্র ভালোভাবে লক্ষ করলেই দেখা যাবে যক্ষপুরীর প্রতিফলন। এই স্বল্পদীর্ঘ আলোচনাটিতে যে দিকগুলো আলোচিত হয়েছে তা হল আইটি কোম্পানির কর্মীদের অবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, মিডিয়া, এআই এবং মুনাফালোভী পুঁজিবাদী সমাজ। আজকের একুশ শতকীয় দুনিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে যক্ষপুরীর যে অন্ধকার প্রেতচ্ছায়া, রক্তকরবীর রক্তিমতা আলো হয়ে ছড়িয়ে যাক তারই সর্বত্র।

    সালটা ১৯২৬, বাংলায় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় উদিত হল এমন একটি নাটক যার প্রাসঙ্গিকতা আজ শতবর্ষ পেরিয়েও এতটুকু ম্লান হয়নি। নাটকের নাম ‘রক্তকরবী’। রবীন্দ্রসাহিত্যের বিপুলভাণ্ডারের মধ্যে এই নাটকটি আজও মৌলিকভাবে বিশ্লেষিত হওয়ার দাবি রাখে। জন্মলগ্ন থেকেই অবশ্য নাটকটির নাম ‘রক্তকরবী’ ছিল না। এর নাম ছিল ‘নন্দিনী’। তারও আগে ১৩৩০ বঙ্গাব্দে শিলঙে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘যক্ষপুরী’ নামে এই নাটক লিখেছিলেন। পরে মোট ১১ বার সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হয় আজকের পঠিত ‘রক্তকরবী’ নাটক। বর্তমানে ২০২৬ সালে নাটকটির গুরুত্ব দেখে মনে পড়ে যায় রঁলা বার্তের ‘the death of the author’ প্রবন্ধটির কথা। তাতে তিনি সম্ভবত এটাই বলতে চেয়েছিলেন। একটি রচনা স্রষ্টার হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তার সমস্ত দায়িত্ব থাকে পাঠকের হাতে। পাঠক তার যেকোনোও অর্থ করতে পারেন। এক্ষেত্রে যথার্থই মৃত্যু ঘটে লেখকের।

    সব রবীন্দ্রসাহিত্যের মধ্যে ‘রক্তকরবী’ বহুল চর্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ এর রূপক-সাংকেতিকতার দুর্জ্ঞেয়তা। প্রথমবারেই এর পাঠোদ্ধার করা মুশকিল বৈকি। এছাড়া নাটকটির ব্যাখ্যাও বহুকৌণিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং ১৩৩১ সালে নাটকটির উপর একটি লিখিত অভিভাষণে লিখেছেন, ‘আজ আপনাদের বারোয়ারি সভায় আমার ‘নন্দিনী’র পালা অভিনয়। প্রায় কখনো ডাক পড়ে না, এবারে কৌতূহল হয়েছে। ভয় হচ্ছে, পালা সাঙ্গ হলে ভিখ্ মিলবে না কুত্তা লেলিয়ে দেবেন। তারা পালাটিকে ছিঁড়ে কুটিকুটি করবার চেষ্টা করবে। এক ভরসা, কোথাও দন্তস্ফুট করতে পারবে না।’ এটুকুতে নাটকটির দুরূহতা সহজে অনুমেয়।

    তবে পুঁজি বনাম শ্রমিকের দ্বন্দ্বটা শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়েছে নাটকে। অত্যন্ত জটিল আবরণের আড়ালে বাস করা রাজা কিংবা রাজার আদেশে ধরিত্রীর বুক চিরে সোনা বের করে আনা অসহায় খোদাইকরের দল--এটা কোনও বিক্ষিপ্ত চিত্র নয়। নাটকের পটভূমিতে আছে যক্ষপুরী নামের যে স্থান তার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সন্দেহ থাকলেও তার অসীম সীমা আসলে নির্দেশ করছে এই সমগ্র বিশ্বকে। একুশ শতকে ‘রক্তকরবী’র প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে একটি কথা বলে রাখা দরকার। তা হল, শম্ভু মিত্র তাঁর ‘বহুরূপী’ নাট্যসংস্থায় যখন প্রথম এই নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন তখন ‘দেশ’ কিংবা ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র মত প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো যথেষ্ট সমালোচনা করে। এর কারণ নাটকটির মঞ্চায়ন নাকি নিতান্তই অ-রাবীন্দ্রিকভাবে করা হয়। রক্তকরবীর লাল রঙে রাজনৈতিক প্রলেপ দিয়ে তাকে উদ্দীপ্ত করার অভিযোগ ওঠে। যে নাটক ছিল রসের পরিবেশনা, বহুরূপীর হাতে তা-ই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শ্রমিকের সংগ্রাম। কিন্তু সত্যিই কি কেবল রস পরিবেশন করাই ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশ্য? আসা যাক বর্তমানে এর প্রাসঙ্গিকতা প্রসঙ্গে।

    উপরে উল্লিখিত অভিভাষণটির অন্যত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন যে তাঁর এই পালাটিতে একটি রাজা আছে যার একটাই মুণ্ড এবং দুটিই মাত্র হাত। বর্তমান যুগে রাবণের বাদবাকি হাত-পা বৈজ্ঞানিক শক্তির বশে অদৃশ্যভাবে বেড়ে গেছে। রাবণ যেমন নবদূর্বাদলশ্যাম রামচন্দ্রের বক্ষসংলগ্ন সীতাকে হরণ করেছিলেন, এই যুগের রাজাও তেমনি হরণ করার কাজটিই করছেন। কেবল বদলেছে তার ধরন। এ যুগের রাজাও ক্রমাগত শিকড় সংলগ্ন সীতাকে বিমুখ করে চলেছেন আর আত্মবিস্মৃত করার নামে ঠুলি হিসেবে পরিয়ে দিচ্ছেন সেই স্বর্ণমৃগ। মোটের উপর ব্যাপারটা একই।

    পুঁজি বনাম শ্রমিকের দ্বন্দ্বকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন কর্ষণজীবী বনাম আকর্ষণজীবীর দ্বন্দ্ব। তবে নাটকটি যখন লেখা হয়, অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক একশ বছর আগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চেহারাটা ঠিক এমন ছিল না। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর পুঁজিবাদী বিশ্বায়ন যে চরম আকার নেয়, বর্তমান যুগ তারই অধঃক্ষেপ, কিংবা বলা ভালো তারই উত্তরকাল। যদিও ১৯২৬ সালের মার্কিন শিল্পনগরীর চেহারাটা আজকের পৃথিবীরই প্রস্তুতিপর্ব। বিশ শতক ও একুশ শতকের পুঁজিবাদের মধ্যে ফারাক থাকলেও সর্বত্র শোষণ ও শোষিতের চেহারাটা একই। নাটকে যে ফাগুলালদের দেখা যায় মাটি খোদাই করে পৃথিবীর কবরস্থ সম্পদ রাজার লোভ নিবারণ স্বার্থে তুলে আনতে; একুশ শতকে তাদেরই দেখা যায় বহুজাতিক সংস্থার মুনাফার স্বার্থে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে। এক্ষেত্রে কায়িক শ্রম রূপান্তরিত হয়েছে মেধাশ্রমে। নাটকে দেখা যায় খোদাইকরদের নিজস্ব নামের বিলুপ্তি ঘটে তারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ক্রমিক সংখ্যার খাতায়। যেমন ফাগুলাল পরিচিত ৪৭ফ হিসেবে কিংবা বিশু পাগল ৬৯ঙ। বিশু পাগলকে বলতে দেখা যায়, ‘... গাঁয়ে ছিলুম মানুষ, এখানে হয়েছি দশ-পঁচিশের ছক। বুকের উপর দিয়ে জুয়োখেলা চলছে।’ বর্তমানে চেহারাটাও একেবারেই আলাদা নয়। ঝাঁ-চকচকে আদব-কায়দার আড়ালে কখন যেন ঢাকা পড়েছে আত্মপরিচয়। যেকোনো আইটি কোম্পানির এলাকায় গেলে দেখা যায় একঝাঁক তরুণ তুর্কি যাদের অন্দরের স্তিমিত সত্ত্বা হয়ত ঢাকা পড়ে আছে তাদের সপ্রতিভতার আড়ালে! গলায় দোদুল্যমান তাদের পরিচয়ের ক্রমিক সংখ্যা!

    এছাড়া রয়েছে ওভারটাইম কাজের আভাস। নাটকের ফাগুলালরা দীর্ঘদিন বেরোতে পারে না যক্ষপুরী থেকে, যেতে পারে না নিজেদের গ্রামে। ঠিক এমন করেই আটকা পড়েছে আজকের ফাগুলালরাও। গ্রাম থেকে বেরিয়ে বাধ্য হয়ে ক্রমাগত শহরমুখী হচ্ছে তারা। পুঁজিবাদ অনেকটা কাজ করে জালের মত, যার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে রাজা কিংবা যে জাল অদৃশ্য সীমা বিস্তার করে বেঁধে দিয়েছে শ্রমিকদের। চাকচিক্যের আড়ালে কখন যেন বাহুল্য বোধ হয় আসল প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো। যেমন অবস্থা হয়েছে নাটকে চন্দ্রানীর। এই একুশ শতকে আমরাই কি ‘চন্দ্রানী’ নই? আমরাই কি ভুলে যাইনি হকের দাবি তুলতে? বর্তমানে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান-খাদ্যের দাবি যতবার উঠেছে, ততবার তাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে নতুন কোনও হুজুগ তুলে। হুজুগই বটে! গোঁসাইয়ের মত ধর্মের গান আমরাও বারবার শুনেছি এযুগের গোঁসাইদের মুখে, আর তৎক্ষণাৎ গলায় আঁচল জড়িয়ে লুটিয়ে পড়েছি তাঁর পায়ে। শ্রমিক অসন্তোষ ভুলিয়ে রাখতে এর চেয়ে ভাল উপায় আর কীই বা হতে পারে? নাটকে গোঁসাইয়ের ভূমিকা কতকটা সরকারের অর্থপুষ্ট মিডিয়ার মতও মনে হয়। আসল খবরের বদলে সরকারের গুণগান ‘শান্তিমন্ত্র’র চেয়ে আলাদা কীসে? অবশ্য বর্তমানে আশার আলো দেখাচ্ছে বিভিন্ন অল্টারনেটিভ বা বিকল্প মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নিরপেক্ষ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন সত্যিটা সামনে আনার, যা সত্যিই আশাপ্রদ।

    এছাড়া রয়েছে ‘রাজার এঁটো’। রাজার কাজ অক্লান্তভাবে করতে করতে কখন যেন শুকিয়ে গেছে ভিতরের মাংস-মজ্জা-প্রাণ। রাজা নিংড়ে নিয়েছে তাদের অন্দরের সমস্ত প্রাণরস। এই নির্জীব অনুপ, কঙ্কু, শকলুর মত হাজার হাজার শ্রমিকেরাই রাজার এঁটো। রাজপ্রাসাদ থেকে নির্জীব, একদা প্রাণোচ্ছল অনুপদের দেখলে অবশ্যিকভাবে মনে পড়ে যায় ‘হীরক রাজার দেশে’র যন্তর-মন্তর ঘরের কথা। একুশ শতকের এই পুরো পৃথিবীটাই যেন আস্ত যক্ষপুরীর রাজপ্রাসাদ কিংবা হীরকরাজের সেই যন্তর-মন্তর ঘর। সর্বক্ষণ এখানে চলছে মানুষকে ছিবড়ে বানানোর কাজ। এখনকার ‘রাজার এঁটো’রাও কেবলই ধুঁকছে। টাকার বিনিময়ে যে গাধার খাটুনি খাটানো হয়, তাতে তাদের মাংস-মজ্জা-প্রাণ শুকিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। জেনজ়িদের ভাষায় যা আজকের ‘কর্পোরেট শ্রিম্প’, ‘রক্তকরবী’র ভাষায় তাই-ই হল ‘রাজার এঁটো’। একদিকে এই নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মানুষগুলো ছাই হতে থাকে, অপরদিকে তার লেলিহান শিখা হয়ে জ্বলতে থাকে রাজারা। আজকেও ‘কর্পোরেট শ্রিম্প’দের সংখ্যা যত বেড়ে চলেছে, তত বাড়ছে বহুজাতিকের মুনাফা। নাটকে অধ্যাপকের ভাষায় এটি হল ‘বড় হবার তত্ত্ব’।

    পূর্বে যে জালের কথা বলা হয়েছে সেই জালের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে মূল নাটকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ ‘Red Oleanders’-এ অধ্যাপকের সংলাপে লিখেছেন, ‘do you know Nandini, I too live behind a net-work of scholarship.’ এই ‘নেট’ অধ্যাপকের কাছে ‘তোতাকাহিনি’র সেই শিক্ষার গরাদ। আজকালকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যেন গরাদেরই স্বরূপ আর সেই তোতাপাখির মত আজকের ছেলেমেয়েরাও গলাধঃকরণ করে চলেছে একের পর এক কাগজ। ছোটো থেকে তাদের এই চক্রব্যূহে দিকভ্রান্ত হওয়ার রাস্তা নির্মাণ করে আজকের শিক্ষাব্যবস্থা। কোনও মানুষই সঠিক জানে না তারা কী করছে কিংবা কোনটা তাদের করা উচিত। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করার উপায় কিংবা সময়টুকুও আজ বিরল। এছাড়া একুশ শতকে কেবল জাল বা গরাদ অর্থ ব্যতীত নেটের সংজ্ঞা তার সীমা অতিক্রম করে পৌঁছেছে আন্তর্জাল পর্যন্ত। আর বর্তমান যুগে এ.আই কীভাবে ক্রমশ শক্তিশালী ও সর্বগ্রাসী হয়ে চলেছে, তা-ও অজানা নয় কারোর কাছে। নাটকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সর্দারদের উপস্থিতি। সর্দার সর্বক্ষণ যেন সবার ছায়াসঙ্গী হয়ে রয়েছে যাতে চোখের আড়ালে কেউ কিছু করতে না পারে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে কি আশ্চর্য এক মিল! রাজার চোখ এড়িয়ে কিছু করার সুযোগ কি আমরা পাই? সর্বক্ষণ প্রেতের মত ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলছে যেন কেউ। আধুনিক প্রযুক্তিব্যবস্থার উন্নতির ফলে আড়াল নেই কিছুই। সমাজমাধ্যমে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি আজকাল বেশ জনপ্রিয়। এই ‘অ্যালগরিদম’এ নজরবন্দী আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ। ফলে যা কিছু ব্যক্তিগত, নিয়ন আলোয় তা যথার্থই আজ পণ্য হচ্ছে। আর এই প্রেতরূপী সমাজকাঠামোর চালকদের অবিরাম তাঁবেদারি করে চলেছে মধ্যস্বত্বভোগীরা, নাটকে যাদের দেখানো হয়েছে মোড়ল হিসেবে।

    বিশ শতকের নাটক একুশ শতকে এসেও যেমন তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি, তেমনি হারায়নি আশার আলোও। পুঁজিবাদী সভ্যতার প্রতিস্পর্ধী হিসেবে কৃষিজীবী সভ্যতা আদৌ কার্যকরী কিনা, তা নিয়ে মৌলিক আলোচনা করা যায় কিন্তু আপাতত নন্দিনী হল শক্তপোক্ত ইমারতের ফাটল দিয়ে আসা সেই আলো যা চমকে দেয় রাজা-সহ প্রত্যেককে। আজকের যুবসমাজের কেউ কেউ তো আছে নন্দিনীর মত যারা আঘাত হানতে পারে এই অদূর বিস্তৃত প্রাকারে। জটিল আবরণ ভেদ করে দেবতার মত একাকী রাজাকে যে নন্দিনীরা চ্যালেঞ্জ করতে পারে তাদের ওপর থাক ভবিষ্যতের ভার।

    গ্রন্থঋণ:

    ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; রক্তকরবী; বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ

    ২. মলয় রক্ষিত; রক্তকরবী: পাঠ ও পাঠান্তরের ভাবনায়; দে’জ পাবলিশিং

  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments
  • কীভাবে লেখা পাঠাবেন তা জানতে এখানে ক্লিক করুন | "পরবাস"-এ প্রকাশিত রচনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রচনাকারের/রচনাকারদের। "পরবাস"-এ বেরোনো কোনো লেখার মধ্যে দিয়ে যে মত প্রকাশ করা হয়েছে তা লেখকের/লেখকদের নিজস্ব। তজ্জনিত কোন ক্ষয়ক্ষতির জন্য "পরবাস"-এর প্রকাশক ও সম্পাদকরা দায়ী নন। | Email: parabaas@parabaas.com | Sign up for Parabaas updates | © 1997-2026 Parabaas Inc. All rights reserved. | About Us