


ইরাবান; — প্রতিভা সরকার; প্রকাশক— অন্তরীপ পাবলিকেশন; প্রচ্ছদ ও অলংকরণ- শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায়; প্রথম প্রকাশ— জানুয়ারি ২০২৬; ISBN: 978-81-995005-4-9 প্রাজ্ঞ সৌতির ভবিষ্যতবাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। প্রায় লক্ষাধিক শ্লোকে রচিত মহাভারতে কৌরব ও পান্ডবদের দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের মূল কাহিনির পাশাপাশি রয়েছে সহস্রাধিক ছোটবড় উপকাহিনি। হাজার হাজার বছর ধরে এই কাহিনিগুলি পাঠককে আকর্ষণ করেছে। শুধু পাঠক না, দেশ, জাতি, ভাষা নির্বিশেষে রসিক সৃষ্টিশীল মনও আকৃষ্ট হয়েছে মহাভারতের মহাসমুদ্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাহিনিগুলির প্রতি। পৌরাণিক যুগ থেকে বর্তমান কালের দীর্ঘ যাত্রাপথে অনুবাদ বা ভাবানুবাদে লেখা হয়েছে মহাভারতের নতুন নতুন সংস্করণ। মূল কাহিনির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে উপকাহিনিগুলিও নবরূপে প্রকাশিত হয়েছে নতুন আঙ্গিকে, নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আধারে। বেদব্যাসকৃত মূল কাহিনির আংশিক হেরফের ঘটিয়ে যুক্ত হয়েছে সমকালীন লোককথা, লোকাচার ও সমাজভাবনা। কখনও কখনও এর প্রভাব এতটাই সুগভীর যে কালে কালে এইসব কাহিনির সূত্রে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক দেবদেবী বা আঞ্চলিক ধর্মীয় প্রথা, যার ধারা এই আধুনিক সময়েও লুপ্ত হয়নি।
মহাভারতের এই কাল নিরপেক্ষ সুবিস্তৃত ব্যাপ্তির কারণ কী? এককথায় বলা যায় — মানুষ, মানুষ এবং মানুষ। কালের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয় সমাজ, রাষ্ট্র, দেশাচার, লোকাচার, এমনকী প্রকৃতিও। কিন্তু বহিরঙ্গের পরিবর্তন হলেও মানবচরিত্রের অন্তর্গত রহস্যময় রূপের কোনো রূপান্তর হয় না। আর মহাভারতের রাজসিক ভান্ডারে উজ্জ্বল রত্নের মতো সঞ্চিত অসংখ্য কাহিনি-উপকাহিনির ভিত্তি এই চিরায়ত মানবজীবন ও মানবচরিত্রের রহস্যাবৃত চেতন ও অবচেতনের টানাপোড়েন। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর কথায়, “গত চারি-হাজার বৎসরের মধ্যে মনুষ্যসমাজের বাহিরের মূর্তিটা অনেকটা পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে সত্য কথা, কিন্তু তাহার আভ্যন্তরিক প্রকৃতির কতটা পরিবর্তন হইয়াছে, তাহা বলা দুষ্কর। মনুষ্যের বাহিরের পরিচ্ছদটা সম্পূর্ণ বদলাইয়াছে, কিন্তু মনুষ্যের ভিতরের গঠন অনেকটা একরূপই আছে। সেকালের রাজারাজড়াও বোধ করি সময়মতো কৌপীনধারী হইয়া সভামধ্যে বাহির হইতে লজ্জিত হইতেন না; কিন্তু এখনকার অন্নহীন শ্রমজীবীরাও সমস্ত অঙ্গের মালিন্য ও বিরূপতা পোষাকের আচ্ছাদনে আবৃত রাখিতে বাধ্য হয়। সেকালে ক্রুরতা ছিল, বর্ব্বরতা ছিল, পাশবিকতা ছিল, এবং তাহা নিতান্ত নগ্ন, নিরাবরণ অবস্থাতেই ছিল। তাহার উপর কোনরূপ আচ্ছাদন, কোনরূপ পালিশ, কোনরূপ রঙ-ফলান ছিল না। একালেও ক্রুরতা, বর্ব্বরতা ও পাশবিকতা হয়তো ঠিক তেমনি বর্তমান আছে; তবে তাহার উপর একটা কৃত্রিম ভণ্ডামির আবরণ স্থাপিত হইয়া তাহার বীভৎস ভাবকে আচ্ছন্ন রাখিয়াছে।” (মহাকাব্যের লক্ষণ, নানা কথা)
এই অপরিবর্তিত মানবচরিত্রের আকর্ষণেই কবি, কথাকার ও নাট্যকাররা কয়েক হাজার বছর ধরে বারেবারে পৌঁছে গেছেন মহাভারতের মহা-অঙ্গণে। সংগ্রহ করেছেন কাহিনিসূত্র। সমসময়ের দাবিকে শিরোধার্য করে সৃষ্টি করেছেন অজস্র কবিতা, নাটক, উপন্যাস ও ছোটগল্প। মহাভারত আশ্রিত এই সাহিত্য-ধারার নবতম সংযোজন প্রতিভা সরকারের লেখা নাতিদীর্ঘ উপন্যাস 'ইরাবান'।
তৃতীয় পান্ডব অর্জুন ও নাগরাজ কন্যা উলুপীর ক্ষেত্রজ পুত্র ইরাবানের জীবনই ‘ইরাবান’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু। কিন্তু তার উৎস ব্যাসদেবের মহাভারত নয়। ব্যাসদেব তাঁর লেখায় ইরাবানের জন্য খুব বেশি শ্লোক খরচ করেননি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অষ্টম দিনে শকুনি-ভ্রাতাদের বধ করার পর রাক্ষস অলম্বুসের অস্ত্রাঘাতে এই বীর পান্ডব সন্তানের মৃত্যু হয়।
ব্যাসদেব কৃত মহাভারতে ইরাবানের এই সামান্য উপস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে লেখার মতো কোনো আকর্ষণ সমসাময়িক কালের লেখকদের মধ্যে না থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাস-কল্পনায় উপেক্ষিত ইরাবান তামিল মহাভারতে ট্রাজিক নায়ক হয়ে উঠেছেন। ব্যাসভাষ্য থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন তামিল মহাভারতের নায়ক ইরাবান বা আরাভান বা কুত্তান্তভার (kuttantavar)-এর জীবনকাহিনি। শরীরে বত্রিশটি সুলক্ষণ যুক্ত ইরাবানকে তারই স্বইচ্ছায় দেবী কালিকার কাছে বলি দেন পান্ডবেরা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয় অর্জনের জন্য। ইরাবানের শর্ত ছিল মৃত্যুর আগে কৌমার্য ভঙ্গ করে তিনি একরাতের জন্য বিবাহিত হতে চান এবং তাঁর খন্ডিত মস্তক যেন জীবিত থাকে। তিনি সেই খন্ডিত মস্তকের জীবন্ত চোখ দুটি দিয়ে সম্পূর্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চান। এক রাতের পরই বিধবা হতে কোনো কন্যা রাজি না হওয়ায় কৃষ্ণ মোহিনী (ভিন্ন একটি মত অনুযায়ী মোহিনী যাদব বীর সাত্যকির কন্যা) রূপ ধারণ করে ইরাবানকে বিবাহ করেন। প্রতিভা সরকার তাঁর উপন্যাসে দক্ষিনী ইরাবানের এই বিচিত্র জীবনকাহিনিকেই বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ দ্রাবিড় ইরাবানের জীবনের ট্রাজেডির রেশ সেই পৌরাণিক যুগ থেকে প্রবহমান রয়েছে সমকালীন সময়েও। অর্জুন পুত্র ইরাবান শুধু মহাকাব্যিক চরিত্র নয়, তামিল লৌকিক জীবনে দ্রৌপদী সংস্কৃতির (Draupadi sect) একজন আরাধ্য দেবতা। চেন্নাই থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে তামিলনাড়ুর কাল্লাকুরুচি জেলার কুভালাম গ্রামে এপ্রিল মাসে ১৮ দিন ধরে পালিত হয় আরাভান উৎসব। হাজার হাজার নারীস্বভাবা প্রতীকী অর্থে মোহিনী রূপে ইরাবানের সঙ্গে বিবাহিত হন। তারপর রাত কেটে গিয়ে ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলসূত্র ছিঁড়ে ফেলে সাদা শাড়ি পরে বৈধব্য-শোক পালন করেন। ইরাবানকে ভিত্তি করে তৈরি হওয়া এই রিচ্যুয়াল সারা ভারতবর্ষের তৃতীয় লিঙ্গের নিজস্ব প্রথাচার হয়ে উঠেছে।
বাংলা কথাসাহিত্যে এ যাবৎ অকর্ষিত এমন মানবজমিন প্রতিভা সরকারের কথকতায় অনবদ্য মহাভারত আশ্রিত উপন্যাসে রূপান্তরিত হয়েছে। উত্তর-আধুনিক কোনো বিনির্মাণ নয়, তামিল মহাভারত কথিত ইরাবানের জীবনের বিচিত্র পরিণতির মূলানুগ কাহিনিকে মন্থন করেই লেখিকা বার করে এনেছেন আধুনিক জটিল রহস্যময় জীবন জিজ্ঞাসার নানা উত্তর। ইরাবান ও তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত উলুপী, অর্জুন, দ্রৌপদী, কৃষ্ণ এবং মোহিনী হয়ে উঠেছে দ্বন্দ্ব-বিহ্বল সমসাময়িক মানবচরিত্র।
“ইরাবান অর্জুনের অনাদৃত সন্তান, অথচ তার আত্মবলিদানেই পিতৃকুলের জয়লাভের পথ প্রশস্ত হয়। তাকে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের চাতুরী এবং রাজনীতির ধুরন্ধর চাল আমাদের মনে করিয়ে দেবে একালেও সদালভ্য রাজনৈতিক হীনতা।” (পেছনের মলাট, ‘ইরাবান’) শুধুই কি কূট রাজনীতির চাল? বোধহয় না। ‘ইরাবান’ উপন্যাসে লেখিকার লক্ষ্য আরও প্রশস্ত, আরও গভীর, যার শিকড় চারিয়ে গেছে মানবজীবনের রহস্যময় মানসিক জগতে। বিশেষ করে নারী হৃদয় লেখিকার দক্ষ বুননে কাহিনি শরীরে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে। নিয়তির ফেরে পঞ্চস্বামীর মধ্যে নিজের শরীর ও প্রেম বিতরণে বাধ্য দ্রৌপদীর অর্জুনের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ, স্বামী-বিস্মৃত উলুপীর সেই স্বামী অর্জুনের প্রতি প্রেম-অনুগত থেকেও একাকী মাতৃত্বের (Single mother) দায়ভার বহন ও পিতা-অবহেলিত সন্তানকেই পিতৃবংশের স্বার্থে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া, কৃষ্ণের কার্যোদ্ধারের উদ্দেশ্যে বারবার ব্যবহৃত হওয়া মোহিনীর মানসিক দ্বন্দ্ব এবং ইরাবানের আত্মবলিদানের পর কৃষ্ণের পুরুষ অঙ্গ জাত মোহিনীর তীব্র বিরহ — নিশ্চিতভাবে সমকালীন ব্যক্তি ও সামাজিক ক্যানভাসকেও প্রতিবিম্বিত করে। লেখিকা সর্বান্তকরণে চেয়েছেন, নিছক মহাকাব্যের পুনর্লিখন নয়, বাস্তবের বন্দরে নোঙর ফেলে পৌরাণিক কাহিনির নতুনভাবে আলোকায়ন। তাই উপন্যাসের সূচনা সরাসরি ইরাবান কাহিনী দিয়ে হয়নি।
কাহিনি শুরু হয়েছে কুভাগামে। এখানে চলছে ১৮ দিনের কুঠভাণ্ডার উৎসব। এশিয়ার বৃহত্তম ট্রান্সজেন্ডার বিবাহ উৎসব ও বৈধব্য-বিলাপ। শেষ দু-দিনের স্টৌরি করবার জন্য সাংবাদিক রানি সেনগুপ্ত কুভাগামে এসেছে। এই মেলা, এই পুজো, ইরাবানের সঙ্গে রূপান্তরকামী নারীদের বিবাহ, তারপর তাদের বৈধব্য দশা নিয়ে কিছুই জানে না রানি। সোদপুর থেকে আসা নারীস্বভাবা বাঙালি মাধুরীর সঙ্গে পরিচয় হয় রানির। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরেই তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তার বাবা-মা তার জন্য পাড়ায় মুখ দেখাতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়ে পাতানো মায়ের আখড়াতে চলে আসে। মাধুরী কুভাগামে এসেছে ইরাবান ঠাকুরকে বিয়ে করতে। তাহলে জন্মজন্মান্তরে আর হিজড়ে হয়ে জন্মাতে হবে না। মাধুরীর মুখ থেকেই রানি ‘ইরাবান’ কাহিনি শোনে। রানির সঙ্গে সঙ্গে পাঠকও। শুরু হয় উপন্যাসের পৌরাণিক পথ চলা। দুই থেকে আট মোট সাতটি উপবিভাগ জুড়ে বিস্তৃত এই পৌরাণিক কথকতা। যার সূচনা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয় লাভের লক্ষ্যে কৌরব পক্ষের সেনানীদের পাহাড় ঘেরা গভীর অরণ্যে বলির জন্য এক সুলক্ষণ যুক্ত শ্বেত হস্তির শিহরণ জাগানো অনুসন্ধানের অনবদ্য বিবরণের মধ্যে দিয়ে (এ কাহিনিও একান্তভাবেই তামিল মহাভারতের অংশ) এবং সমাপ্তি ইরাবানের আত্মবলিদান ও তার একরাতে বধু কৃষ্ণের নারীরূপ বিরহকাতর অকাল বিধবা মোহিনীর তীব্র শোক ও হাহাকারে। এই উপসংহার পুরাণ কাহিনির, উপন্যাসের নয়। উপন্যাস শেষ হয়েছে সাংবাদিক রানির দেখা কুঠভান্ডার উৎসবের শেষে মাধুরীর মতো অসংখ্য তৃতীয় লিঙ্গের নারীর প্রতীকী অকাল বৈধব্যের তীব্র শোকের দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে। “কাঁধের ভারি ব্যাগ নিয়েই রানি নুয়ে পড়ে বুক চাপড়াতে থাকা সামনের ইরাবানিটির দিকে। এই মেয়েটি তত সুস্থ নয়। তার বয়স্ক হাতের চামড়া কাছিমের পিঠের মতো খসখসে, তবু সেই হাত জড়িয়ে ধরে রানি, মা যেমন করে শিশুকে ভোলায় তেমন মৃদু মৃদু চাপড় মারে তার পিঠে। তার মনে হয় এরা প্রত্যেকেই মোহিনী! স্মরণাতীত কালে এক তরুণ অনার্য রাজপুত্রের বক্ষলগ্না নারীকে বাহুপাশ ছিন্ন করতে বাধ্য করেছিল ক্ষমতাসীনেরা, তারপর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে হত্যা করেছিল সেই তরুণকে। সেই ক্ষণস্থায়ী প্রেমকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এই সমস্বর বিলাপ! ভালোবাসার বস্তু হারিয়ে ফেলেনি এমন মানুষ আছে নাকি এই পৃথিবীতে! এখানে কে যে ঠকাতে গিয়ে নিজেই ঠকে যাবে, কে ভালো করতে গিয়ে খারাপ ডেকে আনবে, কেউ বলতে পারে!” (ইরাবান, পৃষ্ঠা ১৪৪) এভাবেই প্রতিভা সরকার স্মরণাতীত অতীতের ইরাবানের জীবনকাহিনিকে মিলিয়ে দিয়েছেন এই উত্তর-আধুনিক বর্তমানের চলমান জীবনপ্রবাহের সঙ্গে।
মহাকাব্য বা পৌরাণিক কাহিনি আশ্রিত উপন্যাসের সার্থকতা বহুলাংশে নির্ভর করে গদ্যশৈলীর ওপর। ঘাত-প্রতিঘাতে টানটান কাহিনি বয়ন, চরিত্রগুলির মানসিক ও বাহ্যিক দ্বন্দ্ব, সমস্ত কিছুই যথার্থ হয়ে ওঠে গথিক ভাষারূপের স্বচ্ছন্দ বুনটে। তৈরি হয় আদর্শ মহাকাব্যিক গাম্ভীর্য, মহাকাব্যিক আবহ। চলিত ভাষার আধারে তৎসম শব্দের যথাযথ ব্যবহারে লেখিকা প্রতিভা সরকার ‘ইরাবান’ উপন্যাসে সেই আবহ সৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সফল। কোনো কোনো প্রসঙ্গে সংস্কৃত শ্লোকের উল্লেখ কথকতাকে একধরনের আলংকারিক প্রসাধনে প্রসাধিত করেছে। কিছু অংশে ‘ন্যারেটিভ’, প্রায় কবিতার মতো, বিশেষ করে শ্বেত হস্তি অনুসন্ধানের পর্বটিতে পাহাড়-অরণ্যময় আদিম রহস্যময় নিসর্গের বর্ণনায়। যদিও এই অংশের দীর্ঘ ন্যারেটিভ সামগ্রিকভাবে উপন্যাসের চলনকে কিছুটা শ্লথ করেছে। ১৩৫ পাতার উপন্যাসে প্রায় উনিশ পৃষ্ঠার এই পর্ব কিছুটা সংক্ষিপ্ত হলেও হয়তো মূল কাহিনির কোনো ক্ষতি হত না। কারণ পরবর্তী অংশে এই পর্বের কাহিনির উল্লেখ সামান্যই।
প্রচ্ছদ ও আটের পাতায় শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ইরাবানের মুখ, কাহিনিতে লেখিকার ইপ্সিত ইরাবানের অন্তরসত্তাকে অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।