


ঘরবদল
কি করে
পাশের ঘরে যেতে হয়
আমার মনে পড়ছে না।
জানি
কিছু একটা ভাবে
গ’লে যেতে হবে
ওই দরজা দিয়ে।
জানি
পৌঁছব ঠিকই সেই ঘরে,
থাকবও খানিকক্ষণ,
তারপর চলে যাব
আরেকটা, অন্য কোনো ঘরে।
নিরবলম্ব মাটিতে
আছে কয়েকটা রোগা লাইন।
যেন কোনো একটা দিকে ঠেলছে
কয়েকটা ঝাপসা সংকেত।
চোখে দেখা যায় না
এমন কোনো অস্পষ্ট ইঙ্গিত।
কোনো ভাষা নেই, কথা নেই
যা পথ দেখাতে পারে।
আমি শব্দদের পেরিয়ে এসেছি।
এই গোধূলিতে আছে
এক আশ্চর্য আপাত-বিরোধ —
ক্ষয়িষ্ণু দৃষ্টিশক্তি
আর বর্ধিষ্ণু নিশ্চয়তা।
আমাকে এগোতে হবে
টেনে টেনে, পিছলিয়ে, আস্তে আস্তে।
জানি
পৌঁছব ঠিক —
যদি নিচের গাঢ় শূন্যতায়
রাখি বিশ্বাস।
কিছু একটা স্পর্শ করবে।
কিছু একটা ধরবে আমায়।
সবসময়েই অবধারিত সে রকম
কিছু একটা হয়।
রাক্ষস
অনেক দিন পর
সেই ছোট্ট রাক্ষসটা
আমার কাছে এসেছিল
কাল সন্ধ্যায়।
আমাকে মনে করিয়ে দিল
যে আমি অক্ষম,
আমি মেরামতের অযোগ্য।
উচ্চারণ করল
আরো বেশ কিছু ছুরির মত শব্দ।
বিশেষ বিশেষ বিশেষণ
ব্যবহার করল।
আজ সকালে
সেই শব্দগুলো নিয়ে
আমি এখনো ভাবছি।
আরো অন্য কিছু
শব্দদের
আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
তোরা খেলবি আয়!
ভাবছি
এই মোটা অভিধান থেকে
সব শব্দগুলো ছেড়ে দেব।
ওরা একটু ঘুরে বেড়াক।
খানিকক্ষণ খেলুক ওরা।
দুষ্টুমি করুক একটু।
আমি ওদের দস্যিপনা
দেখতে চাই।
শুনতে চাই
ওদের খুনসুটি
আর হাসির আওয়াজ।