


তড়িঘড়ি করে হাঁটা লাগিয়ে বাজারের বেশ কাছাকাছি যখন এসে পড়েছি, ঠিক তখনই গায়ে ধূসর ফতুয়া আর একটা সাদামাঠা প্যান্ট পরা গদাইকে এদিকে আসতে দেখেই চমকে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মারুতি ভ্যানের আড়াল হলাম। ওহো! কী ঝামেলা! এখন দেখতে পেলেই আবার আমাকে অনুরোধে উপরোধে নাস্তানাবুদ করবে। ও যে আমাকে কী এমন হনু ভাবে কে জানে। ওরই তো ব্যাচমেট ছিলাম বাবা। কৃষ্ণচন্দ্র বিদ্যানিকেতনের সহপাঠী দুই জন দুই জনের জ্ঞান গম্মি সম্পর্কে নিশ্চয়ই একটা ক্রিস্টাল ক্লিয়ার আইডিয়া থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। কোথায় গদাই মানে গদাধর ভৌমিক আর কোথায় আমি মানে নিশীথ প্রামাণিক। এলিয়ানদহ প্রাইমারি স্কুলে কুড়ি বছর চাকরি করা হয়ে গেল আমার। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা দিনকে দিন কমতে কমতে এখন যে আমি প্রায় রোজই একই পাঠ বছরের পর বছর দিয়ে, শূন্যপ্রায় ক্লাসরুমে ক্লাস নিতে গিয়ে এক ঘন্টা মোবাইল টিপাটিপি করে চলে আসি, সেটা নেহাত গদাই-এর এখনো অজানা। নাহলে বাজারে ক্লাবে মাঠে ঘাটে যেখানেই দেখা হচ্ছে গত দুই মাস ধরে, সেখানেই আমার দুই হাত ধরে, “বন্ধু তুই আমার প্রশ্নের উত্তরটা কেন দিচ্ছিস না বল তো, আমি সারা রাত না ঘুমিয়ে জেগে বসে থাকি। একদৃষ্টে মোবাইলটার দিকে তাকিয়ে থাকি এই বুঝি তুই ফোন করলি। কিন্তু না। এক মাসের বেশি হয়ে গেল। তুই উত্তরটা নিশ্চয়ই জানিস, কিন্তু কিছু একটা কারণে তুই আমাকে কিছুতেই বলবি না বলে ঠিক করেছিস। ক্লাস টেন-এর হাফ ইয়ারলির রাগ এখনো পুষে রেখেছিস নাকি? সেই দিন পূর্ণেন্দু বাবু যা গার্ড দিচ্ছিল, তার মধ্যে আমি কী করে তোকে অঙ্ক দেখাই বল?” বলে এমন একটা অস্বস্তিতে ফেলে দেয় আমাদের স্কুলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্র গদাধর ওরফে গদাই যে আমি, যে কিনা পঁচিশের কম নিজের রোল নম্বর কোনদিন করতেই পারেনি, এক ভীষণ বিড়ম্বনায় পড়ে যাই। সেই পরীক্ষায় আমি অঙ্কে ফেল করে গিয়েছিলাম আর গদাই অ্যাজ ইউজুয়াল অঙ্কে একশোয় নিরানব্বই। সারা ক্লাস সেবার অঙ্কে ধসে গিয়েছিল, কিন্তু মুদির দোকানদারের ছেলে গদাই নিরানব্বই পেয়ে দুশ্চিন্তায় আরো চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল যখন অঙ্কের স্যার নিবারণবাবু এক নম্বর কেন কাটা গেল সেই প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারেনি গদাইকে। গদাই-এর মনের মধ্যে একটা বড় প্রশ্নের উদয় হয়েছিল যে ও এমন কিছু একটা জঘন্য ভুল করছে অঙ্ক কষতে গিয়ে যেটা বাঘা বাঘা মাষ্টার মশাইরাও শুধরে দিতে পারছে না। তার মানে ওর অঙ্ক শেখায় একটা বিরাট বড় গলদ থেকে যাচ্ছে। সারা ক্লাস যখন কুড়ি, ত্রিশ পেয়ে কাতরাচ্ছে, তখন উনি নিরানব্বই পেয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে যাচ্ছেন।
আমি বাজারে ঘাটে এখন এই পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়সে এই রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে ওর হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে বাঁচি। লোকে ভাববে কী! ইদানিং গদাই কম দামি ফতুয়া আর পুরনো রঙ উঠে যাওয়া প্যান্ট পরে এই শহরের রাস্তা ধরে এদিক থেকে ওদিক ভবঘুরের মতো যতই হেঁটে বেড়াক না কেন, এই শহরের সব মাতব্বররা জানে যে কৃষ্ণচন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলের বড় হলঘরটার দেওয়ালে যে কাঠের তৈরি লম্বা স্কলার্স লিস্ট আছে, তাতে গদাধর ভৌমিকের সাফল্য তাবড় তাবড় গার্জেন আর ছাত্রের চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। কত ডাক্তার, মাস্টার, ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ভর্তি হলো, পাস করে বেরিয়েও গেল, আট দশটা টিউশনি পড়ে পরীক্ষাও দিল কিন্তু সারা রাজ্যে মাধ্যমিকে তৃতীয় আর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম, নাহ্! কেউ এই স্কুল থেকে ওই রেজাল্টের একশো মাইলের মধ্যে আসতে পারেনি। আর জয়েন্ট ইত্যাদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথা তো বাদই দিলাম। এটা সেই সময়ের কথা যখন প্রথম কুড়ি জনের তালিকায় কুড়ি বাইশ জনের নামই থাকতো। দু হাজার চুয়াল্লিশ জনের নাম থাকত না। ফার্স্ট এক জনই হত। বাষট্টি জন হত না। গদাই যেবার আমাদের স্কুল থেকে হায়ার সেকেন্ডারিতে সারা রাজ্যে ফার্স্ট হল, সেইবার এই স্কুল থেকে মাত্র বারো জন ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছিল। মুড়ি-মুড়কির মতো সহজলভ্য ছিল না সব সাবজেক্টে নিরানব্বই বা একশো। সেই বাজারে গদাই অঙ্কে দুশো নম্বরের মধ্যে একশো ছিয়ানব্বই পেয়ে বেজায় হতাশ হয়ে গিয়েছিল। মার্কশিট পাওয়ার পরে অঙ্কের স্যারদের কাছে যখন চার নম্বর কম পাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করছিল, কুঁকড়ে যাওয়া মাস্টার মশাইরা “ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি” চোখ-মুখ করে পালাতে পারলে যেন বাঁচে।
সেই গদাই যে একটা উত্তরের খোঁজে অস্থির হয়ে পড়েছে, সেটা আমরা প্রথম জানতে পারলাম চৈত্রসংক্রান্তির দিন সন্ধ্যা বেলায়। বৃন্দাবনী মাঠে তখন আমরা জনা ছয় গোল হয়ে বসে আড্ডা মারছি। একটা একটা করে বাদাম ভেঙে, একটু নুন আঙুলে নিয়ে মুখে পুরে দেওয়ার মজাই আলাদা। তার সঙ্গে আড্ডা মাতিয়ে রাখার মতো দেদার টপিকস হাজির। সামনেই ইলেকশন। রাস্তায় নেমে কিছু করি না করি, ফেসবুকে আকারে ইঙ্গিতে সামান্য বিপ্লব করি, সোজাসাপ্টা সরকার বিরোধী কিছু লেখার যোশ রাখি না রাখি, আড্ডায় ফাটিয়ে দেওয়ার, তুফান তুলে দেওয়ার লোভ সামলানো এখনকার বাঙালিদের পক্ষে নেহাতই অসম্ভব। তখনই অজয় খেয়াল করলো যে আমাদের আড্ডার দিকে এগিয়ে আসছে গদাই। ও সাধারণত কারোর সঙ্গে আড্ডা-টাড্ডা মারে না। যে কয়টা ছাত্রটাত্র বাড়িতে আসে ওর কাছে অঙ্ক শিখতে, তাদের শেখানো-টেখানো হয়ে গেলে চুপচাপ আকাশের দিকেই তাকিয়ে থাকে। একটা আড়বাঁশির মূর্চ্ছনায় বেশ কিছুক্ষণ মগ্ন থাকে। কী সব মোটা মোটা বই পত্র ওল্টায়। তারপরে আপনমনে হাঁটতে বেরিয়ে পড়ে। এই সব খবর পাই আমরা আরতি মাসির কাছ থেকে। এই খামখেয়ালির ঘরদোর গুছিয়ে টুছিয়ে রেখে, রান্না করে টেবিলের উপরে রেখে দিয়ে আরতি মাসি চলে আসে। গদাই এসে পাশে বসেই আমাদের দেখে একগাল হেসে জিজ্ঞেস করলো, “স্যাটা কালু”কে মনে আছে?” এই শহরে একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা আমরা স্যাটা কালুকে চিনবো না? স্টেশন যাওয়ার রাস্তায় যে শ্যাওড়া মোড় পড়ে, সেখানে আশির দশকে খুন জখম চুরি ছিনতাই রাতের দিকে নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই নৃশংস ওয়াগন ব্রেকারের নেতৃত্বে। আমরা সেই সব ভয় ধরানো কাহিনী শুনেছি বাবা কাকাদের কাছ থেকে যে রাতের দিকে কেউ ট্রেন করে স্টেশনে এসে পৌঁছলে সেই রাত স্টেশনে কাটিয়ে, দিনের আলো ভালো করে ফোটার পরেই রিক্সা করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া যেত। এলাকার বেতাজ বাদশা কী আর দল ছাড়া পড়ে থাকে। রাজনীতির কেষ্টুবিষ্টুরা বুঝলেন যে এই মাল বেঁচে থাকলে দলের ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর জন্য এই মস্তান এক অমূল্য সম্পদ। যে দেশে পাঁচশো টাকা পকেটে দিয়ে আর রিভলবার চোখের সামনে নাচিয়ে এক একটা মহল্লার ভোট ছিনিয়ে নেওয়া যায় পেশি শক্তির জোরে, সেই দেশে যুগে যুগে এই স্যাটা কালুদের জয়জয়কার। প্রত্যেক দিন অন্যায়ভাবে উপার্জনের দশ শতাংশ টাকা পথহারা যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া স্যাটা কালু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের চারদিকে একটা রাজনৈতিক বর্মও জড়িয়ে নিয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় তখন সেই দলের রঙের বর্ম। আজ চীন রাশিয়ার মহান নেতাদের নামে স্লোগান দিচ্ছে তো কালকেই আবার ভোল পাল্টে দেব দেবতার নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে বা মসজিদের সামনে মাথা ঢেকে ইফতারে অংশগ্রহণ করছে। নিজের নাম লিখতে কলম ভেঙে ফেলা কয়েকশো কোটির মালিক স্যাটা কালু এখন আমাদের এখানকার মিউনিসিপ্যালিটির গম্ভীর চেয়ারম্যান। ওর বৌ আর দুই দুর্ধর্ষ ছেলেও অত্যন্ত সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। অনায়াসে প্রচুর টাকা খরচ করার ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটা কালুর যে এম পি বা এম এল এ হওয়া শুধু কিছু সময়ের অপেক্ষা, সেটা এখন এই শহর জানে। তাই অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্যাটা কালু মঞ্চে এলেই অতি শিক্ষিত অনেক ডিগ্রিধারী লোকেরাও বিগলিত চিত্তে হাত কচলাতে কচলাতে “আসুন, আসুন” বলে সুসজ্জিত চেয়ারের দিকে নিয়ে যায়। জানে এর সঙ্গে একটা টাইট যোগাযোগ রাখতে হবে,তাহলে আখের গুছোতে লাভ হবে। বিদ্যা দিয়ে যে আর কিছু হবার নাই এখানে, তা এই প্রাজ্ঞ প্রৌঢ়রা বুঝে গিয়েছেন। সার্টিফিকেটগুলো আলমারিতে পচে পচে মরে আর পাড়ার লোক দুই হাত জড়ো করে স্যাটা কালুর আগমনের অপেক্ষা করে।
“কেন বল্ তো, বল্?” দুম করে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিকারী এক মানুষের কাছ থেকে ফুরফুরে হাওয়া মাখা সন্ধ্যায় এই প্রশ্নটা শুনে আমরা ছয়জনই বোমকে গেলাম। গুরুদেবের প্রশ্ন যে সোজা হবে না তা আমরা জানি। কিন্তু গদাই আমাদের চমকে দিয়ে, মাটির ভাঁড়ের চায়ে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে, সহজ সরল হাসি ভরা মুখে একটা লম্বা ‘আহ!’ বলে তৃপ্তির প্রকাশ করে, চারমিনারটা ধরিয়ে বললো, “কারণটা খুব সহজ। স্যাটা কালু তোর আমার চরম ক্ষতি করতে পারে বলে। এই সমাজ আজকাল কাকে সেলাম ঠুকে সম্মান দেয় বল্ তো?” প্রশ্নের সামনে আমরা ছয়জন আবার একদম চুপ। যার অবিশ্বাস্য লেভেল সম্পর্কে আমাদের মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নাই, যার আই এস আই-এ পরপর প্রতিটি পরীক্ষায় চমকপ্রদ রেজাল্টের খবর আমাদের কাছে অজানা নয়, জয়েন্টে সেইসব দিনের হদ্দ মফস্বল থেকে মেডিক্যাল আর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রথম দশে rank করা আমাদের অজানা নয়, অদ্ভুত এক কারণে আই এস আই ছেড়ে চলে আসার কাহিনীও অজানা নয়, তার প্রশ্নে আমরা সাধারণত চুপই থাকি, উত্তর তার কাছ থেকেই আশা করে। চারমিনারে একটা লম্বা টান মেরে ক্ষণজন্মা গদাই বলে চলে, “আসলে কে কতটা কার উপকার করতে পারে সেটার চেয়েও এখন বাজারে চলছে কে কতটা কার পিছনে বাঁশ ভরে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই সব ব্যাপারে স্যাটা কালুদের ক্ষমতা অপরিসীম। তুই আমি পারব সন্ধা রাতে ঠেক-এ পাঁচ খানা খাম্বা নামিয়ে ছেলে ছোকরাদের বলতে, ‘যা তো ওই মাস্টারটার বাড়িতে চার পাঁচটা পেটো ঝেড়ে আয়। মালটা আজকে দুপুরে মিউনিসিপ্যালিটির জলের পাইপ বসানোর সময় খুব বেশি কথা বলছিল।’ তুই আমি পারব পয়সা ছড়াতে? আমি কী করতে পারি ম্যাক্সিমাম? ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়িতে এলে অঙ্ক বিজ্ঞান ইংরেজি শিখিয়ে দিতে পারি। তোরা সবাই চাকরি করিস। তোদের অফিসে গেলে যে যার মতো সেই অফিসের কাজ যাতে ঠিকঠাক তাড়াতাড়ি হয় সেই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারিস। কার কবে সেই দরকার পড়বে সে আর এক গল্প। আর আমার কাছে পড়াশোনা টড়াশোনা করে যে কোন লাভই নেই সেটা ইয়াং জেনারেশন জেনে গেছে কারণ বাজারে এখন চাকরি বিক্রি হয়। পকেটের জোর না থাকলে চাকরিবাকরি হবে না। বিদ্যা, মেধা সব ফালতু। তাই স্যাটা কালুদের চারপাশে এখন ভীষণ ভিড়। হাওয়ায় পয়সা উড়ছে।”
একটানা বেশ কিছুক্ষণ বলে গদাই একদম চুপ করে গেল। আমরা সবাই চুপচাপ বসে আছি। হঠাৎ গদাই “ও হ্যাঁ” বলে উঠতেই আমরা বেশ চমকে গেলাম। “আমার একটা প্রশ্ন আছে। বন্ধু তোরা প্লিজ আমাকে উত্তরটা দে। আমি তিনদিন ধরে ব্যাপক ঘেঁটে আছি। আরে সামনের সপ্তাহে মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে এবারের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের কী সব পুরস্কার-টুরস্কার দেবে। সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণপত্র নিয়ে মিউনিসিপ্যালিটির লোকজন আমার ভাঙা বাড়িতে হাজির। আমি কার্ডটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে বেশ কিছুক্ষণ দেখে বলে দিলাম ‘যাব না’। ওরা তো অবাক। ‘কেন দাদা, কেন, যাবেন না কেন?’ আমাকে এমন প্রশ্ন করে জ্বালাতে লাগল যে ওদের মুখের উপরে বলেই দিলাম, ‘দ্যাখো যে ব্যাটার সম্বন্ধে ক্লাস ফাইভ থেকে চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই শুনেছি তার সঙ্গে আলোকিত একই মঞ্চে বসে, বক্তৃতার শুরুতে সেই স্যাটা কালুকে মাননীয় প্রধান অতিথি সত্যেন্দ্রনাথ হালদার মহাশয় বলতে পারবো না বাপু। তোমরা বলছো বলো। আজকাল এদেরকেই তোমরা সম্মাননীয়, মাননীয় অনেক কিছুই বলছো। আমার তো বইটই পড়ার বদভ্যাস আছে। বাঙালি পঞ্চাশ বছর আগে কাদেরকে মঞ্চে উঠাতো, কাদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করতো সে সব তো আমি বইটইয়ে পড়ি। আমি ভাই যাকে তাকে সম্মান জানাতে পারবো না। মাঝখানে ওই অনুষ্ঠানে ক্যাঁচাল শুরু হয়ে যাবে। তার চেয়ে আমাকে রেহাই দাও। ওরা বেশ কিছুক্ষণ অনুরোধ টনুরোধ করে, শেষে বেশ চমকে দিয়ে চলে গেল। এখন তোরা বল আমি ঠিক করেছি না ভুল করেছি? ওইসব স্যাটা কালুর সঙ্গে এক মঞ্চে বসবো, ওকে সত্যেন্দ্রনাথ বাবু বলবো। ইমপসিবল।”
আমরা আর কীই বা বলি। এই দুরন্ত প্রতিভাবান আর সেরকম জেদি একরোখা মানুষটাকে আমাদের শেখানোর মতো কীই বা আছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে সেদিনের মতো আড্ডা শেষ হয়েছিল। তারপর থেকে রাস্তায় খুব আতঙ্কে থাকি। এই বুঝি গদাইএর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। ওকে যে কী উত্তর দেই, আপনারা একটু সাহায্য করুন না। আমাকে বা গদাইকে।