• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | কবিতা
    Share
  • তিনটি কবিতা: এই একমাস; সুজাতা তোমার চোখে; উজ্জ্বল দিনগুলি : সুজিত বসু



    এই একমাস

    এই একমাস আমি কোনো ওয়েব সিরিজ দেখবো না
    আমাজন হটস্টার বা সোনি লিভের ডাকে সাড়া দেবো না
    এমন কি হইচইয়ের বাংলা ছবির নেশা থেকে দূরে থাকবো
    এই একমাস আমি ফিরে যাবো নিজস্ব রূপকথার দেশে
    যখন শিল্পার শাড়ির আঁচলে খসে পড়তো তারার জোনাকি
    কিংবা তার অনাবৃত নাভিতে ঘামের মুক্তোবিন্দু ছড়াতো কুহক
    অথবা সূর্যাস্তে তার মুখে আলোর ফুলঝুরি
    বর্ষার দিনে তার চুলে পুঞ্জ মেঘ চেনা পৃথিবীকে বদলে দিত স্বপ্নের দেশে
    অন্য সিনেমা নয় শুধু সত্যজিতের ছবিগুলি দেখবো এই একমাস
    দেখবো প্রতিদ্বন্দ্বীতে ধৃতিমানের দেশলাই কাঠির শিখায়
    জয়শ্রীর মুখে রূপসী আলো আঁধারি
    আবার ওই ছবিতেই নার্স মেয়েটির সিগারেট থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী
    যা সত্যজিৎ নেগেটিভে ধরেছিলেন
    এই দুই দৃশ্যের পর যদি মনে হয় আর কিছু দেখার থাকতে পারে না
    তখন দেখবো অরণ্যের দিনরাত্রিতে সিমির সাঁওতালি কালো শরীরে পিছলে যাওয়া আলোর জ্যোৎস্না
    জীবনে আবার মোহাবিষ্ট হবো, ঘানি টেনে যেতে পারবো আরো বেশ কিছুদিন
    বারবার দেখতে ইচ্ছে হবে সীমাবদ্ধ ছবির শেষে নায়কের সিঁড়ি ভেঙে ওঠা
    যখনই মনে হবে জীবনে ব্যর্থতার কথা তখনই ওই দৃশ্য মনে পড়াবে এই তো বেশ আছি
    আরোহণের অসহনীয় ক্লান্তি থেকে তো নিজেকে দূরে সরাতে পেরেছি
    এছাড়াও এই একমাস আমি নদীর কাছে যাবো
    নদী খুব কাছে নয় যদিও তবু যানবাহন তো আছে
    নদীর সঙ্গে আমার আলাপচারিতা তো এখনও শেষ হয় নি
    তবে আর যাই করি কবিতা লেখার যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকবো
    এই একমাস আমি কোনো কবিতা লিংখবো না।


    সুজাতা তোমার চোখে

    সুজাতা আমি তোমার চোখে দেখেছি ঘন ছায়া
    রৌদ্রতাপে তৃষিত বালি যেভাবে খোঁজে জল
    জীবন থেকে অগ্নি জ্বালা লুকোতে খুঁজি মায়া
    তোমার কাছে প্রার্থনাতে পেতেছি করতল

    প্রাচীনকালে জীবন ছিল জলের মতো সোজা
    খাওয়া ঘুমের সুখের সঙ্গে শরীর ঘষে সুখ
    কখন যেন ভাবে মানুষ জীবন কাঁধে বোঝা
    আলাদিনের প্রদীপ পেতে সকলে উন্মুখ

    প্রদীপ দিল সোনা রুপোর সঙ্গে বহু টাকা
    জলে জাহাজ, উড়োজাহাজ, রঙবাহারি ট্রেন
    ডাঙায় গাড়ি,সুখ রইল অন্ধকারে ঢাকা
    বিকিয়ে গেল ভালোবাসার পুরোনো লেনদেন

    আজ আমরা বর্ম পরি , মুখোশ এঁটে থাকি
    মনভোলানো যন্ত্রে মজি, তাতেই খুঁজি সুখ
    সবাই জানে উধাও হলো নীলকন্ঠ পাখি
    স্বীকার সেটা কেউ করে না, প্রত্যেকে মিথ্যুক

    শরীর মন নাই বা দিলে, চাই না কিছু আর
    যুদ্ধ করে ক্লান্ত আমি, চতুর্দিকে ভয়
    তোমার কাছে আসবো করে সাগর পারাপার
    তোমার চোখে প্রতীক্ষাতে নিবিড় আশ্রয়।


    উজ্জ্বল দিনগুলি

    দুচোখ হতো তখন খুব লোভী
    রঙিন হয়ে যখন হেঁটে যেতে
    আঁকতে যেন ভ্যান গগেরই ছবি
    আকর্ষণ গোপন সংকেতে

    সাহস করে হয় নি যাওয়া কাছে
    পারি নি দিতে ইশারা ডাকে সাড়া
    ভুলি নি কিছু, এখনও মনে আছে
    হিলের সুরে মুখর হতো পাড়া

    তোমাকে ভুলে শরীর নিয়ে খেলা
    অনেক হলো, কি আর তাতে ক্ষতি
    না জেনে তুমি করেছ অবহেলা
    প্রবীণ আমি, তুমি তো সেই যুবতী

    নেই তো তাই প্রেমের যন্ত্রণা
    পুরোনো হতে তুমি দিনের শেষে
    সুখের দিন দশ আঙুলে গোণা
    ক্রমশ মনে ক্ষতই ভালোবেসে

    পড়ি নি আমি, পড়ি নি আর প্রেমে
    বিপথে মন যায় না, রাখি বেঁধে
    তোমার ছবি মন দেওয়ালে ফ্রেমে
    তেমনই, শেষ হয় নি বিচ্ছেদে।



    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)