• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৩ | জানুয়ারি ২০২৪ | গল্প
    Share
  • স্বয়ম্বরা মেঘ : উত্তম বিশ্বাস

    নদী ভাঙছে কুলুকুলু স্বরে। মীনে করা কলসটি ভেসে যাচ্ছে দূরে। বধূটি বসে আছে পোড়ানো পুতুলের মতো। ধূমকেতুর ধোঁয়ার মতো ওর ভ্রুর গড়ন। চোখদুটো আনত পদ্মপাতা। এখন ভরা শীত। জলের ওপরে অল্প অল্প সর। ওটি ভাঙল ঘনা ঘোষের মায়ের বকবকানিতে, “সংসার করবিনে ভাল কথা! কোর্টে চল। লিখে পড়ে দে ল্যাটা চুকে যাক। সংসারের কুটোটি কাটবিনে, অথচ পথ আগলে পড়ে থাকবি, তা কি হয়? ওঠ, নোয়া খোল। সিঁদুরও মুছে দেবো। দেখি তোর কোন বাপ ঠেকায়?”

    মেয়েটি পাহাড়ের ছায়ার মতো একটুখানি সরে দাঁড়াল।

    বেলা বাড়ল। এখন ঘাট ভর্তি লোক। মেয়েরা এমন ভাবে কথা বলছে যেন স্বরভাঙা হাঁস। ব্যাটাছেলেরাও মদের চাপে বেসামাল। শ্মশান থেকে ফিরেছে ওরা। এখন বড় একটা বলসাবান দিয়ে ঘষে ঘষে তোলা হচ্ছে স্বামীখাকির সিঁথির সিঁদুর! সুপুরি-কাটা জাঁতির উল্টো পিঠ দিয়ে বাড়ি মেরে ভেঙে দিচ্ছে শাঁখা পলা।

    বধূটি অদূরে দাঁড়িয়ে থেকে সবটুকু দেখল। তারপর সবাই যখন সাদা শাড়িতে শেষবারের মতো সিঁদুর ছিটিয়ে ঘাট ছেড়ে চলে গেল, তখন সে জোরে জোরে দুইবার শ্বাস ফেলল।

    বধূটি বসে আছে। জল স্থির। জলের তলদেশ আরও স্থির। ঠিক যেন পুরা কালের পাষাণের মতো।

    পচা কচুরিপানার দামের ওপরে মাচা বেঁধে বসে আছে রথিন বৈরাগী। হাতে সরু কঞ্চির ছিপ। খুঁটিতে ঝুলছে একখানি খারো। হাওয়ায় বাড়ি খেয়ে খারোখানা উত্তর থেকে দক্ষিণে অনবরত দুলছে। মাছেরা এখনো অব্দি রথিনের বঁড়শিতে ঠোক মারেনি। কিন্তু রথিনের ধৈর্য অসীম। মাছেরা ওর বঁড়শিতে যতক্ষণ না ঠোক দিচ্ছে, সে বসেই থাকবে। এমন সময় হাহা করে ধেয়ে এল মোহর — রথিনের বউ। এক ঝাঁক হাঁস ছুড়ে দিল জলে। রথিন সেদিকে ফিরেও তাকাল না। মোহর খারোতে খোঁচা দিয়ে জল ঘুলিয়ে সোডা মাখানো কাপড়ে বাড়ি দিয়ে দশ দিগন্ত তাতিয়ে তুলল, “ঘর জ্বালানি পর ভুলানি ব্যাটাছেলে! জীবনটাই নষ্ট করে দিল!”

    হিরণ্ময়ীর মা কাঁসার গেলাসে তেঁতুল থেঁতো করতে করতে মোহরের কথা শুনে হেসে উঠল, “ঘরের কালি ঘাটে এসে ভাসিও না। তাতে করে লোক হাসবে!”

    “হাসুক। আর কত সইব কাকি? সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীও শীতের দিনে ঘরে এসে কোলের মানুষের তাপ নেয়! কোন আবাগী যে মোহনভোগ বেঁধে রেখেছে মাচার নিচে জানিনে!” বুকজলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মোহর অনেক গালি দিল। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল আস্ত একটা দিন। কিন্তু না, রথিনকে নাড়ানো গেল না।

    বধূটি কথা বলল না। শুধুমাত্র আলতা রাঙা পায়ের পাতা দুখানি জলের মধ্যে ডুবিয়ে দোলাতে লাগল। হাঁসেরা এসে ওর পায়ের নূপুর থেকে বলগুলো ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে ছিঁড়তে লাগল, “ও বউ তুমি ফেসবুক করো না? এই বউ, তুমি টিকটক বানাও না? সাঁতার জানো? এসো আমাদের নিয়ে একটা রিল বানাও!”

    নদীর দুইধারে সারে সারে সর্ষে ফুলের ক্ষেত। খেজুর গাছে দড়ি বেঁধে ঝুলছে সুহাস শিউলি। সুহাসের ছায়া পড়েছে জলে। যেখানটাতে বধূটি বসে আছে ওইখানে এসে দুলছে ওর আদুল অঙ্গ! নলি বেয়ে একটা একটা করে ফোঁটা পড়ছে ওর ঊরুতে। সে রসের রঙ বধূটির নাকছাবির পুঁতির মতো গাঢ় লাল! খালি খারো নিয়ে রথিন বাড়ির পথে যেতে যেতে বধূটির মুখের দিকে একবার তাকাল। কিন্তু বধূটির অভিসার এখন জলের গভীরে… সুহাসের ছায়ার দিকে!

    দেখতে দেখতে শীত জাঁকিয়ে পড়ল। বজরা বোঝাই করে লোক নামল। এল ধুনুরি। এল শীতের র‍্যাপার ওয়ালা। কিন্তু এ কী! ধুনুরিতে টংকার উঠবার আগেই উড়ে এল বস্তা বস্তা টাকা! এল ইডি। এল মিডিয়া। সিবিআইএর চোখেমুখেও সর্ষে ফুলের ঝাঁঝ! সবাই সমস্বরে বললছে, “সব পাঁচশো টাকার বান্ডিল! সব পাঁচশো টাকার বান্ডিল! ওহে ধুনুরি, পেটাও পেটাও!”

    এবার ধুনুরি তার সাধনা ভুলে -- রুটিরুজির শিল্প ভুলে বস্তা বস্তা টাকার বান্ডিলে বাড়ি মারতে লাগল। এখন একটা শেষ হতেই আরেকটা গাঁট খুলে যাচ্ছে। টাকার মধ্যে বাসা বেঁধে থাকা পোকারাও হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি। ধুলোর সাথে উড়ছে ছেঁড়া ফাটা নোট।

    এখন মুহুর্মুহু জিজ্ঞাসা, “জালফাল কিছু আছে নাকি?”

    “আরে না না। সব অরিজিনাল কারেন্সি। জাল কেন হবে?”

    গুনতে গুনতে দিন ফুরোল। গুনতে গুনতে রাত ফুরোল। এখন ঘাটের একপাশে ঘস ঘস শব্দ। অন্যপাশে স্যাকরার ঠুকঠাক। এল ঘড়া ঘড়া মোহর! কুমোর পাড়ার কলসি করে এল কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা! সব ঘষে ঘষে ফর্সা করতে হবে? খবর পেয়ে ছুটে এল দশ দেশের মানুষ। এল রুক্ষ চুল আর ভুখা পেটের কাণ্ডারী। ওদের মুখের দিকে তাকালে মনে হবে কতকাল হল এরা টাকার মুখ দেখেনি। অধিকাংশের চোখেমুখে এমন বিমূঢ় ছাপ যেন মনসার ভাসান দেখতে আসা দর্শক। ওদের মধ্যে কেউ কেউ হাঁ করে টাকা গোনার আজব মেশিনগুলো দেখল। কেউ মৃগী রুগীর মতো মোচড় দিয়ে বলে উঠল, “এত গাদা গুচ্চার সোনা কার আড়তে ছিল গো?”

    কেউ বলল, “ওহে, ও কুবের দিদিকে বলো!”

    কেউ বলল, “এ তো রীতিমতো ধুরন্ধর ইঁদুর! এত ইঁদুরের উৎপত্তি হল কোত্থেকে?”

    সোনা কেটে কেটে করাতের দাঁত ক্ষয়ে গেল। মিডিয়ার মাথা ভোঁতা হয়ে গেল। স্যাকরার চোখেও হল ন্যাবা!

    সরকার বাড়ি থেকে গাড়ি ভর্তি পুলিশ এল। মুটেদের জন্যে এল মুড়ি আর ছাতুর সরবত। সাঁজোয়া গাড়িতে এল সুদর্শন সিভিক। ওদের হাতে মিহিদানা আর ঝুড়ি ভর্তি মোবাইল।

    উঠতি বয়েসের মেয়েরা এসে আবদার করল, “নতুন নোটগুলো আমাদের দাও। মালা গাঁথব।”

    ছেলেছোকরার দলের মধ্যে থেকে দাবি উঠল, “টাকাগুলো আমাদের চাই। আইপিএলএর বেটিং বড্ড বসে যাচ্ছে!”

    বয়স্করা চড় দেখাল। মেয়েরা মোবাইল আর মোহনভোগ পেয়ে সরে দাঁড়াল। সাধুসন্ত বাউণ্ডুলে গোছের দুয়েকটা ছেলে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বভার তুলে নিল। অবশেষে টাকা গোনা শেষ হল।

    জাহাজগুলো অল্প একটু ভেসে আছে। একজন আধিকারিক বলল, “বাকি টাকা অন্য ক্ষেপে পাঠাও। সবার মনে একটাই আতঙ্ক, “টাকার ভারে যদি জাহাজখানা ডুবে যায়?”

    অন্যজনে অভয় দিল, “নোনা জলে কিচ্ছু হবে না!”

    বজরাগুলোতে বোঝাই হচ্ছে মুলি বাঁশের বাঁশি। কারা বাজাবে এত বাঁশি? এ কথা কেউ জানে না। বুড়োগুলো তখনো ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ওদের বুক থেকে উত্থিত হচ্ছিল হাপরের ধ্বনি! আর ওদের গায়ের চাদরগুলো এমনভাবে উড়ছিল, যেন সাইবেরিনা সারস!

    এখন শুটিং শুরু হচ্ছে। নতুন সিরিয়াল। ডিরেক্টর পার্ট বোঝাচ্ছেন, “এই যে ঘর এই যে খাট বিছানা আসবাব আলমারি সবই থার্মোকলের। অতএব স্টেপ নিতে হবে মেপে!”

    “একটু চাপ লাগলেই ভেঙে যাবে তো?”

    “ভাঙবে কেন? মাথায় রাখতে হবে এটা লিভ-ইনের স্ট্রাকচার। এখানে অ্যাডজাস্টমেন্টটাই আসল। যতক্ষণ রিল চলবে সবকিছুর সাথে আলগোছে রিলেশন রাখতে হবে!”

    উঠতি হেরোইন আইশ্যাডো নিতে নিতে অল্প একটু জিজ্ঞাসা করল, “তাহলে সামাজিকতা বলে কিছুই কি আর থাকবে না?”

    “আলবত থাকবে। নইলে বাজার বেঁকে বসবে যে! কাঁড়ি কাঁড়ি ফুল মালা শাড়ি জুয়েলারি এগুলোও অল্প অল্প করে অডিয়েন্সের মাথায় গেঁথে দিতে হবে।”

    “যেমন?”

    “এই যেমন মনে করো প্রথম দু হপ্তা কেবল বিয়ের দৃশ্য হবে। তার পর থেকে শুরু হবে পাল্টাপাল্টির খেলা। যাদের বর পছন্দ হয়নি তারা বর নেবে। যাদের বউ মনের মতো নয় তারাও বউ পাবে। তবে হ্যাঁ, এর মধ্যে অবশই কৌন্সিলর এমএলএ এমপি চিত্রপরিচালক স্কুল শিক্ষক সকলকেই ইনপুট করতে হবে। নইলে ব্রডকাস্টিংএ বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে!”

    যে পাশে সিরিয়াল হচ্ছে ঠিক তার উল্টোদিকে খেউর করতে বসেছে সরকার বাড়ির লোকজন। নীহার নাপিত বসেছে গাদাগুচ্চার ক্ষুর নিয়ে। মেয়েরা নখ খুঁটিয়ে গোড়ালি ঘষে জলে ডুব দিচ্ছে। আর ছেলেরা আবক্ষ কামিয়ে কানে চুন দিয়ে নতুন পোশাক পরছে। হঠাৎ ওদের বাড়ির হিরণ্ময়ী চেঁচিয়ে উঠল, “এ বর আমার না!”

    বড় বাড়ির মা ছুটে এল। বলল, “তাই তো এই ছেলে আমি পেটে ধরিনি। এ ছেলে আমার না!”

    কাপড় কাচতে কাচতে অনেকেই মড়াকান্না জুড়ে দিল, “আমার কাপড়ে এত দাগছোপ এল কোত্থেকে? আমি তো ওর সাথে এক রাতও শুইনি!”

    পুরুষেরা মস্তক মুড়িয়ে গোঁফ উড়িয়ে কেউ গেল ভুল পথে। মেয়েরা নখ খুঁটিয়ে কেউ কেউ নদীর পাড় ধরে ধাঁ করে ছুটল তো ছুটল… আর এল না!

    সবাই হাঁকাহাঁকি করল, “ওরে কে কোথায় আছিস? পঞ্চায়েতে খবর দে। পৌরসভায় খবর দে। মাইকে ঘোষণা কর আমাদের লোক হারিয়ে গেছে!”

    অবশেষে মাইক এল। পৃথিবী শুদ্ধ হয়েছে এই মর্মে এখন ঘন ঘন ঘোষণা হচ্ছে, “আপনারা যে যেখানে আছেন ফিরে আসুন। প্রকৃতির বিরুদ্ধে কেউ যাবেন না। দোহাই আপনাদের। এমন সাধের ঘর সংসার রসাতলে যাবে! ভয় নেই। নতুন করে ভূমি- ও কন্যাদানের মধ্য দিয়ে আপনাদেরকে বরণ করে নেওয়া হবে!”

    পৌরসভার পক্ষ থেকে বিলি করা হচ্ছে লিফলেট। ড্রোনে করে ছেটানো হচ্ছে গোবরজল। কেউ কেউ ছড়িয়ে রাখছে পারিজাতের কুচি। নদীর দুই পারে বাঁধা হয়েছে বাহারি ম্যারাপ। এখন একটু পরে পরেই হুইসেল বেজে উঠছে। বুড়ি ও শিশুরা পথের দুইধারে আঁকছে আতপ চালের আলপনা। আকাশপথে দলা পাকিয়ে উড়ছে সোনালী ধুলো। কে যেন বলে গেল, “শুনতে পাচ্ছ সপ্তরথীর হুঙ্কার?”

    “রথ কী গো? ও তো উড়ন্ত মারসিডিস!”

    “আর ওই দিগন্তের ওই ওপার থেকে উঁকি দিচ্ছে শানিত সব তরবারি -- ওগুলো?”

    “নামফলক। ভালো করে চেয়ে দেখো। ওদের প্রত্যেকের আগার কাছটায় মনে হচ্ছে একটুখানি রক্ত মাখানো।”

    নদী আর নক্ষত্র মিলে এখন একাকার! সেজে উঠেছে বিরাট স্বয়ম্বর সভা! আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বরমালা নিতে ছুটে আসবে পৃথিবীর তাবড় পরাক্রমশালী পুরুষের দল!

    চাঁদের নিচে ঝিকমিক করে উঠল চাঁদোয়া! মেয়েদের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে গেল, “ওরে ও হিরণ্ময়ী, কোথায় আছিস মালা গাঁথ!”

    হিরণ্ময়ীর দেখাদেখি আরও অনেকেই মালা গাঁথতে বসল। বধূবেশে সেজে উঠল বাজার দোকান বাড়ি। কিন্তু ওরা কাকে দেবে মালা? কে যেন হিরণ্ময়ীদের হুঁশিয়ার করে গেল, “এত উতলা হবার কিছু নেই। যেসব আসছে সব ভুষিমাল! অতএব সাবধান!”

    মেয়েদের হাত থেকে ফুল খসে পড়ল। কারও কারও নখের মধ্যে সুচ গেল বিঁধে!

    “সবই ভুষিমাল? একটাও কি ওরিজিনাল নেই?”

    “আছে আছে। কোনটা কোহিনূর আর কোনটা কাঁকর চোখকে বাজি রেখে বেছেখুঁটে নিতে হবে। আর এই কাজটি যে নিখুঁতভাবে করতে পারবে সেই হবে সত্য স্বয়ম্বরা!”

    মেয়েরা কাজল মুছে কাজল পরল। বেনারসির বাক্সে এল বাইনোকুলার। কারও কারও আবদার মেনে আতরদানির পাশে রাখা হল আতসকাচ।

    “কিন্তু কই ভুয়োদের তো আলাদা করে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না? এখন উপায়?”

    “বধূটির কাছে চলো। ওই নিক তবে মালা পরানোর ভার।

    সবাই ছুটল বধূটির কাছে। কিন্তু সে কোথায়? কেউ কেউ অনুমানের ওপর নিক্তি রেখে বলল, “ওই তো আলেখ্য না কে যেন বলছিল, বেচারা এইসময় অঙ্গরাগ করতে নামে দিকচক্রবালের ঘাটে।”

    এখন স্রোতের ওপর দিয়ে তিরতির করে বইছে ন হন্যতের নহবত! কিন্তু বধূটি কোথায়? সে আর আসবে না? অন্ধকার গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে উঠল। আকাশের এক কোণে উঠল চিরচেনা একটি তারা। কিন্তু যার জন্যে এত অপেক্ষা সে উঠল না!

    এখন হাওয়ায় বেজে বেজে ওঠছে বিরহিণী বেহাগ, “সে আর আসবে না?”

    কলস্বরা নদীর কানে কানে কে যেন অস্ফুটে বলে গেল, “সে তো মেঘ! এই মাত্র মুছে গেল! এমন মেঘ মহাকালে একবারই আসে!”



    অলংকরণ (Artwork) : রাহুল মজুমদার
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)