• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৩ | জানুয়ারি ২০২৪ | রম্যরচনা
    Share
  • ছোট বড়ো : সমরেন্দ্র নারায়ণ রায়

    — বাবা! বাবা!

    — কি রে ছোটন, কি হলো? পেয়ে গেছিস?

    — পেয়েছি বাবা, শুক্কুর বারের মধ্যে টাকা জমা দিতে বলেছে। তবে, বাবা...

    — আবার কি? দু'জনে যাবো।

    — তা নয় বাবা। কাউন্টারের ভদ্রলোক আমাকে ভেতরে পাঠালেন, সেখানে আরেকজন ভদ্রলোক বললেন আরো পাঁচ হাজার নিয়ে যেতে। আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে উনি সেটা দোতলার অফিসে পৌঁছে দেবেন।

    — সে কি রে! আবার সেই ঘুষ! সব্বনেশে কথা! কি হবে এখন? একটু ভেবে দেখি।

    — সব তো বুঝলাম, তা অসুবিধেটা কোথায়?

    — কেন, ওই ঘুষের বাড়তি টাকাটা? মনে হচ্ছে ওটা না দিলে হবে না।

    — এবার বুঝেছো কেন গত বছর খোকনের ইঞ্জিনিয়ারিং এর পেছনে বটঠাকুরের দরুণ সেই টাকাটা তোমায় নষ্ট করতে দিইনি? এবার ছোটনের কাজে লাগিয়ে দাও ওটা।

    — কি বলছো ছোটবৌ, দাদা আলাদা করে খোকনের কলেজের জন্য ওটা আমার হাতে...

    — তা কলেজেই তো দিচ্ছো বাপু, খোকনের না হয় ছোটনের।

    — গত বছর যখন বোঝা গেলো বৌদি ব্যাপারটা জানে না, তখনই তুমি খোকনের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ঢোকাটা আটকালে। তাই আমি ঠিক করলাম ওকে ডাক্তারি পড়াবোই। এখন আবার তুমি এ সব কি বলছো ছোটবৌ?

    — এই চুপ, খোকন এদিকে আসছে।

    — কাকু তোমরা ছোটনের সুখবরটা পেয়েছো তো? দারুণ, তাই না? আর কাকু, মা বলছিলো এক মিনিট আসতে পারবে?

    — দিদি কি ছাদে না কি রে খোকন?

    — না খুড়ীমা, এই ঘরে নামলো।

    — শোন খোকন, তোকে আবার বলছি, ডাক্তার তোকে হতেই হবে, বুঝলি?

    — এসো ঠাকুরপো, আয় রে ছোট। বোস।

    — ডেকেছো বৌদি? কি ব্যাপার গো?

    — ঠাকুরপো তোমার মনে আছে গত বছর খোকনের ইংরিজি কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়ে তুমি বলেছিলে উনি নাকি তোমার কাছে কিছু রেখে গেছেন ঐ কলেজেরই ব্যাপারে?

    — আঃ বৌদি ইংরিজি কলেজ নয় ওটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। হ্যাঁ দাদা তো রেখে গেছেই। কিন্ত খোকনের সেই কলেজটা আরো অনেক বেশী চাইছিলো যে! তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি। তা তুমি ভেবো না...

    — না রে বাপু ভাবছি না কিছুই, ওই ছোটনটার কলেজে চাকরি পাওয়ার সুখবরটা খোকনের মুখে শুনে আমার মনে হলো...

    — চাকরি নয় গো বৌদি, পড়বার অ্যাডমিশন।

    — বুঝলাম, তা তুমি একটু দেখো না, ওটা দিয়ে যদি আমাদের ছোটনের কাজটা হয়ে যায়? আরো শ' চারেক আমার কাছে জমেছে, যদি দরকার হয়? বাড়ির ছেলেগুলোর তো কিছু একটা হিল্লে হওয়া দরকার? আর ঐ ঘুষ টুষ বলে তুমি রাগারাগি কোরোনা বাপু, গোরাদের আমলে বাপ দাদারা অমন অনেক ঘরে এনেছে, তখন ওকে বলতো উপরি।

    ৺কিশোরীলাল চট্টখণ্ডীর কনিষ্ঠ বনোয়ারীলালের সহধর্মিণী মুখে কাপড় গুঁজিয়া ঘর হইতে চলিয়া যাইতেছিলেন, চৌকাঠে হোঁচট খাইয়া পড়িয়া গেলেন। কপালের একাংশ কাটিয়া গেলো।



    অলংকরণ (Artwork) : রাহুল মজুমদার
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)