• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯১ | জুলাই ২০২৩ | গ্রন্থ-সমালোচনা
    Share
  • গ্রন্থ-সমালোচনা : ভবভূতি ভট্টাচার্য

    || ইতিহাস গ্রন্থমালিকার এক উজ্জ্বল মুক্তো ||

    জাল রাজার কথা: বর্ধমানের প্রতাপচাঁদ—গৌতম ভদ্র; আনন্দ পাবলিশার্সের ‘ইতিহাস গ্রন্থমালা’-র অষ্টম গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশ: ২০০২; ISBN 81-7756-290-8
    (ক)

    আকবর বাদশাহ্‌ তাঁর পুত্র সেলিম জাহাঙ্গীরের চাইতে পৌত্র খশরু মীর্জাকে মোগল সিংহাসনের জন্য অধিকতর উপযুক্ত বলে মনে করতেন ও সেইরূপে গড়ে তোলেন নাতিকে। কিন্তু সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে হেরে গিয়ে খশরু বেচারি আধা-অন্ধ অবস্থায় আগ্রাদুর্গে বন্দী হয়ে পড়লেন।

    এর বছর তিনেক পরে ১৬১০খ্রি নাগাদ পাটনা শহরে এক সন্ত্‌পীরের আবির্ভাব হয় যিনিই নাকি ছিলেন জেলপালানো যুবরাজ খশরু! এই ঘোষণা করে সে ব্যক্তি কিছু আঞ্চলিক জমিদারকে বশ করে ফেলে ও তাদের সৈন্যবলে পাটনার শাহী খাজানার দখল নিয়ে বসে। পরে অবশ্য সে ধরা পড়ে যায় ও মৃত্যুদণ্ড পায়।

    অনেকে তাঁর আসল নাম সুলতান বুলাকি বলেছেন, যে নাকি এর এক দশক পরে ইরানের রাজসভায় উপস্থিত হয়ে নিজেকে আবার যুবরাজ খশরু বলে পরিচয় দিয়েছিল।

    গপ্পের পরে গপ্পো… গপ্পের আর শেষ নেই!

    (গ)

    এই ঘটনার তিনশ’ বছর পরে ঢাকার সন্নিকটে এক ছাইভস্মমাখা সন্নেসীর উদয় হয় (১৯২০ খ্রি) যিনি নিজেকে ভাওয়ালের মেজকুমার বলে দাবি করেন, যদিও মেজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায় তার পনের বছর আগেই দার্জিলিঙে হাওয়া বদল করতে গিয়ে মারা যান বলে সকলে জানতো! তাহলে এই সন্নেসী কি ঠগ? না, এই বিতর্ক সহজে খতম হয়নি। এ’কালেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ইতিহাসবেত্তা ভাওয়াল সন্ন্যেসীর কেস নিয়ে প্রামাণ্য পুস্তক লেখেন; তার আগে উত্তমকুমার তো সন্ন্যাসী রাজা সেজে মাত করে দিয়ে গিয়েছিলেন!

    (খ)

    উপরের ক ও গ এর মাঝে সময়ের নিরিখে একটা আছে, যা নিয়েই আমাদের আজকের পুস্তক-পরিচয়। বুলাকি বা ভাওয়ালের মতো বর্ধমান শহরেও এক উটকো সন্নেসীর উদয় হয়েছিল সন ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে, যাঁকে নাকি প্রজারা ১৩ বৎসর পূর্বে মৃত বর্ধমান রাজসিংহাসনের প্রধান দাবীদার রাজকুমার প্রতাপচাঁদ বলে চিনে ফেলে এবং জয়ধ্বনি করে ওঠে। কিন্তু ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের ৩রা জানুয়ারি তো কালনা রাজপ্রাসাদে প্রতাপচাঁদের মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল এবং গঙ্গার ঘাটে সেই প্রচণ্ড শীতের রাতে তাঁকে দাহ করে পাঞ্জাবী ক্ষেত্রী মতে তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়াদিও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।

    না হে বাপু না। এতো সহজ ছিল না অঙ্কটা।

    নৈলে গৌতম ভদ্রের মতো ঐতিহাসিককে এ’ নিয়ে কলম ধরতে হয়? আনন্দ পাবলিশার্সের প্রখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থমালা সিরিজের অষ্টম গ্রন্থ এ’টি; সিরিজটির প্রধান সম্পাদক ছিলেন সদ্যপ্রয়াত প্রবাদপ্রতিম রণজিৎ গুহ মহোদয়।

    ***

    সলজ্জ স্বীকার, এ’ যদি স্যরের নিম্নবর্গের ইতিহাসের কোনো বই হতো তো তার গ্রন্থ-সমালোচনা লেখবার সাহস করতে পারতাম না। কিন্তু বর্তমান কেতাবটিতে যদিও ‘ঐতিহাসিক ও তার ইতিহাস’ বা, ‘বাঙালির জমিদার-ভাবনা’ ইত্যাদির মতো গুরুগম্ভীর অধ্যায় রয়েছে, শেষ বিচারে, এটি কিন্তু একটি পপুলার হিস্ট্রি বই, লেখার গুণে যার গতি কোনো ক্রাইম থ্রিলারের চাইতে কম নয়। অতি সুখপাঠ্য একখানি কেতাব এটি। এবং এই গ্রন্থমালিকার ধারা মেনে সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েই এটি লেখা, যেমন এই সিরিজে রণবীর চক্রবর্তী বা অনিরুদ্ধ রায়ের মতো স্টলওয়ার্ট ঐতিহাসিকগণও অতি চালু ভাষায় কঠিন বিষয়ে লিখেছেন।

    ***

    প্রতাপচাঁদে ফিরে আসি, মানে, আলোচ্য গ্রন্থটিতে।

    প্রতাপচাঁদ-মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল, এবং এতে প্রবাদপ্রতিম ডেভিড হেয়ার থেকে চুঁচুড়ার ডাচ গভর্নর ড্যানিয়েল ওভারবেকের মতো প্রাজ্ঞ মানুষও বিভ্রান্ত হয়ে জাল সন্ন্যাসী অলখ শাহের পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়ে ফেলেছিলেন সরল মনে। থ্রিলারের গতিতে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে সে সব ঘটনাবলী এই বইতে।

    এ’ বইয়ের অতি আকর্ষণীয় অংশ এর ব্লার্ব! এত স্বল্প পরিসরে এমন কথা যে বলে দেওয়া যায় সেটা শিখতে হবে—

    …সেকালে বাঙালির আত্মসমীক্ষার দলিল খুঁজতে নেমে পড়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের মেজদাদা সঞ্জীবচন্দ্র, নামিয়ে দিয়েছিলেন একটি ইতিহাসের বই! সেই বইটির গাঁইগোত্র নিয়েও তকরারের আর শেষ নেই, কারণ প্রতাপচন্দ্রের ফিরে আসার মতো রোমহর্ষক ঘটনা কেউ হাতছাড়া করতে চাননি।

    এই লিখন স্টাইল, এই শব্দের ব্যবহার (বই ‘নামিয়ে দেওয়া’, গাঁইগোত্র, তকরার) স্যর নিজে ছাড়া আর কেউ করতে পারেন না! শুধু সঞ্জীবচন্দ্র নন তাঁর বহু আগে পাঁচালিকার দাশরথি রায় থেকে কালীপ্রসন্ন সিংহ মশাই পর্যন্ত প্রতাপচাঁদের ‘জালত্ব’ (বা, উল্টোটা) নিয়ে কলম ধরেছিলেন।

    সে সব কিচ্ছু পড়িনি। কিন্তু এখানে যা পড়লাম তারই বা তুলনা চট করে পাই কোথা? এখানে চিত্রকর জর্জ চিনারির ছবি দেখে সাক্ষ্য দেবার সাব-চ্যাপ্টারের নাম হয় ‘তুমি কি কেবলই ছবি’ , বা অধ্যায়-শেষের ‘টীকা-ও-তথ্যসূত্রে’ কেবল বইয়ের নাম না দিয়ে বিষয়-ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয় চার্লস মেটকাফের ছাপাখানা-আইনের শিথিলকরণের দৃষ্টান্ত তুলে, বা পর্তুগীজ-ঢঙে তাস খেলার ব্যাখ্যা হয় ‘প্রেমারা’ শব্দটির প্রসঙ্গে।

    যাক্‌ অনেক দীর্ঘ লিখে ফেললাম (এ’বইয়ের শেষের দীর্ঘ ‘গ্রন্থ-তালিকা’র মতো)। শেষে এইটা বলব, বাঙালি মনীষার ধারকবাহকের সংখ্যা কমে আসছে। সেখানে ধ্বজা বা আলোকবর্তিকাকে উঁচু করে ধরবার মতো একজন মানুষের লেখা এই গ্রন্থটিকে মাথায় করে রাখি!


    || সহযাত্রীর কথা! ||

    সহযাত্রীর কথা— রমেশ সেন; সিগনেট প্রেস, কলকাতা-৯; প্রথম প্রকাশ ২০২২; ISBN: 978-93-5425-359-1

    স্বয়ং সত্যজিৎ রায় আঙুল তুলে ঐ যে কি দেখাচ্ছেন আর পুনুদা পাশেই—দীর্ঘ চার দশক জুড়ে যিনি কিনা সত্যজিতের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে বৃত ছিলেন, যে সম্মান তেমন করে আর কারোর আছে কিনা জানি না। কারণ বর্তমান গ্রন্থ-সমালোচক সিনেমালাইনের লোকই নয়, সামান্য বইটই নাড়েচাড়ে মাত্র।

    এইটিই বইটির চমৎকার প্রচ্ছদ!

    এ’দেশে সত্যজিৎ-মৃণাল-তরুণ থেকে অনেক নামীদামি চিত্রপরিচালকই নিজেদের কথা শুনিয়েছেন, বিদেশেও হরেক, কিন্তু ফিল্ম-ইউনিটের ‘জোগাড়ে’ মাত্র—এমন মানুষের জীবনকাহিনী সচরাচর শোনা যায় কি? না। চমৎকার সাক্ষাৎকার নিয়ে তদ্ভিত্তিক এই পুস্তক রচনা করে আমাদের ধন্যবাদার্হ হয়েছেন জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ***

    ১৯৪৬-এ এক ঢাকাই গোঁয়ার কিশোর বাড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে কলকাতায় পালিয়ে এলো ফুটবল খেলবে বলে। অবস্থা বিপাকে সে সারা জীবন টালিগঞ্জের ফিল্মপাড়াতেই অবিচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে রয়ে গেল মূলত সত্যজিৎ রায়ের সহকারী হিসেবে, যদিও ঋত্বিক-মৃণাল-তরুণ-রাজেন প্রমুখ নক্ষত্রদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। আর, সুচিত্রা সেনকে আর কেই বা ‘বৌদি’ বলে ডাকতে পারতো জানি না, পুনু কিন্তু বাল্যসাথী তুতু-র (দিবানাথ সেন) বৌকে ‘বৌদি’ বলেই ডাকত সারাজীবন, যিনি পুনুর ছবি প্রযোজনা করে দেবেন বলে নিজে থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন—যদিও রমেশ সেন (পুনু)-র কোনোদিনই নিজে নিজে ছবি করা হয়নি, আর আমরাও প্রযোজক হিসেবে সুচিত্রা সেনকে পাইনি।

    ***

    পর্দার পিছনে থাকা টেকনিশিয়নদের লেখা প্রায় পাওয়াই যায় না—এটা সত্যি হলেও সৌমেন্দু রায়-অমিয় সান্যাল মশাইরাও বই লিখেছেন—সেটা জাগরীর মুখবন্ধ থেকেই জানলাম—যদিও পড়িনি—কিন্তু এই যেটা পড়লাম তারই বা তুলনা কী? এ’ বইয়ের সূচিপত্রটা দেখেছেন? দেখাতে লোভ হচ্ছে (কিন্তু কপিরাইট ভঙ্গ হবে বলে রুকে গেলুম)—‘গুপী-বাঘার পালা’, ‘উত্তাল দিনরাত্রি’, ‘ফেলুদা এন্ড কোং’, ‘শতরঞ্জের খেলা’ বা ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হলো এর কিছু কিছু অধ্যায়ের শিরোনাম! সদ্য পক্স থেকে উঠে উত্তমকুমার নায়ক-এর শ্যুটিং করতে এসেছেন। সত্যজিৎ চাইলেন উনি এক্কেবারেই মেক আপ না করুন। উত্তম তো অবাক! গালে পক্সের দাগগুলো দেখা যাবে না? সত্যজিৎ বললেন, ‘আমার উপরে ভরসা রাখো। দেখবে, তোমায় খুব ভালো দেখাবে।’

    ভালো দেখিয়েছিল কিনা সেটা তো আমরা দর্শকরা দেখেইছি, কিন্তু পিছনের এই গল্পটা পুনুদা না বলে দিলে জানতে পারতুম কি?

    কিংবা, ধরুন, গুগাবাবা-র গল্প।

    এত বড় বাজেটে ছবি করবার কথা ভাবতে ইতস্তত করছিলেন সত্যজিৎবাবু। কিন্তু শাঁটুলবাবুর আত্মীয়া পূর্ণিমা দত্ত (যিনি কিনা ছিলেন নামী প্রোডিউসার ও ‘প্রিয়া’ সিনেমার মালিক নেপাল দত্তের পুত্রবধূ) নিজের শিশুপুত্রের জন্য এই ছবিটা করাতে চেয়েছিলেন, ঠিক যেমন সত্যজিৎবাবু তাঁর ছেলে বাবুর জন্যেই গুগাবাবার খসড়া করে রেখেছিলেন।

    এখানেই শেষ ভাবছেন? না, আরও আছে।

    ‘শতরঞ্জ’-এর শ্যুটিং পারফেক্ট করতে কী প্রচণ্ড খেটেছিলেন সত্যজিৎ সেটা অনুমান করাই গিয়েছিল, কিন্তু এখানে সাক্ষাৎ পড়লাম। শাল জোগাড় করা থেকে খানদানি মুসলিম পোশাক নির্বাচনে এম এস সত্যু-র ভার্যার সহায়তা থেকে ঐ পিস্তলটা মহারানী গায়ত্রী দেবীর সংগ্রহ থেকে পাওয়া! পড়তে পড়তে শিহরণ জেগে ওঠে না কি, পাঠক? মনে হয়, মাত্র আড়াইশো পৃষ্ঠার মধ্যেই শেষ হয়ে গেল কেন বইটা? আরও বাড়লো না কেন?

    ***

    রমেশ যে সত্যজিৎ ছাড়াও ঋত্বিক-মৃণাল-তরুণের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন—-সে সব গল্প এখানে প্রায় নেইই। আসলে সত্যজিতের প্রখর সূর্যালোকে এমন বিধৌত হয়েছিলেন পুনুবাবু যে অন্যত্র তাকানোর সময়ই পাননি। উনি বেঁচে থাকলে এ’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডের আবদার রাখতাম ওঁর কাছে, কিন্তু এ’বইটাও তিনি দেখে যেতে পারেননি—এ’ দুঃখ রাখবার জায়গা নেই।

    মাথার পিছনে ‘অরা’-ছাড়া সহজসরল মানুষ আত্মজীবনী লিখলে তা যে কী সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে এই বইটি তার প্রমাণ।

    আর একটি বিশেষ কুর্নিশ প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও অনুলেখিকা জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কথা ও কাহিনী বা মাঝখানে-র লেখিকার হাতে না পড়লে এ’গ্রন্থ এতটা সুখপাঠ্য হয়ে উঠতো না বোধহয়।

    দশে দশ পায় এ’ বই।

    আর হ্যাঁ, প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে শেষে যে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও উপযোগী ‘টীকা’ রয়েছে সেগুলি না থাকলে আমাহেন গোলা লোকের পক্ষে অনেক তথ্যের রসগ্রহণ করাই অসম্ভব হয়ে পড়ত।

    পরিশিষ্টে ‘যে সব ছবিতে কাজ করেছেন রমেশ সেন’ থেকে ‘সহায়ক গ্রন্থসূত্র’-র লিস্টিটা বড়ই সহায়ক। খেটে কাজ। এ’বইয়ের সম্পাদকের নাম দেওয়া নেই। তাঁকেও অলক্ষ্যে সাধুবাদ জানাই, যাঁর নাম দেওয়া নেই।

    পুনঃ- এ’বইয়ের প্রথম সংস্করণ চার মাসের মধ্যেই নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকবার কিনতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছি। এ’ তথ্যই বোধহয় বইটি সম্বন্ধে অনেক কথা বলে দেয়।


    || অথচ এ’ পত্রিকা লোক-প্রচারের অন্তরালে! ||

    ‘অথচ’ পত্রিকা— সম্পাদক: মামুন হাসান নির্ঝর; বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন ৭৪২১০১; প্রকাশ: ষোড়শ বর্ষ, জানুয়ারি ২০২৩; ISSN No. নেই

    সম্ভব হলে এ’ শীর্ষনামের পরে তিনটি ক্রন্দনের স্মাইলি দিতুম গো!

    দু’বছর আগে তিরাশি সংখ্যায় বিশ বছর বয়সী এক লক্ষ্মৌভী নওজওয়ান মুন্সী সাজ্জাদ হুসেন (১৮৫৬-১৯১৫ খ্রি.) সাহেবের ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত অওধ পাঞ্চ পত্রিকার কথা আমরা পড়েছিলুম দশকের পর দশক ধরে সারা ভারতবর্ষকে মাতিয়ে দিয়েছিল যা!

    লক্ষ্মৌ নয়, আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই বিগত পনের বছর ধরে একটি বাংলা পত্রিকা বের হচ্ছে কেবলমাত্র প্রবন্ধকে উপজীব্য করে, এবং এক-আধটির বেশি বিজ্ঞাপন না নিয়ে/পেয়ে! এবং, রমরম করে যে চলছে সেটা তার ষোড়শ বর্ষে পদার্পণ থেকেই প্রমাণ—আজকের এই চটজলদি ফেসবুক-হোআ-তে নিমগ্ন প্রজন্মের কাছে এটা এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত! সৃষ্টি যদি শিল্পসুষমামণ্ডিত হয় তার পরাজয় হতে পারে না—এই ঋষিবাক্যটির জয়ধ্বজা ফের উচ্চে তুলে ধরলেন নবীন স্কুলশিক্ষক মামুন সাহেব! কুর্নিশ জানাই তাঁকে।

    ***

    তিন শত পৃষ্ঠার এই নাতিপৃথুলা পত্রিকায় প্রবন্ধ-সংখ্যা ছাব্বিশটি দেখে মনে হলো সম্পাদক মশাই সংখ্যার দিকে জোর দেননি, নৈলে তো বিশ-পঁচিশ বা ত্রিশটি নিবন্ধ থাকতো। এহ বাহ্য! কিন্তু কী সে সব প্রবন্ধের মান ও রেঞ্জ! পুরো সুচিপত্রটিই তুলে দিতে ইচ্ছে করছে এখানে, কিন্তু ততটা না করে কয়েকটি প্রবন্ধের নাম দিইঃ

     বাঙলাদেশে ইতিহাসচর্চা (উমর সাহেবের মতো মহানহস্তী এই বানান লিখেছেন জেনে কুর্নিস করি)

     দ্বারকানাথের বিজ্ঞান প্রযুক্তি … (ওরেঃ বাবা!)

     ভাওয়াল রাজপরিবার…

     দেবেশ রায়ের কর্পোরেট বীক্ষণ

     আহমেদ ছফার কবিতা (যাঁকে সলিমুল্লাহ্‌ সাহেব রবীন্দ্র-নজরুলের সাথে একাসনে বসান!)

    এবং নামে-দামে-ভারে কাটে এমন লেখককুলের মধ্যে প্রাজ্ঞ ও বর্ষীয়ান বদরুদ্দীন উমর-সিরাজুল ইসলাম-সলিমুল্লাহ্‌ খান সাহেবরা যেমন আছেন তেমনি এপারের দেবোত্তম চক্রবর্তী, দোলন ঘোষেরাও আছেন। এপার-ওপার বাংলাভাগ আর না-ই বা করলাম, একূল-ওকূল দুয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এই পত্রিকায়! কুর্নিশ, কুর্নিশ জানাই!

    ***

    সংকলনটির ‘রেঞ্জ’ নিয়ে দু’কথা পরে বলা যাবে এখন, বর্তমানে এর দু’একটি প্রবন্ধ নিয়ে বিশেষ করে না বললেই নয়।

    সংকলনের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধটি নিঃসন্দেহ সলিমুল্লাহ্‌ খান সাহেবের, তাঁর দীর্ঘ দীর্ঘ বক্তৃতার মতো এই নিবন্ধটিও সংকলনের দীর্ঘতম (গুণিজনে বলেন ঠিক সময়ে থামতে জানাটাও একটা বড় আর্ট!)। পলিটিক্সের পঙ্কিল আঙিনা থেকে বিশুদ্ধ সাহিত্য-আঙিনায় পালিয়ে এসেও যে নজরুল কী পরিমাণ কদর্যতার শিকার হয়েছিলেন—তাঁর তেমনি এক উক্তি দিয়ে খানসাহেবের চমৎকার নিবন্ধটির শুরু। অতীব সুখপাঠ্য ও স্বচ্ছন্দগতির নিবন্ধ এটি। সাহিত্যিক ব্যবহারে ‘রক্ত’ না ‘খুন’—-এই শব্দবিতর্ক নিয়ে রবীন্দ্র-নজরুলের পুরাতন ও ক্লিশে বিতর্কটির সূত্র ধরে মহাকবিকে নাকানিচোবানি খাইয়ে দিয়ে যার পরিসমাপ্তি! ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘খুন’ শব্দটি আজ বাংলাভাষায় বহুচল হয়ে পড়েছে কিন্তু বিশেষ্য হিসেবে এই ২০২৩-এও না—এই মান্যসত্য জানবার পরেও এ’নিয়ে এতো দীর্ঘ আলোচনার কী অবকাশ আছে তা অধমের বোধগম্যতার বাহিরে।

    ***

    দেবোত্তম চক্রবর্তীর ‘বাংলার লবণ শিল্প ও রামমোহন’ আরেকটি সুখপাঠ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ। এখানে মোঘল আমলে সমুদ্রসেঁচা লবণচাষের থেকে ব্রিটিশ আমলে এর কী কী পরিবর্তন ঘটে গেল—চমৎকারভাবে সেটির আলোচনা করেও তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে ‘বেইমান’ রাজা রামমোহন এই সূত্রে কতটা কাঠগড়ায় ওঠার যোগ্য সেটা জানিয়ে দিয়েছেন দেবোত্তম। যাঁরা দেবোত্তমের লেখার সঙ্গে পরিচিত নন তাঁদের জন্য লিখি, রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বিবেকানন্দের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু ব্যক্তিত্বগণ কতটা ও কতভাবে ‘ব্রিটিশ দালাল’ ছিলেন ইদানীং সেটা লিখে লিখে নিজের বইয়ের বিক্রি তুমুল বাড়িয়ে নিয়েছেন এই অধ্যাপক দেবোত্তম চক্রবর্তী। ‘রামকৃষ্ণ মিশন’-কে ‘রামকৃমি’ আখ্যা দিয়ে সম্প্রতি রেকট করেছেন ইনি। (‘পরবাস’ পত্রিকার পৃষ্ঠায় এঁর ‘বিদ্যাসাগর’ গ্রন্থটির সমালোচনা বেরিয়েছিল ৮২-তম সংখ্যায়, দুই বছর আগে।

    শ্রীরামপুরবাসিনী সুলেখিকা দোলন ঘোষের ‘স্বর্ণযুগের নায়ক চিত্রণ’ এমন একটি লেখা যা ২৬তম নিবন্ধ হিসেবেও পাঠেচ্ছা জাগিয়ে রাখতে পারে—যেখানেই লেখাটির বিজয়। উত্তম-বসন্ত-সৌমিত্রের অভিনয়শৈলীর এ’হেন নৈর্ব্যক্তিক আলোচনা আগে তেমন পড়েছি বলে হয়ত মনে পড়ে না। শির ঝোঁকাই এ’হেন কলমের সামনে।

    ***

    বিষয়গতভাবে এমন একটি না-অতি-পৃথুলা প্রবন্ধসংকলনের কোনো একটি বিশেষ বিষয়ের উপরে নিবেদিত থাকা উচিত না এই সংকলনটির মতো বহুধাগতির হওয়া উচিত—এটা একটা বিতর্কিত বিষয় বটে।

    ছয় বৎসর আগে ৬৯-তম সংখ্যায় ‘দীপন’ পত্রিকার ‘বাংলা কমিকস’-এর উপরে নিবেদিত অসাধারণ সংখ্যাটির গ্রন্থ-সমালোচনা লিখতে গিয়ে তাঁদের পূর্বতন ‘ইকবাল’, ‘লিমেরিক’, ‘মুসলিম মানস’ বা ‘সত্যপীর’-এর মতো বিষয়ের উপরে নিবেদিত সংখ্যাগুলি পড়তে চেয়ে সেই সম্পাদক-মহাশয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বর্তমান পত্রিকাটির আগামী সংখ্যাটি ‘চট্টগ্রাম’-এর উপরে নিবেদিত হবে জেনে পুলকিত হলেম ও সাগ্রহ অপেক্ষা করতে লাগলেম।

    এই, শোনেন, গ্রন্থ-সমালোচনা অধিক দীর্ঘ হওয়া অনুচিত।


    || তিব্বতের পথে পথে—-শরৎ ও রাজীব ||

    জার্নি টু লাসা এন্ড সেন্ট্রাল টিবেট— শরৎচন্দ্র দাশ; ইংরেজি থেকে অনুবাদ: রাজীবকুমার সাহা; একপর্ণিকা প্রকাশনী, উদয়পুর, ত্রিপুরা, পিন ৭৯৯১০৫; প্রথম প্রকাশ: মে, ২০২৩; ISBN 978-81-957689-4-3

    রবিঠাকুরের জন্মের এক যুগ আগে, সন ১৮৪৯ খ্রি চট্টগ্রামে যখন এক বৈদ্যসন্তানের জন্ম হয়েছিল কেউ ভাবেনি যে তার জন্মস্থান থেকে বহুদূরে সম্পূর্ণ অন্য এক দেশে অন্য এক সংস্কৃতি ও ধর্মের চর্চা তাকে বিখ্যাত করে দেবে। মেধাবী ছাত্র শ্রীশরৎচন্দ্র দাশ শহর কলকেতার প্রেসিডেন্সি কলেজে সিভিল এঞ্জিনিয়রিং পড়তে এলেন। ভূগোল পাঠে তাঁর উৎসাহ ও জ্ঞান দেখে তৎকালীন বঙ্গসরকারের ডিপিআই ক্রফট সাহেব তাকে দার্জিলিঙের এক ইস্কুলের প্রধানশিক্ষক করে পাঠিয়ে দিলেন। লক্ষ্যটা যদিও গভীরতর ছিল।

    ***

    সুদীর্ঘকাল থেকেই মধ্য-এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ‘নিষিদ্ধ দেশ’ তিব্বত একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে ছিল। উত্তরে তার চীনদেশ, উত্তর-পশ্চিম থেকে রুশ সাম্রাজ্য ও দক্ষিণদিক থেকে ব্রিটিশ ভারতবর্ষ শ্যেনদৃষ্টি ফেলে ছিল তিব্বতের দিকে। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে জর্জ বোগলে, টমাস ম্যানিং ও বটানিস্ট জোসেফ হুকারের মতো ইংরেজরা তিব্বত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন, ভ্রমণও করেছেন সেখানে। মেধাবী প্রেসিডেন্সিয়ান শরৎচন্দ্র দার্জিলিঙে বসে বসে সে-সব কেতাব পাঠ করে নিয়ে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছিলেন তাঁর স্বপ্নের দেশ তিব্বতে যাবার জন্যে। এর আগে অবিশ্যি ব্রিটিশ ‘সার্ভে অব্‌ ইন্ডিয়া’-র গুপ্তচর হিসেবে কুমায়ুনী পণ্ডিত নৈন সিংহ্‌ রাওয়াত (১৮৬৬-এ’) ও তাঁর তুতোভাই কিষণ সিংহ্‌ (১৮৭২ খ্রি) লাসা ও তিব্বত ঘুরে এসেছেন ও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পেশ করেছেন।

    শরৎচন্দ্রের ঐ দার্জিলিঙের স্কুলের শিক্ষক লামা উগ্যেন গ্যাৎসো হয়েছিলেন শরতের অগ্রদূত, পরে তাঁকেই সঙ্গী করে উনি ১৮৭৯ ও ১৮৮১তে দুইবার তিব্বত ভ্রমণ করেন। স্বয়ং (ত্রয়োদশ) দলাই লামা লাসা-তে শরতকে সাক্ষাৎকার দেন (আজকের চতুর্দশ দলাইলামা নোবেলজয়ী তেনজিং গ্যাৎসো-র ঠিক পূর্বতন জন)। সংস্কৃত ও তিব্বতী ভাষায় লিখিত প্রাচীন বৌদ্ধশাস্ত্রের যে বিপুল জ্ঞানভাণ্ডার শরৎ সঙ্গে নিয়ে ভারতে ফিরে আসেন তার তুলনা মেলা ভার। তিব্বত ও তার ভাষা-সংস্কৃতিকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছিলেন চট্টগ্রামী বঙ্গসন্তান শরৎচন্দ্র দাশ, যাতে তাঁর তুলনা একমাত্র আলেক্সান্দার শোমা-র সঙ্গে হতে পারে।

    পরে, অবশ্য, যখন কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি শরতের ভ্রমণকাহিনী গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে, এবং তিনি যে আসলে তথ্য ‘চুরি’ করে আনবার জন্যে ব্রিটিশভারত নিয়োজিত এক ‘গুপ্তচর’ মাত্র ছিলেন এইটে জানাজানি হয়ে যায়, তাঁর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তিব্বতের আধুনিকমনস্ক লামা সেঞ্চেন দর্জিচেনের# মতো শরতের তিব্বতী বন্ধুগণকে সরকারি আদেশে বীভৎস মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়।

    সে সব, অবশ্য, ধর্মীয় মৌলবাদিতার প্রকাশ, যেটা যে-কোনো ধর্মের ক্ষেত্রেই সমান।

    (# সেঞ্চেনের দোষ ছিল যে তিনি স্মলপক্সের ভ্যাক্সিন ও প্রিন্টিং প্রেসের মতো যোজনাকে সমর্থন করেছিলেন!)

    ***

    এহ বাহ্য। এ’সব তথ্য প্রায় পুরোটাই আজ পাবলিক ডোমেইনে রয়েছে, যে কেহ চাইলে খুঁজে দেখে পড়ে নিতে পারেন। যেটা সেখানে নেই সেটা হলো এক ত্রিপুরানিবাসী সাহিত্যপ্রেমী বঙ্গসন্তান-কৃত শরৎচন্দ্রের ঐ যুগান্তকারী বইটির বঙ্গানুবাদ, যেটির মূল নাম জার্নি টু লাসা এণ্ড সেন্ট্রাল টিবেট অবিকল রেখে দিয়েছেন রাজীব। নিঃসংকোচ জানাই, এমন সুপ্রযুক্ত-তথা-স্বচ্ছগতি-তথা-মূলানুগ বঙ্গানুবাদ বেশি পড়তে পাওয়া যায় না।

    যেমন, ষষ্ঠ অধ্যায়ে শরৎ লিখেছিলেন, ‘Preceded by Pador carrying his long lance…’ রাজীব তার বঙ্গানুবাদ করলেন, ‘পাদোর তার ইয়া লম্বা বর্শা হাতে এগিয়ে চলেছে…’।

    দীর্ঘ দীর্ঘ ইংরিজি বাক্যকে অনায়াসে বাঙালির উপযুক্ত ছোট ছোট বাক্যে ভেঙে নিয়েছেন অনুবাদক, যে স্বাধীনতাটুকু না নিলে বাংলায় পাঠসুখ বজায় থাকত না।

    অষ্টম অধ্যায়ে শরতের দিনানুগ ডায়েরিকে রাজীব ছোট ছোট সাব-হেডিং দিয়ে দিয়ে পাঠ এগিয়ে নিয়ে যান। তেসরা সেপ্টেম্বরে শরৎ লিখেছিলেন, ‘…it was reported that the Chinese commander of Shigatse flogged several of the Grand Lama’s servants….’ ; রাজীব অনুবাদ করলেন, ‘শিগাৎসের চিনা সেনাপতি মহালামার ক’জন সেবককে চাবকে লাল করে দিয়েছে।’

    ঐ ‘লাল’-টুকু না থাকলে বাঙালি পাঠক চাবকানির তীব্রতাটা বুঝত কি?

    হেঁ হেঁ হেঁ !

    ***

    সাড়ে তিনশত পৃষ্ঠার অতি সু-পরিবেশিত অনুবাদগ্রন্থ এ’টি। চমৎকার ছাপাই-বাঁধাই। মুদ্রণপ্রমাদ চোখে পড়েনি। এ’হেন তন্নিষ্ঠ অনুবাদকর্মের সামনে শির ঝোঁকাই।

    অনুবাদগ্রন্থ ঠিক কী রকম হওয়া উচিত এ’ বই পড়ে শিখতে হবে তা।

    ***

    শরৎচন্দ্র দাশের প্রায় পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে সুদূর হাঙ্গেরি থেকে এক জ্ঞানতাপস প্রায় পায়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন নিষিদ্ধ দেশ তিব্বতের দ্বারপ্রান্তে। লাদাখের বৌদ্ধ মঠে বসে তিনি রচনা করেছিলেন প্রথম তিব্বতী অভিধান (শ্রীরামপুরের কেরী সাহেবের মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত (১৮৩৪) । আধুনিক তিব্বতীবিদ্যার জনক মানা হয় হাঙ্গেরীয় সন্ত্‌ আলেক্সান্দার শোমা দ্য কোরস-কে।

    উদিতসূর্যের দেশ জাপান তাঁকে দ্বিতীয় মহাবোধির সম্মান দিয়েছে!

    মহাপ্রয়াণ ও সমাধি তাঁর আমাদের দার্জিলিং শহরেই, যেখান থেকে শরৎ দাশ তাঁর তিব্বতযাত্রা শুরু করেছিলেন।

    আমাদের বঙ্গসন্তান শরৎচন্দ্র দাশের নামে আজ পর্যন্ত একটা ডাকটিকিটও ছাপা হলো না গো (নৈন সিংহ্ রাওয়াতের নামে হয়েছে)!

    দার্জিলিঙে তাঁর আবাস ‘লাসা ভিলা’ আজ ভগ্নস্তূপ!

    এ’ দুঃখ আমরা রাখব কোথায়?

    (সকৃতজ্ঞ স্বীকারোক্তিঃ ইঙ্গরাজী ই-পত্রিকা scroll.in-এ প্রকাশিত শ্রদ্ধেয় শ্রী পরিমল ভট্টাচার্য মহাশয়ের ‘Meet Sarat Chandra Das: The spy who came in from the cold of Tibet’ (October, 2017) নিবন্ধটি থেকে এই গ্রন্থ-সমালোচনায় বেশ কিছু ইনপুট নেওয়া হয়েছে। )

  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)