• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯০ | এপ্রিল ২০২৩ | কবিতা
    Share
  • দু'টি কবিতা: একটি গাছ ও একখানা চাঁদ; নেশা : আর্যা ভট্টাচার্য




    একটি গাছ ও একখানা চাঁদ

    ‘ও চাঁদ মুখ ফেরাও। তোমার পুরুষ মুখের
    আশ্চর্য কারুকাজ দেখি একবার।’ বলেছিল গাছ।

    সেদিনও আকাশে ছিলে চাঁদ, পাতাঝরা ঋজুরেখ গাছটির শরীর জড়িয়ে।
    গীর্জার ঘন্টাধ্বনি বাতাসে ভাসিয়েছিল প্রেমের খবর।
    রাস্তায় সন্ধের মাতালের ভিড়। একান্তে কোথাও ছিল গোপন অদৃশ্যে, ফুটতে চাওয়া প্রেমের অঙ্কুর।
    যে অঙ্কুর ফুটবে ঠিকই বলেছিল এ কথা কী ঘন্টাধ্বনি, নতুন সঙ্গীত?
    দগ্ধ হয়ে যায় বুঝি! আশঙ্কিত ছিল ঝুঁকে তারাভরা খণ্ড আকাশ।
    সে ক্ষণের সত্য ছিল কলঙ্কের প্রথম সোপান।

    তোমার পুরুষ শোভা, ও চাঁদ আমার কলঙ্কেতে শুদ্ধ সেই দিন।
    আবীর গুলাল হয়ে
    সে কলঙ্ক আদরে লাগালে তুমি ছুঁয়ে দিয়ে গাছের শরীর।
    আঁধারের পটে আঁকা আলোর আবেশ!
    চাঁদ আর মাটি মেখে
    ভেঙে গেল সেই ক্ষণে ঋজুরেখ গাছ;

    সুখের অসহ ছিল ভার।
    শেষের অনতি আগে সে গাছের ইচ্ছেরা তখনও, অন্তিম বাসনায় বলেছিল,
    জেনেছো তো ঠিক-

    ‘মুখ ফেরাও চাঁদ আর একবার!
    তোমার মুখের কারুকাজ, এ চোখে সত্য হয়ে থাক।’


    নেশা

    মধ্যরাত। পাগলা ঘন্টি বেজে ওঠে ছারখার করে দিয়ে নিঃশব্দ আঁধার।
    চোখের পলক খুলে যায় ডাকিনীর। হৃদয় খামচে ধরে। সিম্ফনি বাজায়। বিদ্যুৎ ঝলক, বাজ। দরজা খোলে উল্লাসে নিয়তি।
    ধূপের ধোঁয়ার মতো, গড়ানো লাভার মতো মোহের আশালো দেহ, শরীরকে কব্জা করে। সুযোগসন্ধানী সুখ বিষ ঢালে রক্তস্রোতে।
    কোষের অন্দর ছোঁয়, সেপসিস যেন। পোড়াতে পোড়াতে চলে অভ্যন্তরে করোটির। অস্থির শ্বাস যত বুকের খাঁচায়।
    মুখ গুঁজে পড়ে থাকি পায়ের উপর। কবিতার মতো পা দু’খানি। উরুদ্বয় উদ্দাম সবল। চুলের চামরে মুছি। অর্ধতপ্ত উনানের আঁচ লাগে গায়ে।
    শিহরনে কেঁপে ওঠা গাছ বুকের প্রত্যন্তে
    মাথা তোলে। শিকড় সেঁধিয়ে দেয় একটু একটু করে। আদিম আঠালো এক উৎপন্ন তেষ্টায়।

    তারপর মালাখানা ধুলো ছাইমাখা, আর্তনাদে ভূঁয়ে পড়ে, গড়াগড়ি। ধুলোয় কাদায় ক্লিষ্ট সাধ ও আহ্লাদ। বুক জুড়ে ভারী হয় পরিত্যক্ত সুখের জঞ্জাল।
    নাক ঘষি, মাথা ঠুকি দেওয়ালে পাথরে। জমাট লাভার মতো শক্ত করি মন -তীব্র প্রতিজ্ঞায়।
    যাবো না কখনো তার কাছে, রক্তমাখা খণ্ড হৃদে, অযুত যোজনব্যাপী লবণ যে অবহেলা ভরে মাখিয়েছে।
    জপমালা ঘোরে দিনভর। দিনভর এই একই জপ। আক্রান্ত শরীর যেন বল্মীকের স্তূপে।

    মধ্যরাত। ঘন্টা বেজে ওঠে।
    নেশাদায়ী শয়তানের চোখ খুলে গেলে--কূট হাসিতে বলে, ‘আয়’।


    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)